ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বিবৃতি বিদেশে ধূলিকণারও প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব: আসিফ মাহমুদ দেশে ফিরে বাঁধনের আক্ষেপ ‘আমার টিমের সদস্যরাও আমাকে বর্জন করেছিল’ ইংল্যান্ডে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা, পাকিস্তানকে দুঃসংবাদ দিল আইসিসি আগামী শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ভর্তিতে আসছে বড় পরিবর্তন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানার অভিযোগ ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ট্রাম্প প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড, পদদলিত হয়ে নিহত ৬ শাজাহানপুরে আমরুল ইউনিয়ন যুবদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

বিদেশে ধূলিকণারও প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব: আসিফ মাহমুদ




বিদেশে নিজের কোনো অর্থ, সম্পদ বা বিনিয়োগ দূরের কথা, ধূলিকণাও থাকার প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পাশাপাশি যা শাস্তি দেওয়া হবে, তা মাথা পেতে নেবেন বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দেশের বাইরে কোথাও যদি আমার ১ পয়সা বিনিয়োগ/ব্যাংকে রাখা, ভিলা, জমি তো দূরের কথা একটা ধূলিকণারও প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতি ছেড়ে দেব। আর যা শাস্তি হবে মাথা পেতে নেব।’

বিদেশে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সম্পদের তথ্য বের করার সক্ষমতা সরকারের রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, ‘দেশের বাইরে পলিটিশিয়ান, ব্যবসায়ীদের সম্পত্তি অনেক অনুসন্ধানী সাংবাদিক-সরকার এর আগে বের করেছে। সরকারের এই ক্যাপাসিটি আছে, এইটা কোনো রকেট সাইন্স না।’

নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে কতটা দেউলিয়া হইলে আপনারা এআই দিয়ে বানানো ভুঁইফোঁড় আজকের কণ্ঠের ৭ মাস আগের ফেসবুক পোস্ট কপি-পেস্ট করে অনুসন্ধান করতে পারেন?’

সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘৬ মাসেই বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে, দেশ পরিচালনায় চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে, আপনাদের সন্তানদের প্রকাশ্য দুর্নীতি থেকে চোখ সরাতে নাটক শুরু করেছেন?’

একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ আমলের দমন-পীড়নের সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন রেখে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আপনাদের বিরোধী দলকে দমন-পীড়নের পদ্ধতির সাথে লীগের দমন-পীড়নের পার্থক্য কোথায়?

এর আগে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ, সারাদেশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন এবং বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ। অভিযোগগুলোর মধ্যে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখবে সংস্থাটি।

দুদকে দেওয়া এক আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। তার দুই বোনজামাই ও ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টিও অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। ওই প্রকল্পের বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেন আসিফ মাহমুদ। শুরুতে তিনি যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বিবৃতি

বিদেশে ধূলিকণারও প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব: আসিফ মাহমুদ

আপডেট সময় : এক ঘন্টা আগে

বিদেশে নিজের কোনো অর্থ, সম্পদ বা বিনিয়োগ দূরের কথা, ধূলিকণাও থাকার প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পাশাপাশি যা শাস্তি দেওয়া হবে, তা মাথা পেতে নেবেন বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দেশের বাইরে কোথাও যদি আমার ১ পয়সা বিনিয়োগ/ব্যাংকে রাখা, ভিলা, জমি তো দূরের কথা একটা ধূলিকণারও প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতি ছেড়ে দেব। আর যা শাস্তি হবে মাথা পেতে নেব।’

বিদেশে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সম্পদের তথ্য বের করার সক্ষমতা সরকারের রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, ‘দেশের বাইরে পলিটিশিয়ান, ব্যবসায়ীদের সম্পত্তি অনেক অনুসন্ধানী সাংবাদিক-সরকার এর আগে বের করেছে। সরকারের এই ক্যাপাসিটি আছে, এইটা কোনো রকেট সাইন্স না।’

নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে কতটা দেউলিয়া হইলে আপনারা এআই দিয়ে বানানো ভুঁইফোঁড় আজকের কণ্ঠের ৭ মাস আগের ফেসবুক পোস্ট কপি-পেস্ট করে অনুসন্ধান করতে পারেন?’

সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘৬ মাসেই বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে, দেশ পরিচালনায় চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে, আপনাদের সন্তানদের প্রকাশ্য দুর্নীতি থেকে চোখ সরাতে নাটক শুরু করেছেন?’

একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ আমলের দমন-পীড়নের সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন রেখে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আপনাদের বিরোধী দলকে দমন-পীড়নের পদ্ধতির সাথে লীগের দমন-পীড়নের পার্থক্য কোথায়?

এর আগে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ, সারাদেশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন এবং বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ। অভিযোগগুলোর মধ্যে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখবে সংস্থাটি।

দুদকে দেওয়া এক আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। তার দুই বোনজামাই ও ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টিও অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। ওই প্রকল্পের বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেন আসিফ মাহমুদ। শুরুতে তিনি যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।