কিছুদিন আগে কিংবদন্তি নির্মাতা এফ আই মানিক বলেছিলেন, অপু বিশ্বাসকে ফিতা কাটতে দেখলে ভীষণ খারাপ লাগে। কষ্ট কি শুধু এই প্রবীণ নির্মাতার একার? কোটি দর্শকের মনেও একই ব্যথা, কোথায় হারালেন ঢালিউড কুইন। তার বহু ব্যবসা সফল সিনেমার পার্টনার শাকিব খানের ছায়া থেকে জুদা হওয়ার পর থেকে অপুর ক্যারিয়ার নিম্নগামী। অপু দি-ও দ্বিমত করবেন না।
তিনি একাধিকবার বলেছেন, প্রযোজক-পরিচালকরা চাইলে শাকিবের সঙ্গে জুটি বাঁধার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। খান সাহেবের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ঢালিউড।
দীর্ঘ বিরতির পর বিগ বাজেটের সিনেমা ‘শিকার’ দিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন অপু। এটা শুধু ফেরা নয়, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখারও মহাযুদ্ধ। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় সিনেমাটিকে তার সেই টিকে থাকার শেষ সুযোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই যাত্রায় তরী তিরে না ভিড়লে অপুর গৌরবময় ক্যারিয়ারে ফুলস্টপ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।
দর্শক টানতে না পারলে প্রযোজকরা অপুর পেছনে অর্থ বিনিয়োগ করবেন কেন? তবে ‘শিকার’ হতে চলেছে অপুর ক্যারিয়ারের অন্যতম বিগ বাজেটের ছবি। গল্পও মনের মতো পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগও রয়েছে।
তার ‘শেষ সুযোগ’-এর হিরো নবাগত মুর্তজা পলাশ। যিনি একাধারে কণ্ঠশিল্পী, অভিনেতা ও
শিল্পপতি। অপুর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন নায়ক আর আসেনি।
পলাশ নবাগত মানে, সিনেমায় নতুন। প্রায় ৪০টি একক ও ধারাবাহিকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে পুষ্পিত-পল্লবিত করেছেন তিনি। পলাশের হারানো কিছু নেই। প্রাপ্তির ভাণ্ডারে দুহাত ভরে ফসল তোলার সুযোগ আছে।
অপুর মতো পরীক্ষিত অভিনেত্রীর হিরো হয়ে রূপালি পর্দায় রাজসিক অভিষেক ঘটছে তার। স্বপ্ন-পূরণে দীর্ঘ আট মাস কঠোর পরিশ্রম করে নিজের লুক তৈরি করেছেন। ছোট পর্দার অভিজ্ঞতাকে এবার বড় পর্দায় ঢেলে দেওয়ার পালা। প্রথম সিনেমায় তার সহশিল্পী কি শুধু অপু?
বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের শিল্পী এবং কলাকুশলীদের সমন্বয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘শিকার’। ওপার বাংলার কিংবদন্তি রজতাভ দত্ত, খারাজ মুখার্জির সঙ্গে বড়দা মিঠু, সুমন আনোয়ার, ‘জিল্লু’খ্যাত শ্যাম ভট্টাচার্যদের মতো শক্তিশালী অভিনেতাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ারের সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
নিজেকে লাইমলাইটে এনে দর্শকদের নজর কাড়ার জন্য এরচেয়ে মোক্ষম সুযোগ আর কীইবা হতে পারে।
রেজা ফিল্ম প্রযোজিত আব্দুল্লাহ জহির বাবুর গল্পে অপু ও পলাশকে নিয়ে বড় পর্দায় এক নতুন সমীকরণ মেলানোর হিমালয় জয়ের মতো গুরু দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন নির্মাতা কামরুজ্জামান রোমান। থ্রিলার ঘরানার সিনেমা ‘শিকার’ হতে যাচ্ছে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অপুর জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর এসিড টেস্ট।
অন্যদিকে ছোট পর্দায় নিজেকে প্রমাণ করে আসা পলাশের জন্য হতে পারে বড় পর্দায় জায়গা করে নেওয়ার বিরাট সুযোগ। প্রত্যাশার চাপ কাটিয়ে অপু নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারবেন, সেই চ্যালেঞ্জ তো আছেই। নেপালের বিভিন্ন লোকেশনে ধারণ করা দৃশ্যে নির্মিত ‘শিকার’ কি পারবে অপু বিশ্বাসকে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দিতে?
পলাশ কি সফল হবেন নিজেকে হিরো হিসেবে ঢালিউডে প্রতিষ্ঠিত করতে? এসব প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়। আপাতত ফিসফাস, অপুর ‘শেষ নৃত্যে’ ফুটবেন কি পলাশ।
লেখক: সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র বিশ্লেষক।

বিনোদন ডেস্ক 
























