২০১১ সালের ৬ জুন প্রশাসনিকভাবে উপজেলা হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার পর ২০১২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী। দীর্ঘদিনের দাবি ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট নিরসনে রাঙ্গাবালীতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উপজেলার মানুষের জন্য এখনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল চালু হয়নি।
হাসপাতাল ভবনের প্রথম লটের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল। দ্বিতীয় লটে নার্স ডরমেটরি, সাবস্টেশন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনার কার্যাদেশ দেওয়া হয় একই বছরের ৪ মে।
এরপর ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু হলেও প্রকল্পের এক বছরের কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২৪ সালের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। কাজ বন্ধ হওয়ার সময় প্রথম লটের অগ্রগতি ছিল মাত্র ৫৩ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় লটের অগ্রগতি ছিল ৫৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন হাসপাতালের অবকাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও তা এখনো রাঙ্গাবালীর মানুষের চিকিৎসাসেবায় ব্যবহারের উপযোগী হয়নি। প্রায় দুই লাখ মানুষের এই উপজেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
ভৌগোলিকভাবে নদী-খালবেষ্টিত ও মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিতে হলে অনেক সময় স্পিডবোট, ট্রলার বা অন্যান্য নৌযানের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় জরুরি রোগী পরিবহন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রসূতি মা, নবজাতক, দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তি, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অনেক রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং কখনো কখনো মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হয়। প্রায় দুই লাখ মানুষের জন্য এমন স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেন প্রকল্পটি পুনরায় সচল হয়নি।
একটি হাসপাতাল শুধু একটি ভবন নয়; এটি জরুরি মুহূর্তে মানুষের জীবন বাঁচানোর অন্যতম প্রধান আশ্রয়। তাই রাঙ্গাবালীর মানুষের দাবি, বন্ধ থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণকাজ দ্রুত পুনরায় শুরু করে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্স ও জনবল নিয়োগ, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক।
নদী পেরিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়—এমন একটি উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের জন্য একটি কার্যকর ৫০ শয্যার হাসপাতাল বিলাসিতা নয়; বরং মৌলিক অধিকার ও জীবন রক্ষার প্রয়োজন।

স্টাফ রিপোর্টার : মেহেদী হাসান 



















