ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্যারিসে বাংলাদেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সক্ষমতা তুলে ধরার প্রত্যাশা




ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বস্ত্র ও পোশাক প্রদর্শনী টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস ২০২৬-এর ৫৯তম আসরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, ব্র্যান্ড প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সামনে এই প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার চিত্র।

প্যারিসের ল্য বুর্জে এক্সিবিশন সেন্টারে গত ৩১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই মেলা শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর। এতে অংশ নিচ্ছে বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশের ১ হাজার ৩০০-র বেশি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন, ভারত, তুরস্ক, মিয়ানমার, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইতালির মতো শীর্ষস্থানীয় পোশাক ও বস্ত্র সোর্সিং দেশ।

এবারের আসরে বাংলাদেশের মোট ১৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে হুরাইন হাই-টেক, এনজেড ডেনিম ও এনজেড ফ্যাব্রিক অংশ নিচ্ছে টেক্সওয়ার্ল্ড অংশে, নেক্সজেন অ্যাপারেল ও এইচঅ্যান্ডএফ ফ্যাশন অংশ নিচ্ছে অ্যাপারেল সোর্সিং অংশে।

এছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্যাভিলিয়নের অধীনে অংশ নিচ্ছে কমোদা গার্মেন্টস, স্কাইলার্ক নিট কম্পোজিট, নরবান কমটেক্স, ওয়ার্পটেক্স, বিএনএম গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি, ফেবিটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। বিশ্বে চীনের পরই তৈরি পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোর্সিং হাব হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের জন্য এই মেলা তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি খোন্দকার এম তালহা, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রেহান উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, ক্রেতাদের সাড়া এ বছর সন্তোষজনক এবং নিটওয়্যার পণ্যের প্রতি আগ্রহও লক্ষণীয়।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সরাসরি ক্রেতা ও ব্র্যান্ড প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য তৈরি হবে নতুন বাজার, নতুন ক্রেতা এবং রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা।

এ বিষয়ে প্যারিস প্রবাসী গবেষক ও কলামিস্ট আহমেদ সোহেল বলেন, ‘বৈশ্বিক পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ যে নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থান ধরে রেখেছে, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং বিশেষ করে ইউরোপে বাংলাদেশি পোশাকের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা ও ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরিতে বাংলাদেশের এই ইভেন্টে অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক।

প্রতিযোগিতামূলক এই বাণিজ্যিক বাজারে ইউরোপীয় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের গুরুত্ব বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে নিয়মিত অংশগ্রহণ বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করছে।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য, আর ফ্রান্স এককভাবে দেশের পঞ্চম বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। ফ্রান্সে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানির পরিমাণ প্রায় আড়াই বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার প্রায় ৯২ শতাংশই পোশাক ও টেক্সটাইলপণ্য। এ কারণে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস বাংলাদেশের পোশাক খাত তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

প্যারিসে বাংলাদেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সক্ষমতা তুলে ধরার প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বস্ত্র ও পোশাক প্রদর্শনী টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস ২০২৬-এর ৫৯তম আসরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, ব্র্যান্ড প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সামনে এই প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার চিত্র।

প্যারিসের ল্য বুর্জে এক্সিবিশন সেন্টারে গত ৩১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই মেলা শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর। এতে অংশ নিচ্ছে বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশের ১ হাজার ৩০০-র বেশি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন, ভারত, তুরস্ক, মিয়ানমার, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইতালির মতো শীর্ষস্থানীয় পোশাক ও বস্ত্র সোর্সিং দেশ।

এবারের আসরে বাংলাদেশের মোট ১৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে হুরাইন হাই-টেক, এনজেড ডেনিম ও এনজেড ফ্যাব্রিক অংশ নিচ্ছে টেক্সওয়ার্ল্ড অংশে, নেক্সজেন অ্যাপারেল ও এইচঅ্যান্ডএফ ফ্যাশন অংশ নিচ্ছে অ্যাপারেল সোর্সিং অংশে।

এছাড়া রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্যাভিলিয়নের অধীনে অংশ নিচ্ছে কমোদা গার্মেন্টস, স্কাইলার্ক নিট কম্পোজিট, নরবান কমটেক্স, ওয়ার্পটেক্স, বিএনএম গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি, ফেবিটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। বিশ্বে চীনের পরই তৈরি পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোর্সিং হাব হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের জন্য এই মেলা তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি খোন্দকার এম তালহা, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রেহান উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, ক্রেতাদের সাড়া এ বছর সন্তোষজনক এবং নিটওয়্যার পণ্যের প্রতি আগ্রহও লক্ষণীয়।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সরাসরি ক্রেতা ও ব্র্যান্ড প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য তৈরি হবে নতুন বাজার, নতুন ক্রেতা এবং রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা।

এ বিষয়ে প্যারিস প্রবাসী গবেষক ও কলামিস্ট আহমেদ সোহেল বলেন, ‘বৈশ্বিক পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ যে নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থান ধরে রেখেছে, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং বিশেষ করে ইউরোপে বাংলাদেশি পোশাকের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা ও ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরিতে বাংলাদেশের এই ইভেন্টে অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক।

প্রতিযোগিতামূলক এই বাণিজ্যিক বাজারে ইউরোপীয় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের গুরুত্ব বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে নিয়মিত অংশগ্রহণ বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করছে।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য, আর ফ্রান্স এককভাবে দেশের পঞ্চম বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। ফ্রান্সে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানির পরিমাণ প্রায় আড়াই বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার প্রায় ৯২ শতাংশই পোশাক ও টেক্সটাইলপণ্য। এ কারণে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস বাংলাদেশের পোশাক খাত তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।