ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মাদক বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে- সংবাদ সম্মেলন




মাদক বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় মারধর ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গাজীপুর মহানগরীর ২৬ নং ওয়ার্ড নিয়ামত সড়ক এলাকার মৃত তসুর উদ্দিনের স্ত্রী সখিনা বেগম (৫৫)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের হাবিবুল্লাহ স্মরনি একটি পত্রিকা অফিসে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে খোরশেদ আলম ও রাশেদ আলম মিলে আমার ছেলে শাওনকে মাদক বিক্রি করতে বাধ্য করে। এতে আমার ছেলে শাওন রাজি না হলে তারা বিভিন্ন সময় আমার ছেলে শাওনকে ভয়ভীতি দেখায়।
শাওনের মা ভুক্তভোগী সখিনা আরও বলেন, ‘আমি অসহায় একজন নারী, মাদক বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় আমার ছেলেকে তারা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দায়ের করে আমার ছেলেকে হয়রানি ও মিডিয়াকে অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আমাদের মানহানি করছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার এবং হয়রানি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে শাওনের বড় বোন আইরিন বলেন, আমার ছোট ভাই শাওন এবার এসএসসি পরিক্ষা দিয়েছে। সে বিভিন্ন সময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজ নিয়ে প্রায় সময়ই ব্যস্ত থাকে। এরই মাঝে আমার চাচাতো ভাই খোরশেদ আলম ও রাশেদ আলম আমার ছোট ভাই শাওনকে মাদক বিক্রি করতে বলে। তাতে সে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় পারিবারিক দন্দ্ব।

তিনি আরও বলেন, আমার সৎ ভাই সাদেককে দিয়ে মাদক ব্যবসা করাতো খোরশেদ আলম। এর আগে খোরশেদ আলম আমার সৎ ভাই সাদেককে দিয়ে রংপুর থেকে মাদকের চালান আনার সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে, সে এখন জেলহাজতে। পরবর্তী শাওনকে মাদকের ব্যবসা করতে প্রস্তাব দেয় খোরশেদ আলম। তারা আমার ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে ফেলছে। তবে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে খোরশেদ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছে বলে দাবি করেন আইরিন।

আইরিন আরও বলেন, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঘটনার রাতে আমি শ^শুড় বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। ওই সময় ফোনে জানতে পারি তারা সবাই মিলে একজোট হয়ে আমাদের বাড়িতে গিয়ে আমার মা-ভাইকে বে-আইনিভাবে বেধড়ক মারধর করেছে। এঘটনার পর চারজনকে বিবাদী করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) সদর মেট্রো থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়। ডায়েরী নং- ১৬৭২। বিবাদীরা হলেন- নিয়ামত সড়ক এলাকার কফিল উদ্দিনের ছেলে খোরশেদ আলম (৪৫), উভয় পিতা রাশেদ আলম (৪০) , খোরশেদের স্ত্রী দিলরুবা ও রাশেদের স্ত্রী সীমা।

আইরিন গণমাধ্যমের সামনে আরও অভিযোগ বলেন, স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা ও এমপির ঘনিষ্ঠ লোক পরিচয়ে ব্যক্তিগত শত্রুতা হাসিল করতে খোরশেদ আমার ছোট ভাই শাওনকে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এ নিয়ে আমাদের পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলন শিপা অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী সাইদুল ইসলাম টুটুল স্থানীয় ভাবে একজন ইটা-বালু ব্যবসায়ী। স্থানীয়ভাবে খোরশেদ আলম ও রাশেদ আলম চাঁদাবাজ ও খারাপ প্রকৃতির লোক। তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডে আমার স্বামী সাইদুল ইসলাম টুটুল প্রশ্রয় না দেওয়ায় তাকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এর সুষ্ঠু বিচার এবং হয়রানি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন টুটুলের স্ত্রী শিপা।
সংবাদ সম্মেলনে শাওনের বিরুদ্ধে মামলাটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু নিষ্পত্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এছাড়াও নিয়ামত সড়ক এলাকাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তারা।

এসব বিষয়ে জানতে খোরশেদ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে সদর থানা শ্রমিকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দাবি করে জানান, আমি এলাকায় কোন খারাপ কাজের সাথে জড়িত না। আমি দীর্ঘ ধরে রাজনীতির সাথে জড়িত। যারা সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা নিজেরাই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, আমার ছোট ভাই রাশেদ আলম সদর মেট্রোথানা বিএনপির প্রচার সম্পাদক। সেও রাজনীতির সাথে জড়িত। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে শাওন তার দলবল নিয়ে আমার উপরে এলোপাথারি হামলা করে রক্তাক্ত জখম করেছে। ওই ঘটনায় আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে- সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ১৬ ঘন্টা আগে

