ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘হতাশাগ্রস্ত মার্কিনিদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানকে পরাজিত করতে পারবে না’

নতুন করে ইতিহাসের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন হুমকিকে হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের নতুন এই পদক্ষেপও তেহরানকে পরাজিত করতে পারবে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে পুরোনো নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনায় ফিরে যাওয়াই প্রমাণ করে তারা হতাশ হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, তারা সামরিক অভিযান থেকে সরে একই পুরোনো পরিকল্পনা সামনে আনছে। এটি দেখায় যে তারা হতাশ।

প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যেও ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির করে দিয়েছে। অনুমোদনহীন তেলবাহী ট্যাংকারকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে না তেহরান।

বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে এই কার্যত অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।

এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।

আরাগচি বলেন, কোনো সমাধানে পৌঁছাতে হলে ওয়াশিংটনকে ইরানের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে। ন্যায় ও মর্যাদার ভিত্তিতে সমাধান খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা কখনো ভয় পাইনি। তাদের সব পদক্ষেপ হোক তা অবরোধ কিংবা সামরিক অভিযান; ব্যর্থ হয়েছে। তাদের এই নতুন উদ্যোগও ব্যর্থ হবে।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি আগে থেকেই ব্যাপক চাপে রয়েছে। এর মধ্যে দেশটির অবকাঠামোয় একের পর এক হামলা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানকে যে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন।

এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট চীনের প্রতি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনে থাকে চীন। তবে বেইজিং নিষেধাজ্ঞার বদলে কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

‘হতাশাগ্রস্ত মার্কিনিদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানকে পরাজিত করতে পারবে না’

আপডেট সময় : ০৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

নতুন করে ইতিহাসের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন হুমকিকে হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের নতুন এই পদক্ষেপও তেহরানকে পরাজিত করতে পারবে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে পুরোনো নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনায় ফিরে যাওয়াই প্রমাণ করে তারা হতাশ হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, তারা সামরিক অভিযান থেকে সরে একই পুরোনো পরিকল্পনা সামনে আনছে। এটি দেখায় যে তারা হতাশ।

প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যেও ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির করে দিয়েছে। অনুমোদনহীন তেলবাহী ট্যাংকারকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে না তেহরান।

বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে এই কার্যত অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।

এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।

আরাগচি বলেন, কোনো সমাধানে পৌঁছাতে হলে ওয়াশিংটনকে ইরানের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে। ন্যায় ও মর্যাদার ভিত্তিতে সমাধান খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা কখনো ভয় পাইনি। তাদের সব পদক্ষেপ হোক তা অবরোধ কিংবা সামরিক অভিযান; ব্যর্থ হয়েছে। তাদের এই নতুন উদ্যোগও ব্যর্থ হবে।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি আগে থেকেই ব্যাপক চাপে রয়েছে। এর মধ্যে দেশটির অবকাঠামোয় একের পর এক হামলা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানকে যে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন।

এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট চীনের প্রতি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনে থাকে চীন। তবে বেইজিং নিষেধাজ্ঞার বদলে কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স