- /
- খুলনা
- /
- মাঠই শ্রেণিকক্ষ, কৃষকরাই শিক্ষার্থী
মাঠই শ্রেণিকক্ষ, কৃষকরাই শিক্ষার্থী
কৃষির মাঠই তাদের শ্রেণিকক্ষ, কৃষক-কৃষাণীরাই শিক্ষার্থী। হাতে বই-খাতা,চোখে মুখে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ। কেউ শিখছেন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের কৌশল, কেউবা পুষ্টি বাগান গড়ে তোলার পদ্ধতি। আবার কেউ শিখছেন অল্প খরচে অধিক ফলন পাওয়ার আধুনিক প্রযুক্তি। এমনই ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল’।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বানিয়াকান্দর গ্রামে এমন আয়োজন করে সদর উপজেলা কৃষি অফিস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, পাগলাকানায় ইউনিয়নের বানিয়াকান্দর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহানারা খাতুন, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী প্রান্তিক কৃষক ও কৃষাণীরা।
পাঠদানের পাশাপাশি চলে প্রশ্নোত্তর,আলোচনা ও হাতে-কলমে শেখার কার্যক্রম। প্রশিক্ষকের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কৃষক-কৃষাণীরা তুলে ধরেন নিজেদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। ভুল হলে সংশোধন, আর সঠিক উত্তরে বাড়ে শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস।
এ স্কুলে কৃষির পাঠ কেবল ফসল উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়। শেখানো হচ্ছে পুষ্টি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ এবং কৃষিকে ঘিরে উদ্যোক্তা হওয়ার নানা কৌশল। ফলে কৃষিকাজের পাশাপাশি পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বাড়তি আয়ের পথও খুঁজে পাচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা।
প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অনেক কৃষাণী বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন সবজির বাগান। এতে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি মিলছে বাড়তি সবজি। অন্যদিকে, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে সীমিত খরচে অধিক ফলন পাচ্ছেন অনেক কৃষক। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি বাড়ছে লাভের সম্ভাবনা। কৃষিকাজে যুক্ত হচ্ছে নতুন চিন্তা, বদলাচ্ছে চাষাবাদের প্রচলিত ধারণা।
কৃষাণী বিথী খাতুন বলেন, ‘আগে নিজেদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী চাষাবাদ করতাম। এখন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার,বীজ ও ফসলের পরিচর্যা সম্পর্কে নতুন নতুন বিষয় জানতে পারছেন। সঠিক নিয়মে চাষাবাদ করায় কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
কৃষক রিপন হোসেন বলেন, ‘এ স্কুল থেকে পুষ্টি ও সবজি চাষের বিষয়ে অনেক কিছু শিখেছি। সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি। এতে অল্প খরচে ফসল উৎপাদন ও বেশি ফলন পাচ্ছি।’
শিক্ষার্থী নিশিতা বিশ্বাস বলেন, ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল থেকে ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমন ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার কৌশল শিখছেন। এতে অযথা খরচ কমানোর পাশাপাশি নিরাপদ ফসল উৎপাদনেও উৎসাহ পাচ্ছেন।’
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পুষ্টি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দিতেই পার্টনার ফিল্ড স্কুলের আয়োজন করা হচ্ছে। কৃষকরা যেন নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে কম খরচে বেশি উৎপাদন করতে পারেন,সেই লক্ষ্যেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষির মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কৃষির উন্নয়নে শুধু উর্বর মাটি,উন্নত বীজ কিংবা পর্যাপ্ত সেচই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন জ্ঞান ও দক্ষতা। তাই মাঠের এই পাঠশালায় কৃষক-কৃষাণীদের নতুন করে শেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক জ্ঞানের মেলবন্ধনে বদলে যাচ্ছে চাষাবাদের ধরন, তৈরি হচ্ছে পুষ্টি ও সমৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা।’
"সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশনে আমরা সর্বদা সচেষ্ট।"
