ঢাকা , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিম-মুরগির দামে স্বস্তি নেই, চড়া মাছের বাজারও নুসরাত ফারিয়ার নতুন চ্যালেঞ্জ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেকে বড় জয় কোমোর, লাইপজিগকে উড়িয়ে দিল ৪-১ গোলে ১ যুদ্ধের শত ক্ষত চট্টগ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় আহত শিশুটিও মারা গেছে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ প্রতিরোধে দরকার সাংস্কৃতিক উদ্যোগ: জামায়াত আমির নিজ আসনে ধর্মীয়-সামাজিক প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান ‘মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী’ সখিপুরে সন্দেহ ভাজন যুবককে ধরিয়ে দিতে পুলিশের পুরস্কার ঘোষণা লালমনিহাট জেলার গাঁজা উবনি হামিদুল ও রাসেল ১৩ কেজি গাঁজাসহ বগুড়ায় গ্রেফতার

খুলশীতে অনলাইন প্রতারণার আস্তানা, ৫ দেশের ৬৩ নাগরিক গ্রেপ্তার




চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীতে একটি বাসায় বসে চলছিল আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণার কার্যক্রম। ওই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এ সময় ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিপুলসংখ্যক ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।

সিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস আগে কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ওই বাড়িটি ভাড়া নেন। বাড়িটির মালিক দুবাইপ্রবাসী। সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন তারা।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অনলাইনভিত্তিক অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু খুলশীর ওই বাসা নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করেও তারা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

সিএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে দেশি-বিদেশি আরও কয়েকজন সহযোগী জড়িত রয়েছেন। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করা কয়েকজন সহযোগী বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, চক্রটি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি, অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ এবং আইনানুগ কর্তৃত্ববহির্ভূত ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অপরাধ করে আসছিল।

অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, একটি প্রিন্টার, একটি কি-বোর্ড ও একটি মাউস জব্দ করা হয়। এছাড়া পাঁচটি পেনড্রাইভ, চারটি সিমকার্ড, তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে চক্রটির অনলাইন কার্যক্রম, অর্থ লেনদেন এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিম-মুরগির দামে স্বস্তি নেই, চড়া মাছের বাজারও

খুলশীতে অনলাইন প্রতারণার আস্তানা, ৫ দেশের ৬৩ নাগরিক গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১১ ঘন্টা আগে

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীতে একটি বাসায় বসে চলছিল আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণার কার্যক্রম। ওই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এ সময় ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিপুলসংখ্যক ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।

সিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস আগে কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ওই বাড়িটি ভাড়া নেন। বাড়িটির মালিক দুবাইপ্রবাসী। সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন তারা।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অনলাইনভিত্তিক অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু খুলশীর ওই বাসা নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করেও তারা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

সিএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে দেশি-বিদেশি আরও কয়েকজন সহযোগী জড়িত রয়েছেন। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করা কয়েকজন সহযোগী বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, চক্রটি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি, অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ এবং আইনানুগ কর্তৃত্ববহির্ভূত ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অপরাধ করে আসছিল।

অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, একটি প্রিন্টার, একটি কি-বোর্ড ও একটি মাউস জব্দ করা হয়। এছাড়া পাঁচটি পেনড্রাইভ, চারটি সিমকার্ড, তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে চক্রটির অনলাইন কার্যক্রম, অর্থ লেনদেন এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।