ঢাকা , শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মান-সম্মান বাঁচাতে গণপতিকে হত্যা

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে দাবি করেছে পুলিশ। দুই আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, চারজনের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়ির ছাদে হত্যা করা হয়। পরে গণপতির মরদেহ টিন দিয়ে এবং স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ ছাদের সিঁড়ির গেটের আড়ালে রাখা হয়।

‎বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

‎সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির অংশবিশেষ পড়ে শোনান পুলিশ কমিশনার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ইয়াবা সেবন করেছিলেন। পরে ইয়াবার প্রভাবে তাঁরা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে অবস্থান করছিলেন।

‎জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ২১ আগস্ট শুক্রবার ভোরের দিকে সিদ্ধার্থ মুগ্ধকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের বাসায় যান। সেখানে তাঁরা প্রথমে তিনটি ইয়াবা সেবন করেন। পরে আরও ইয়াবা নেওয়ার জন্য কামাল কাছনার ইয়াবা কারবারি শান্তর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চারটি ইয়াবা কেনার জন্য সিদ্ধার্থ নিজের মোবাইল ফোন বন্ধক রাখেন।

‎পুলিশের দাবি, ইয়াবা নেওয়ার পর দুজন আবার সীমান্তের বাসায় ফেরেন। রাত ৩টার পর সেখান থেকে বের হওয়ার সময় রাস্তায় কুকুর দেখতে পান তাঁরা। কুকুরের নজর এড়াতে প্রাচীর টপকে পাশের দেবুদের বাড়িতে ঢোকেন। এরপর ওই বাড়ির ছাদ হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন।

‎পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতিদের বাড়ির ছাদটি চারদিকে হাফ-ওয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। ফলে বাইরে থেকে ছাদটি সহজে দেখা যেত না। সেখানে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে তাঁরা আবার ইয়াবা সেবন করতে থাকেন। একপর্যায়ে খেয়াল না করতেই ভোর হয়ে যায়। ওই রাতে তাঁরা মোট আটটি ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে সিদ্ধার্থের জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।

‎পুলিশের” ভাষ্য, সকালে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে গিয়ে দুজনকে দেখতে পান। এ সময় তিনি তাঁদের ধমক দিয়ে বলেন, ‘তোরা এত সকালে এখানে কী করিস?’

‎পুলিশ কমিশনার জানান, নিজেদের ‘মান-সম্মান’ বাঁচাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতির গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন। পরে তাঁর মরদেহ ছাদের এক পাশে টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

‎এরপর গণপতির স্ত্রী ও মেয়ে শব্দ শুনে ছাদে এলে তাঁরা চিৎকার শুরু করেন। পুলিশের দাবি, মুগ্ধ গণপতির স্ত্রীর গলা গামছা দিয়ে চেপে ধরেন। আর সিদ্ধার্থ এক হাতে তাঁর মেয়ের গলা ও অন্য হাতে মুখ চেপে ধরেন।

‎পুলিশ জানায়, গণপতির স্ত্রীকে হত্যার পর একই গামছা দিয়ে দুজন মিলে মেয়েটির গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। এতে মৃত্যু না হলে ছাদে থাকা কবুতরের খাবারের বাক্স থেকে রশি নিয়ে তাঁর গলায় পেঁচানো হয়। পরে দুই দিক থেকে টান দিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।


‎পুলিশ কমিশনার বলেন, এরপর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ বাড়ির ভেতরে ঢুকে দেখতে পান গণপতির ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠেছেন। সিদ্ধার্থকে দেখে প্রিয়ম বলেন, ‘সিদ্ধার্থ দাদা, তুমি এখানে কেন?’

‎পুলিশের দাবি, তখন প্রিয়মের গলায় কাপড় পেঁচিয়ে তাঁকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
‎হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িতে সিসি ক্যামেরা থাকার আশঙ্কা করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। পরে ছাদে পড়ে থাকা একটি পুরোনো প্লাস দিয়ে বাড়ির বিদ্যুতের তার কেটে দেন তাঁরা।

‎এরপর গণপতির মরদেহ ছাদের এক পাশে টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ ছাদের সিঁড়ির গেটের আড়ালে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে সহজে দেখা না যায়।

‎চুরি-ডাকাতির ঘটনা সাজানোর চেষ্টা
‎পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে মুগ্ধ পরিকল্পনা করেন। এরপর তাঁরা ঘরের ড্রয়ার খুলে জিনিসপত্র এলোমেলো করেন।

‎পুলিশ কমিশনার জানান, মুগ্ধ ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার এনে দিলে সিদ্ধার্থ সেগুলো প্লাস্টিকের বাক্স ও কাপড়ের প্যাকেটে রাখেন। পরে বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যান তাঁরা।

‎হত্যাকাণ্ডের পর ক্লান্ত হয়ে দুজন গোসল করেন। এরপর বাড়িতে থাকা আরও একটি ইয়াবা সেবন করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‎জুমার নামাজের সময় গণপতিদের বাড়ির ছাদ হয়ে দেবুদের বাড়ির ছাদে যান মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এরপর দেয়াল টপকে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। মুগ্ধ টাকা এবং সিদ্ধার্থ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যান। পরে সেগুলো গোপন করার চেষ্টা করেন তাঁরা।

‎পুলিশের ভাষ্য, পরে সিদ্ধার্থ মুগ্ধর কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নেন। ওই টাকা দিয়ে বন্ধক রাখা নিজের মোবাইল ফোনটি ছাড়িয়ে নেন তিনি।

‎পুলিশ কমিশনার বলেন, মুগ্ধ দাসও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে একই ধরনের বর্ণনা দিয়েছেন।

‎ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ পরীক্ষা চলছে
‎হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। আদালতের অনুমতি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।

‎তিনি জানান, হত্যার সময় আসামিদের চিৎকার শুনেছিলেন এক প্রতিবেশী নারী। ওই নারী বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে পুলিশের কাছে ঘটনা জানানোর কারণে তাঁর স্বামী তাঁকে মারধর করেন বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।

‎এ ঘটনায় সীমান্ত দাস ও দখিগঞ্জ শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের জবানবন্দিও আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে। এসব জবানবন্দি, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

‎ময়নাতদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে—ময়নাতদন্তে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
‎নিহত দুই নারী—আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতিলতা চক্রবর্তীর মরদেহের ভ্যাজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

‎এ সময় পুলিশ কমিশনার বলেন, গলায় শ্বাসরোধ বা ফাঁস লাগার ঘটনায় মরদেহ থেকে বীর্য ও মলমূত্র বের হয়ে আসতে পারে। এটি বাইরের বীর্য নয়, মরদেহের ভেতর থেকেই বের হয়। একইভাবে গলায় ফাঁস লাগলে চোখ কিছুটা বেরিয়ে আসার মতো শারীরিক পরিবর্তনও হতে পারে।

‎সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকরা মামলার তদন্ত, হত্যার উদ্দেশ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। দু-একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর অন্য সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই দ্রুত সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

মান-সম্মান বাঁচাতে গণপতিকে হত্যা

আপডেট সময় : ১৬ ঘন্টা আগে

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে দাবি করেছে পুলিশ। দুই আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, চারজনের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়ির ছাদে হত্যা করা হয়। পরে গণপতির মরদেহ টিন দিয়ে এবং স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ ছাদের সিঁড়ির গেটের আড়ালে রাখা হয়।

‎বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

‎সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির অংশবিশেষ পড়ে শোনান পুলিশ কমিশনার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ইয়াবা সেবন করেছিলেন। পরে ইয়াবার প্রভাবে তাঁরা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে অবস্থান করছিলেন।

‎জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ২১ আগস্ট শুক্রবার ভোরের দিকে সিদ্ধার্থ মুগ্ধকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের বাসায় যান। সেখানে তাঁরা প্রথমে তিনটি ইয়াবা সেবন করেন। পরে আরও ইয়াবা নেওয়ার জন্য কামাল কাছনার ইয়াবা কারবারি শান্তর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চারটি ইয়াবা কেনার জন্য সিদ্ধার্থ নিজের মোবাইল ফোন বন্ধক রাখেন।

‎পুলিশের দাবি, ইয়াবা নেওয়ার পর দুজন আবার সীমান্তের বাসায় ফেরেন। রাত ৩টার পর সেখান থেকে বের হওয়ার সময় রাস্তায় কুকুর দেখতে পান তাঁরা। কুকুরের নজর এড়াতে প্রাচীর টপকে পাশের দেবুদের বাড়িতে ঢোকেন। এরপর ওই বাড়ির ছাদ হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন।

‎পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতিদের বাড়ির ছাদটি চারদিকে হাফ-ওয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। ফলে বাইরে থেকে ছাদটি সহজে দেখা যেত না। সেখানে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে তাঁরা আবার ইয়াবা সেবন করতে থাকেন। একপর্যায়ে খেয়াল না করতেই ভোর হয়ে যায়। ওই রাতে তাঁরা মোট আটটি ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে সিদ্ধার্থের জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।

‎পুলিশের” ভাষ্য, সকালে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে গিয়ে দুজনকে দেখতে পান। এ সময় তিনি তাঁদের ধমক দিয়ে বলেন, ‘তোরা এত সকালে এখানে কী করিস?’