মাদক বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় মারধর ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গাজীপুর মহানগরীর ২৬ নং ওয়ার্ড নিয়ামত সড়ক এলাকার মৃত তসুর উদ্দিনের স্ত্রী সখিনা বেগম (৫৫)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের হাবিবুল্লাহ স্মরনি একটি পত্রিকা অফিসে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে খোরশেদ আলম ও রাশেদ আলম মিলে আমার ছেলে শাওনকে মাদক বিক্রি করতে বাধ্য করে। এতে আমার ছেলে শাওন রাজি না হলে তারা বিভিন্ন সময় আমার ছেলে শাওনকে ভয়ভীতি দেখায়।
শাওনের মা ভুক্তভোগী সখিনা আরও বলেন, ‘আমি অসহায় একজন নারী, মাদক বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় আমার ছেলেকে তারা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দায়ের করে আমার ছেলেকে হয়রানি ও মিডিয়াকে অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আমাদের মানহানি করছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার এবং হয়রানি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে শাওনের বড় বোন আইরিন বলেন, আমার ছোট ভাই শাওন এবার এসএসসি পরিক্ষা দিয়েছে। সে বিভিন্ন সময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজ নিয়ে প্রায় সময়ই ব্যস্ত থাকে। এরই মাঝে আমার চাচাতো ভাই খোরশেদ আলম ও রাশেদ আলম আমার ছোট ভাই শাওনকে মাদক বিক্রি করতে বলে। তাতে সে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় পারিবারিক দন্দ্ব।

তিনি আরও বলেন, আমার সৎ ভাই সাদেককে দিয়ে মাদক ব্যবসা করাতো খোরশেদ আলম। এর আগে খোরশেদ আলম আমার সৎ ভাই সাদেককে দিয়ে রংপুর থেকে মাদকের চালান আনার সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে, সে এখন জেলহাজতে। পরবর্তী শাওনকে মাদকের ব্যবসা করতে প্রস্তাব দেয় খোরশেদ আলম। তারা আমার ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে ফেলছে। তবে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে খোরশেদ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছে বলে দাবি করেন আইরিন।

আইরিন আরও বলেন, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঘটনার রাতে আমি শ^শুড় বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। ওই সময় ফোনে জানতে পারি তারা সবাই মিলে একজোট হয়ে আমাদের বাড়িতে গিয়ে আমার মা-ভাইকে বে-আইনিভাবে বেধড়ক মারধর করেছে। এঘটনার পর চারজনকে বিবাদী করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) সদর মেট্রো থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়। ডায়েরী নং- ১৬৭২। বিবাদীরা হলেন- নিয়ামত সড়ক এলাকার কফিল উদ্দিনের ছেলে খোরশেদ আলম (৪৫), উভয় পিতা রাশেদ আলম (৪০) , খোরশেদের স্ত্রী দিলরুবা ও রাশেদের স্ত্রী সীমা।

আইরিন গণমাধ্যমের সামনে আরও অভিযোগ বলেন, স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা ও এমপির ঘনিষ্ঠ লোক পরিচয়ে ব্যক্তিগত শত্রুতা হাসিল করতে খোরশেদ আমার ছোট ভাই শাওনকে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এ নিয়ে আমাদের পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলন শিপা অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী সাইদুল ইসলাম টুটুল স্থানীয় ভাবে একজন ইটা-বালু ব্যবসায়ী। স্থানীয়ভাবে খোরশেদ আলম ও রাশেদ আলম চাঁদাবাজ ও খারাপ প্রকৃতির লোক। তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডে আমার স্বামী সাইদুল ইসলাম টুটুল প্রশ্রয় না দেওয়ায় তাকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এর সুষ্ঠু বিচার এবং হয়রানি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন টুটুলের স্ত্রী শিপা।
সংবাদ সম্মেলনে শাওনের বিরুদ্ধে মামলাটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু নিষ্পত্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এছাড়াও নিয়ামত সড়ক এলাকাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তারা।

এসব বিষয়ে জানতে খোরশেদ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে সদর থানা শ্রমিকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দাবি করে জানান, আমি এলাকায় কোন খারাপ কাজের সাথে জড়িত না। আমি দীর্ঘ ধরে রাজনীতির সাথে জড়িত। যারা সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা নিজেরাই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, আমার ছোট ভাই রাশেদ আলম সদর মেট্রোথানা বিএনপির প্রচার সম্পাদক। সেও রাজনীতির সাথে জড়িত। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে শাওন তার দলবল নিয়ে আমার উপরে এলোপাথারি হামলা করে রক্তাক্ত জখম করেছে। ওই ঘটনায় আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।