ঢাকা , শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝুটের দখলযুদ্ধ: অস্ত্রের মহড়া সাংবাদিকের ওপর হামলায় -গ্রেপ্তার ৩

শিল্পকারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও দখলযুদ্ধ নিয়ে বিরোধ শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে অস্ত্রের মহড়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। গাজীপুর মহানগরের গাছার ডেগেরচালায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে সাংবাদিক মো. শরীফ ওমর টুটুলের ওপরও হামলা চালানো হয়। তিনি ছাড়াও আহত হন আরও কয়েকজন। আলোচিত এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গাছা থানা পুলিশ।

ঘটনার ছয় দিন পর বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাছা থানাধীন ডেগেরচালা ফকির মার্কেট এলাকার ইন্ডোসর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি মো. শরীফ ওমর টুটুলকে মাথায় রাম’দা দিয়ে কোপানো হয়।
প্রকাশ্য দিবালোকে শিল্পাঞ্চলে এমন সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যবসায়িক আধিপত্যের সংঘর্ষের মধ্যে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে। কোনো সংঘাত, অনিয়ম কিংবা প্রভাবশালী মহলের কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সংবাদকর্মী হামলার শিকার হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না; স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করে।
বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য ঘিরে সংঘাতের মতো স্পর্শকাতর ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

৬ দিন পর তিনজন গ্রেপ্তার–

ঘটনার পর তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার, অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের দিকনির্দেশনায় ও গাছা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ও গাছা থানার ওসি গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযানে মো. সাজ্জাত (২০), মো. আলমগীর (৪০) ও মো. রঞ্জু আহম্মেদ (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।মামলায় নামীয় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে গ্রেপ্তার তিনজন সংঘর্ষে জড়িত কোন পক্ষের, সেটি এখনই প্রকাশ করতে চাইছে না পুলিশ।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি অপরাধ (দক্ষিণ) মো. শফিকুর রহমান বলেন, “গ্রেপ্তার ৩জন কোন পক্ষের, তদন্তের স্বার্থে এখনই জানাচ্ছি না। আমরা আরও আসামি ধরে নিই, তারপর জানাব।”
তিনজন গ্রেপ্তার হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যরা এখনো পুলিশের অভিযানের বাইরে রয়েছে। গাছা থানার ওসি গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলমান, জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের সংঘর্ষ এবং সেই ঘটনায় একজন সাংবাদিকের আহত হওয়ার পর এখন মূল প্রশ্ন—বাকি জড়িতরা কত দ্রুত আইনের আওতায় আসবে?শিল্পাঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে?

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

ঝুটের দখলযুদ্ধ: অস্ত্রের মহড়া সাংবাদিকের ওপর হামলায় -গ্রেপ্তার ৩

আপডেট সময় : ০৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

শিল্পকারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও দখলযুদ্ধ নিয়ে বিরোধ শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে অস্ত্রের মহড়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। গাজীপুর মহানগরের গাছার ডেগেরচালায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে সাংবাদিক মো. শরীফ ওমর টুটুলের ওপরও হামলা চালানো হয়। তিনি ছাড়াও আহত হন আরও কয়েকজন। আলোচিত এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গাছা থানা পুলিশ।

ঘটনার ছয় দিন পর বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাছা থানাধীন ডেগেরচালা ফকির মার্কেট এলাকার ইন্ডোসর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি মো. শরীফ ওমর টুটুলকে মাথায় রাম’দা দিয়ে কোপানো হয়।
প্রকাশ্য দিবালোকে শিল্পাঞ্চলে এমন সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যবসায়িক আধিপত্যের সংঘর্ষের মধ্যে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে। কোনো সংঘাত, অনিয়ম কিংবা প্রভাবশালী মহলের কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সংবাদকর্মী হামলার শিকার হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না; স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করে।
বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য ঘিরে সংঘাতের মতো স্পর্শকাতর ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

৬ দিন পর তিনজন গ্রেপ্তার–

ঘটনার পর তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার, অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের দিকনির্দেশনায় ও গাছা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ও গাছা থানার ওসি গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযানে মো. সাজ্জাত (২০), মো. আলমগীর (৪০) ও মো. রঞ্জু আহম্মেদ (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।মামলায় নামীয় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে গ্রেপ্তার তিনজন সংঘর্ষে জড়িত কোন পক্ষের, সেটি এখনই প্রকাশ করতে চাইছে না পুলিশ।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি অপরাধ (দক্ষিণ) মো. শফিকুর রহমান বলেন, “গ্রেপ্তার ৩জন কোন পক্ষের, তদন্তের স্বার্থে এখনই জানাচ্ছি না। আমরা আরও আসামি ধরে নিই, তারপর জানাব।”
তিনজন গ্রেপ্তার হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যরা এখনো পুলিশের অভিযানের বাইরে রয়েছে। গাছা থানার ওসি গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলমান, জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের সংঘর্ষ এবং সেই ঘটনায় একজন সাংবাদিকের আহত হওয়ার পর এখন মূল প্রশ্ন—বাকি জড়িতরা কত দ্রুত আইনের আওতায় আসবে?শিল্পাঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে?