ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাটমোহর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ‎‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব’—রংপুরে শফিকুর রহমান শিবগঞ্জে সাদুরিয়া মাদ্রাসার শতাধিক গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, তীব্র নিন্দা বাগমারায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত চাটমোহরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু বাগমারা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃত্বে মোহন-সুজন, ভোটে নির্ধারিত নতুন কমিটি বগুড়া শাজাহানপুরে নারিল্যা খাজাবাবা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন একজন আলোকিত মানুষ মোহাম্মদ আমীর হামজা সিকদার জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প বন্ধের দাবিতে চাটমোহরে মানববন্ধন

‎‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব’—রংপুরে শফিকুর রহমান




গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

‎শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শেষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‎জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

‎সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতেই তারা রাজপথে নেমেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার কথাও জানান তিনি।

‎তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে যে পরিবর্তন এসেছে, এর পেছনে যারা অবদান রেখেছেন তাদের অবদান ভুলে যাওয়া উচিত নয়। রংপুরের আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের কথাও বক্তব্যে স্মরণ করেন তিনি।

‎গণভোটের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে ৬৯ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে গণভোটের বিষয়ে তাদের মতামত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের দলও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ছিল।

‎উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘তিস্তা বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।’ উত্তরাঞ্চলের মানুষ শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‎সরকারের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি সৎ শাসনের উদাহরণ তৈরির আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্ম, বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে সবার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেন।

‎সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

‎সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

‎বিকেল ৫টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। জিলা স্কুল মাঠে জায়গা না হওয়ায় আশপাশের সড়কেও মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। লংমার্চের যানবাহন ও জনসমাগমের কারণে নগরীর কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

‎এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও সমাবেশ শেষে রাতে রংপুরে এসে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

চাটমোহর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

‎‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব’—রংপুরে শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ৭ ঘন্টা আগে

গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

‎শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শেষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‎জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

‎সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতেই তারা রাজপথে নেমেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার কথাও জানান তিনি।

‎তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে যে পরিবর্তন এসেছে, এর পেছনে যারা অবদান রেখেছেন তাদের অবদান ভুলে যাওয়া উচিত নয়। রংপুরের আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের কথাও বক্তব্যে স্মরণ করেন তিনি।

‎গণভোটের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে ৬৯ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে গণভোটের বিষয়ে তাদের মতামত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের দলও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ছিল।

‎উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘তিস্তা বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।’ উত্তরাঞ্চলের মানুষ শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‎সরকারের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি সৎ শাসনের উদাহরণ তৈরির আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্ম, বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে সবার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেন।

‎সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

‎সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

‎বিকেল ৫টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। জিলা স্কুল মাঠে জায়গা না হওয়ায় আশপাশের সড়কেও মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। লংমার্চের যানবাহন ও জনসমাগমের কারণে নগরীর কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

‎এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও সমাবেশ শেষে রাতে রংপুরে এসে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।