তৃণমূলের সম্ভাবনাকে সরাসরি অলিম্পিক-স্বপ্নের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার এক পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশন। ধানমন্ডির রিয়া গোপ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ফেডারেশন, লক্ষ্য- তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান নারী আরচ্যার খুঁজে বের করা।
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়া ও বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এবং বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা স্বাক্ষর করেন চুক্তিপত্রে। পরিকল্পনাটা নিছক কাগুজে নয়। উন্নত কোচিং ফ্যাসিলিটি, প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট আর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ডরমিটরিতে নিরাপদ আবাসনের সুব্যবস্থা রেখেই সাজানো হয়েছে প্রশিক্ষণ কাঠামো। দায়িত্বে থাকবেন দেশের তারকা আরচার বিউটি রায় নিজেই, কোচ হিসেবে। প্রাথমিক লক্ষ্য শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত, উচ্চতা ও শক্তিতে খেলাটির উপযোগী ৫০ জন মেয়েকে বাছাই করা। আরচারি যে রাতারাতি গড়ে তোলার খেলা নয়, সে কথা স্পষ্ট করেই বলেছেন কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল- একজন মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরিতে সর্বনিম্ন তিন বছর সময় লাগে। তার ভাষায়, লক্ষ্যটা আরও অনেক দূরের- ২০৩২ অলিম্পিক গেমসে দেশের জন্য বড় কোনো সাফল্য বয়ে আনা।
প্রশিক্ষণার্থীদের অধিকাংশই স্কুল-কলেজপড়ুয়া বলে পড়াশোনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়ে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা কিংবা পড়ার চাপ কম- এমন সময়েই চলবে কর্মসূচি। মেয়েদের পারিবারিক জীবন ও শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার কথা জানিয়েছেন সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
প্রাথমিক পর্যায়ে টেকনিক্যাল সহায়তা ও ইকুইপমেন্ট জোগান দেবে ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়া ও ফেডারেশন, পরে সাশ্রয়ী মূল্যে যন্ত্রপাতি সরবরাহেরও পরিকল্পনা আছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ধারাবাহিক সাফল্য টিকিয়ে রাখা আর নারী আরচারিতে যে আংশিক শূন্যতা রয়ে গেছে, তা পূরণেই এই যৌথ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

স্পোর্টস ডেস্ক 

























