ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অভিনেত্রী বাঁধনের খোঁজ নিতে বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তার খোঁজে বাংলাদেশ ব্যাংক টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়তে বিসিবিকে জ্যোতির চিঠি ব্যালট রায়ের পর নিজের নিয়োগ দেওয়া বিচারপতিদেরও সমালোচনা করলেন ট্রাম্প প্রবাসে স্বামী টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে উধাও দুই সন্তানের জননী চোরাচালান ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে নিজেরাই চোরাই গরুসহ গ্রেপ্তার কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন এনসিপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া সেই সালাউদ্দিন জাতীয় গ্রিডে বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ সিভিল সার্জনের মোবাইলে চারবার কল, সভা ছেড়ে যেতে বললেন আইনমন্ত্রী জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করলেন হাইকোর্ট

দেশে ফিরে বাঁধনের আক্ষেপ ‘আমার টিমের সদস্যরাও আমাকে বর্জন করেছিল’

  • বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে




ইতালির ভেনিসে চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। দেশে ফিরে তিনি জানিয়েছেন, হামলার পর ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তার সিনেমার টিমের সদস্যরা তাকে একরকম বর্জন করেছিলেন। এমনকি পরবর্তী সময়ে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাকে নিষেধ করা হয় বলে দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাঁধন।

রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন বাঁধন। গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন অভিনেত্রী।

হামলার পর ভেনিসে কী ধরনের সহযোগিতা পেয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বাঁধন বলেন, ‘ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর, ইতালি সরকার, আমাদের দেশের সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস আমাকে সাপোর্ট করেছে, সাহায্য করেছে।’

তবে নিজের সিনেমার টিমের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার আক্ষেপ করে বাঁধন বলেন, ‘কিন্তু আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন (বর্জন) করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তাদের সঙ্গে অংশ নিতে নিষেধ করেছে। এমনকি পরবর্তীতে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।’

তবে সহশিল্পীদের মধ্যে কয়েকজন তার পাশে ছিলেন বলে জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমার কো-অ্যাক্টরদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা আমাকে খুবই সাহায্য করেছেন।’

হামলার পর পাওয়া নিরাপত্তার কথা তুলে ধরে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। ঘটনার দিন রাতেই সরকারি দপ্তর থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।’

ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর ভাইয়া প্রচণ্ড সাপোর্টিভ ছিলেন। ইতালি সরকার, ওখানকার কালচারাল মিনিস্টার, আন্ডার সেক্রেটারি এবং পুলিশ ডিপার্টমেন্ট প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা প্রোটেকশন দিয়েছে।’

নিরাপত্তার কারণে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক তাকে লিডোতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

দেশে ফিরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। দেশের মানুষ, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিরোধী ও সরকারি দলের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাঙালিরা যে সাপোর্ট দিয়েছেন, তা আমি কখনো ভুলতে পারব না।’

যারা গরমের মধ্যে তাকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান অভিনেত্রী।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাঁধনের ওপর হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী বাঁধনের খোঁজ নিতে বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

দেশে ফিরে বাঁধনের আক্ষেপ ‘আমার টিমের সদস্যরাও আমাকে বর্জন করেছিল’

আপডেট সময় : ১১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালির ভেনিসে চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। দেশে ফিরে তিনি জানিয়েছেন, হামলার পর ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তার সিনেমার টিমের সদস্যরা তাকে একরকম বর্জন করেছিলেন। এমনকি পরবর্তী সময়ে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাকে নিষেধ করা হয় বলে দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাঁধন।

রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন বাঁধন। গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন অভিনেত্রী।

হামলার পর ভেনিসে কী ধরনের সহযোগিতা পেয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বাঁধন বলেন, ‘ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর, ইতালি সরকার, আমাদের দেশের সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস আমাকে সাপোর্ট করেছে, সাহায্য করেছে।’

তবে নিজের সিনেমার টিমের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার আক্ষেপ করে বাঁধন বলেন, ‘কিন্তু আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন (বর্জন) করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তাদের সঙ্গে অংশ নিতে নিষেধ করেছে। এমনকি পরবর্তীতে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।’

তবে সহশিল্পীদের মধ্যে কয়েকজন তার পাশে ছিলেন বলে জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমার কো-অ্যাক্টরদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা আমাকে খুবই সাহায্য করেছেন।’

হামলার পর পাওয়া নিরাপত্তার কথা তুলে ধরে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। ঘটনার দিন রাতেই সরকারি দপ্তর থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।’

ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর ভাইয়া প্রচণ্ড সাপোর্টিভ ছিলেন। ইতালি সরকার, ওখানকার কালচারাল মিনিস্টার, আন্ডার সেক্রেটারি এবং পুলিশ ডিপার্টমেন্ট প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা প্রোটেকশন দিয়েছে।’

নিরাপত্তার কারণে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক তাকে লিডোতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

দেশে ফিরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। দেশের মানুষ, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিরোধী ও সরকারি দলের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাঙালিরা যে সাপোর্ট দিয়েছেন, তা আমি কখনো ভুলতে পারব না।’

যারা গরমের মধ্যে তাকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান অভিনেত্রী।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়। সেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাঁধনের ওপর হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।