ঢাকা , শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ পাননি প্রাথমিক শিক্ষক পদে




সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তবে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়ার অভিযোগ করেছেন মিশন আচার্য নামে এক প্রার্থী।

ভুক্তভোগী মিশন আচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায়।

মিশন আচার্য জানান, তার স্থায়ী ঠিকানায় কোনো বসতভিটা নেই। তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান। ফলে বাবার ঠিকানা থেকে তিনি বঞ্চিত। এরপর থেকে মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।

ঝিনাইদহের কলাবাগান এলাকাতেই তার জন্ম এবং জন্মের পর থেকে সেখানেই ভাড়া বাসায় তারা বসবাস করছেন বলে জানান তিনি।

মিশন আচার্য জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদের জন্য ১৮২ জনকে সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুজন নিয়োগপত্র পাননি, যাদের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আর একজন তিনি নিজেই। এদের মধ্যে তিনি উপজেলা পর্যায়ে ১৭ তম স্থান অধিকার করেন। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমা সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে- এমন ধারণা থেকে তার খালু তাদের গ্রামের এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। ওই জমির দলিলও তিনি পুলিশ তদন্তের সময় জমা দিয়েছেন। তবে সেখানে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং তিনি কখনো সেখানে বসবাস করেননি বলে জানান।

 

তিনি আরও জানান, পুলিশকে প্রথমে ভূমিহীন সনদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তখন তাকে জানানো হয়, জমির দলিল জমা দিলেও হবে। তখন তিনি জমা দেন। তবে স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমা সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে- এমন ধারণা থেকে তার খালু তাদের গ্রামের এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। ওই জমির দলিলও তিনি পুলিশ তদন্তের সময় জমা দিয়েছেন। তবে সেখানে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং তিনি কখনো সেখানে বসবাস করেননি বলে জানান।

মিশন আচার্য বলেন, ‘আমার মা বাসাবাড়িতে কাজ করে আমাকে বড় করেছেন। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। সরকারের কাছে আমার চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিবেচনার অনুরোধ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কী দোষ? ভাড়া বাসায় জন্মেছি, এটাই কি আমার দোষ? রাষ্ট্র আমার ভোট নিচ্ছে, আমাকে খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে কিন্তু জব দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের কাছে আমার মেধা আর পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার মূল্য বেশি।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ইতোমধ্যে বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, একটা সমাধান হবে।’

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ পাননি প্রাথমিক শিক্ষক পদে

আপডেট সময় : ৪ ঘন্টা আগে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তবে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়ার অভিযোগ করেছেন মিশন আচার্য নামে এক প্রার্থী।

ভুক্তভোগী মিশন আচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায়।

মিশন আচার্য জানান, তার স্থায়ী ঠিকানায় কোনো বসতভিটা নেই। তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান। ফলে বাবার ঠিকানা থেকে তিনি বঞ্চিত। এরপর থেকে মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।

ঝিনাইদহের কলাবাগান এলাকাতেই তার জন্ম এবং জন্মের পর থেকে সেখানেই ভাড়া বাসায় তারা বসবাস করছেন বলে জানান তিনি।

মিশন আচার্য জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদের জন্য ১৮২ জনকে সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুজন নিয়োগপত্র পাননি, যাদের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আর একজন তিনি নিজেই। এদের মধ্যে তিনি উপজেলা পর্যায়ে ১৭ তম স্থান অধিকার করেন। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমা সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে- এমন ধারণা থেকে তার খালু তাদের গ্রামের এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। ওই জমির দলিলও তিনি পুলিশ তদন্তের সময় জমা দিয়েছেন। তবে সেখানে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং তিনি কখনো সেখানে বসবাস করেননি বলে জানান।

 

তিনি আরও জানান, পুলিশকে প্রথমে ভূমিহীন সনদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তখন তাকে জানানো হয়, জমির দলিল জমা দিলেও হবে। তখন তিনি জমা দেন। তবে স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমা সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে- এমন ধারণা থেকে তার খালু তাদের গ্রামের এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। ওই জমির দলিলও তিনি পুলিশ তদন্তের সময় জমা দিয়েছেন। তবে সেখানে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং তিনি কখনো সেখানে বসবাস করেননি বলে জানান।

মিশন আচার্য বলেন, ‘আমার মা বাসাবাড়িতে কাজ করে আমাকে বড় করেছেন। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। সরকারের কাছে আমার চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিবেচনার অনুরোধ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কী দোষ? ভাড়া বাসায় জন্মেছি, এটাই কি আমার দোষ? রাষ্ট্র আমার ভোট নিচ্ছে, আমাকে খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে কিন্তু জব দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের কাছে আমার মেধা আর পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার মূল্য বেশি।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ইতোমধ্যে বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, একটা সমাধান হবে।’