‎পুলিশ কমিশনার জানান, নিজেদের ‘মান-সম্মান’ বাঁচাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতির গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন। পরে তাঁর মরদেহ ছাদের এক পাশে টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

‎এরপর গণপতির স্ত্রী ও মেয়ে শব্দ শুনে ছাদে এলে তাঁরা চিৎকার শুরু করেন। পুলিশের দাবি, মুগ্ধ গণপতির স্ত্রীর গলা গামছা দিয়ে চেপে ধরেন। আর সিদ্ধার্থ এক হাতে তাঁর মেয়ের গলা ও অন্য হাতে মুখ চেপে ধরেন।

‎পুলিশ জানায়, গণপতির স্ত্রীকে হত্যার পর একই গামছা দিয়ে দুজন মিলে মেয়েটির গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। এতে মৃত্যু না হলে ছাদে থাকা কবুতরের খাবারের বাক্স থেকে রশি নিয়ে তাঁর গলায় পেঁচানো হয়। পরে দুই দিক থেকে টান দিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।


‎পুলিশ কমিশনার বলেন, এরপর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ বাড়ির ভেতরে ঢুকে দেখতে পান গণপতির ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠেছেন। সিদ্ধার্থকে দেখে প্রিয়ম বলেন, ‘সিদ্ধার্থ দাদা, তুমি এখানে কেন?’

‎পুলিশের দাবি, তখন প্রিয়মের গলায় কাপড় পেঁচিয়ে তাঁকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
‎হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িতে সিসি ক্যামেরা থাকার আশঙ্কা করেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। পরে ছাদে পড়ে থাকা একটি পুরোনো প্লাস দিয়ে বাড়ির বিদ্যুতের তার কেটে দেন তাঁরা।

‎এরপর গণপতির মরদেহ ছাদের এক পাশে টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ ছাদের সিঁড়ির গেটের আড়ালে রাখা হয়, যাতে পাশের বাড়ির ছাদ থেকে সহজে দেখা না যায়।

‎চুরি-ডাকাতির ঘটনা সাজানোর চেষ্টা
‎পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে মুগ্ধ পরিকল্পনা করেন। এরপর তাঁরা ঘরের ড্রয়ার খুলে জিনিসপত্র এলোমেলো করেন।

‎পুলিশ কমিশনার জানান, মুগ্ধ ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার এনে দিলে সিদ্ধার্থ সেগুলো প্লাস্টিকের বাক্স ও কাপড়ের প্যাকেটে রাখেন। পরে বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যান তাঁরা।

‎হত্যাকাণ্ডের পর ক্লান্ত হয়ে দুজন গোসল করেন। এরপর বাড়িতে থাকা আরও একটি ইয়াবা সেবন করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‎জুমার নামাজের সময় গণপতিদের বাড়ির ছাদ হয়ে দেবুদের বাড়ির ছাদে যান মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। এরপর দেয়াল টপকে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। মুগ্ধ টাকা এবং সিদ্ধার্থ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যান। পরে সেগুলো গোপন করার চেষ্টা করেন তাঁরা।

‎পুলিশের ভাষ্য, পরে সিদ্ধার্থ মুগ্ধর কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নেন। ওই টাকা দিয়ে বন্ধক রাখা নিজের মোবাইল ফোনটি ছাড়িয়ে নেন তিনি।

‎পুলিশ কমিশনার বলেন, মুগ্ধ দাসও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে একই ধরনের বর্ণনা দিয়েছেন।

‎ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ পরীক্ষা চলছে
‎হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্ট ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। আদালতের অনুমতি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।

‎তিনি জানান, হত্যার সময় আসামিদের চিৎকার শুনেছিলেন এক প্রতিবেশী নারী। ওই নারী বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে পুলিশের কাছে ঘটনা জানানোর কারণে তাঁর স্বামী তাঁকে মারধর করেন বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।

‎এ ঘটনায় সীমান্ত দাস ও দখিগঞ্জ শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের জবানবন্দিও আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে। এসব জবানবন্দি, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

‎ময়নাতদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে—ময়নাতদন্তে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
‎নিহত দুই নারী—আগামী চক্রবর্তী ও প্রীতিলতা চক্রবর্তীর মরদেহের ভ্যাজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

‎এ সময় পুলিশ কমিশনার বলেন, গলায় শ্বাসরোধ বা ফাঁস লাগার ঘটনায় মরদেহ থেকে বীর্য ও মলমূত্র বের হয়ে আসতে পারে। এটি বাইরের বীর্য নয়, মরদেহের ভেতর থেকেই বের হয়। একইভাবে গলায় ফাঁস লাগলে চোখ কিছুটা বেরিয়ে আসার মতো শারীরিক পরিবর্তনও হতে পারে।

‎সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকরা মামলার তদন্ত, হত্যার উদ্দেশ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। দু-একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর অন্য সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই দ্রুত সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।