ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনায় রঙিন মাছ ও সমন্বিত খামারে রাহুলের রঙিন জীবন হাবিবুল্লাহ ফাহাদের গল্পগ্রন্থ ‘আ হোয়াইট ডাভ্‌স এলেজি’ প্যারিসে বাংলাদেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সক্ষমতা তুলে ধরার প্রত্যাশা আকিজ গ্রুপে চাকরির সুযোগ, পাবেন প্রভিডেন্ট ফান্ড-গ্র্যাচুইটি দেশে প্রথম রোবোটিক সার্জারি সম্পন্ন বেসরকারি খাতে সময়োপযোগী বেতন কাঠামো ও ঘণ্টাভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি দাবি সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার প্রত্যয় আইন কর্মকর্তাদের বলিউডে দ্যুতি ছড়াতে আসছেন এই দক্ষিণী সুন্দরী ভেনিসে যাচ্ছেন সুনেরাহ, সঙ্গে বাংলাদেশের সিনেমা ‘আনফিট’ ৪ খেলোয়াড় রেখে ভারতের দল ঘোষণা

সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন বাড়ছে ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ




সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল অনুমোদনের পাশাপাশি এবার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনও বড় অঙ্কে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্ল্যাবভিত্তিক পদ্ধতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের মাসিক নিট পেনশন সর্বনিম্ন ৫৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বহুল প্রত্যাশিত নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন পেনশন কাঠামো অনুযায়ী, অবসরভোগী পেনশনধারীদের বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিষয়টিকে বিশেষ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন আহরণ করছেন, তাদের নিট পেনশন শতভাগ অর্থাৎ ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। আর যারা ৯ হাজার ১ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ শতাংশ।

একইভাবে ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন আহরণকারীদের পেনশন ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন আহরণকারীদের নিট পেনশন ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন আহরণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ পদ্ধতি প্রবর্তনের বিষয়টিও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বর্তমান সরকার সামরিক ও অসামরিক সকল ক্ষেত্রে একইসঙ্গে এই কল্যাণমুখী পদ্ধতি প্রবর্তনে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের পূর্ববর্তী সময়ে অবসরগ্রহণকারীদের কোনো তথ্য বা ডেটাবেজ সংরক্ষিত না থাকায় এবং এই মুহূর্তে পদ্ধতিটি চালুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত বড় অঙ্কের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা জড়িত থাকায় সরকার এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সার্বিক বাস্তবতা বিবেচনা করে সামরিক ও অসামরিক সকল ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা হবে।

মূলত ২০৩০ সালের মধ্যে এক গ্রেড এক পেনশন পদ্ধতি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মধ্যবর্তী সময়টাতে অবসরভোগী পেনশনধারীদের বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে সরকার একটি সময়োপযোগী বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন অনুমোদিত পে-স্কেলটি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও দেশের সার্বিক আর্থিক সক্ষমতা ও দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে সব সুবিধা এককালীন বাস্তবায়ন করা হবে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই নতুন বেতন ও পেনশন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন স্কেলের মূল বেতন চলতি বছরের ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আগামী বছর অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৭ সালের মধ্যে মোট তিনটি পৃথক ধাপে কার্যকর করা হবে।

আর কর্মচারীদের বিভিন্ন ধরনের ভাতাগুলো ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মূল বেতন ও ভাতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে নিট পেনশন বৃদ্ধির এই নতুন ও বর্ধিত সুবিধা কার্যকর করা হবে।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় রঙিন মাছ ও সমন্বিত খামারে রাহুলের রঙিন জীবন

সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন বাড়ছে ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ

আপডেট সময় : ১১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল অনুমোদনের পাশাপাশি এবার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনও বড় অঙ্কে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্ল্যাবভিত্তিক পদ্ধতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের মাসিক নিট পেনশন সর্বনিম্ন ৫৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বহুল প্রত্যাশিত নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন পেনশন কাঠামো অনুযায়ী, অবসরভোগী পেনশনধারীদের বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিষয়টিকে বিশেষ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন আহরণ করছেন, তাদের নিট পেনশন শতভাগ অর্থাৎ ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। আর যারা ৯ হাজার ১ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ শতাংশ।

একইভাবে ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন আহরণকারীদের পেনশন ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন আহরণকারীদের নিট পেনশন ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন আহরণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ পদ্ধতি প্রবর্তনের বিষয়টিও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বর্তমান সরকার সামরিক ও অসামরিক সকল ক্ষেত্রে একইসঙ্গে এই কল্যাণমুখী পদ্ধতি প্রবর্তনে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের পূর্ববর্তী সময়ে অবসরগ্রহণকারীদের কোনো তথ্য বা ডেটাবেজ সংরক্ষিত না থাকায় এবং এই মুহূর্তে পদ্ধতিটি চালুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত বড় অঙ্কের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা জড়িত থাকায় সরকার এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সার্বিক বাস্তবতা বিবেচনা করে সামরিক ও অসামরিক সকল ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা হবে।

মূলত ২০৩০ সালের মধ্যে এক গ্রেড এক পেনশন পদ্ধতি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মধ্যবর্তী সময়টাতে অবসরভোগী পেনশনধারীদের বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে সরকার একটি সময়োপযোগী বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন অনুমোদিত পে-স্কেলটি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও দেশের সার্বিক আর্থিক সক্ষমতা ও দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে সব সুবিধা এককালীন বাস্তবায়ন করা হবে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই নতুন বেতন ও পেনশন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন স্কেলের মূল বেতন চলতি বছরের ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আগামী বছর অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৭ সালের মধ্যে মোট তিনটি পৃথক ধাপে কার্যকর করা হবে।

আর কর্মচারীদের বিভিন্ন ধরনের ভাতাগুলো ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মূল বেতন ও ভাতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে নিট পেনশন বৃদ্ধির এই নতুন ও বর্ধিত সুবিধা কার্যকর করা হবে।