তিন ম্যাচের সব কয়টি ড্র করে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ মৌসুম শুরু করেছিল শেফিল্ড ইউনাইটেড। ক্লাবটির জার্সিতে হামজা চৌধুরী মাঠে ফিরলেন, ঘুরে দাঁড়াল প্রিমিয়ার লিগে ফেরার লড়াইয়ে থাকা শেফিল্ড ইউনাইটেডও। বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে নাটকীয় এক ম্যাচে ৩-২ গোলের জয়ে উচ্ছ্বাস ঢেকে রাখতে পারেননি বাংলাদেশি এই মিডফিল্ডার। এই জয়কেই সামনের পথচলার প্রেরণা হিসেবে দেখছেন তিনি।
রাইট-ব্যাক হিসেবে শুরু করে পুরো ম্যাচ খেলেছেন হামজা। প্রথম মিনিটেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া শেফিল্ড ইউনাইটেড অবশ্য চতুর্থ মিনিটেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। বিরতির পর ৬৭ মিনিটে ফের পিছিয়ে পড়ে ‘ব্লেড’ ডাকনামের ক্লাবটি। পরের মিনিটেই আবার সমতায় ফেরে হামজার দল—স্কোরলাইন হয় ২-২। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে রোমেল্লে ডোনোভানের গোলে লেখা হয় জয়ের ভাগ্য।
শৈশবের ক্লাব লেস্টার সিটি ছেড়ে শেফিল্ড ইউনাইটেডে পাড়ি জমানোর পর চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে এটিই ছিল হামজার প্রথম ম্যাচ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ধারে থেকে এই ক্লাবের হয়ে ১৯ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। এবার অবশ্য পাকাপাকিভাবে, এক বছরের চুক্তিতে নাম লিখিয়েছেন ক্লাবটিতে।
ম্যাচ শেষে নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে হামজা চৌধুরী বলেন, ‘এখানে (ব্রামাল লেনে) আবারও ফিরতে পেরে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। অবশ্যই এই রাতের ফলটা আমাদের জন্য বিশাল।’ ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার আরও যোগ করেন, ‘আপনি তো জানেনই যে, আমাদের মূল লক্ষ্য পরবর্তী পর্বে উত্তরণ। আমাদের এখানে এসে সেরা উপায়ে জবাব দেওয়া প্রয়োজন ছিল এবং সত্যি বলতে কী, ছেলেরা ঠিক সেটাই করেছে।’
শেফিল্ড ইউনাইটেডের ঘরের মাঠ ব্রামাল লেনে এই ম্যাচ যেন পরিণত হয়েছিল এক রোলার কোস্টার রাইডে। দুই দফায় পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ছিনিয়ে নেওয়া জয়ে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন দর্শকরা। এ প্রসঙ্গে হামজা বলেন, ‘আমরা ম্যাচটা যেভাবে চেয়েছিলাম, শুরুটা তেমন হয়নি। প্রথম মিনিটেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর খেলায় ফেরার জন্য ছেলেরা দারুণ সাহস দেখিয়েছে। এরপর সরাসরিই আমরা খেলায় প্রভাব বিস্তার করি। আমার মনে হয়, প্রথমার্ধের দীর্ঘ সময়জুড়ে আমরা সেই প্রভাব বজায় রেখেছিলাম, যদিও আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। ধীরে ধীরে ওরা খেলায় ফিরে আসে। আমরা এমন একটা গোল হজম করি, যা অতো সহজে আমাদের দেওয়া উচিত হয়নি।’
সবশেষ ৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকা শেফিল্ড ইউনাইটেড চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের চতুর্থ ম্যাচে এসে পেল প্রথম জয়ের দেখা। ৪ ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ক্লাবটি এখন লিগ টেবিলের দশম স্থানে। সেখান থেকে ওপরে ওঠার দিকেই এখন চোখ হামজার, ‘আবারও বলব, ম্যাচে ফিরে আসার জন্য ছেলেরা দারুণ সাহস দেখিয়েছে। শেষ মুহূর্তে রোম (রোমেল্লে ডোনোভান) জয় নিশ্চিত করল, যা সত্যিই দারুণ। এসব অনুভূতিই বারবার আমার মধ্যে এই জায়গায় ফিরে আসার আকুলতা তৈরি করে দেয়। এটি এক বিশেষ স্টেডিয়াম, আর সমর্থকরাও বিশেষ। হ্যাঁ, আমি সত্যিই সময়টা উপভোগ করেছি, আর আশা করি এই পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই আমরা এগিয়ে যেতে পারব এবং আগামী শনিবার আবারও লড়াইয়ে নামব।’

স্পোর্টস ডেস্ক 



















