ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিএনসির অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ ৬ শতাধিক কর্মী নিয়োগ দেবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আবেদন যেভাবে আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার তাগিদ রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিপুল ব্যবহারকারীর কারণে ঢাকায় অফিস খুলতে চায় মেটা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পলাতক ফ্যাসিস্ট দেশকে অস্থিতিশীল করতে কলকাঠি নাড়ছে: রিজভী রূপকথার ‘প্রাণভোমরা’ এবার আইস্ক্রিনে, তৌসিফের সঙ্গে নতুন মুখ শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ ব্যাটারি চালিত রিকশার রোড পারমিট ও ১০ দফা দাবিতে দুই সিটি কর্পোরেশনে স্মারকলিপি পেশ রশিদকে সরিয়ে প্রথমবার এক নম্বরে পাকিস্তানের আবরার শেষ মুহূর্তে কপাল খুলল রহস্য স্পিনার আলিসের

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী




বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যাতে মূল্যস্ফীতি না বাড়ে এবং পণ্যের সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন তৈরি না হয় সে জন্য সরকার সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়েজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সরবরাহব্যবস্থার কোথাও অসংগতি তৈরি হলে তার প্রভাব পণ্যের দামে পড়তে পারে। সরকার এসব জায়গা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে সরকার নির্ধারিতভাবে দাম সমন্বয় করায় মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মানুষের কাছে আলাদাভাবে দৃশ্যমান হয়।

মন্ত্রী বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে যেন অন্য পণ্যের ওপর প্রভাব না আসে এবং মূল্যস্ফীতি না বাড়ে, সে জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার কাজ করছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এমন একটি বিষয়, যার প্রভাব এক খাত থেকে অন্য খাতে যেতে পারে। তাই সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, দুই দিন আগেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমদানিকারক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে একটি বড় সভা হয়েছে। সেখানে পণ্য আমদানি, পরিবহন ও বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে কোথায় কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অসংগতিগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করার মাধ্যমে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য অভিঘাত সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার চায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হোক। সে লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি গ্যাস সরবরাহের সংকটও কেটে গেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছুদিন সমস্যা হলেও এখন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে চিনি ও সয়াবিন তেলসহ আমদানি করা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেশে প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলোও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে।

তিনি বলেন, চিনি ও সয়াবিনসহ যেসব আমদানি করা পণ্য দেশে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, সেসব কারখানা এখন পূর্ণ উদ্যমে কাজ করছে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহে বড় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এছাড়া মূল্য ইনশাআল্লাহ স্থিতিশীল থাকবে এবং মূল্যের ওপর সেরকম লক্ষণীয় কোনো অভিঘাত ইনশাআল্লাহ আসবে না।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে বিশ্বের অনেক দেশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানীয় বাজারে তার প্রভাব পড়ে। অনেক দেশে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়লে স্থানীয় বাজারের মূল্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হয়। বাংলাদেশে সরকার জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে বলে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মানুষের কাছে সরাসরি অনুভূত হয়।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যাতে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যৌথ উদ্যোগে বাজার তদারকি আরও নিবিড় ও কঠোর করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন সজাগ রয়েছে।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

ডিএনসির অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যাতে মূল্যস্ফীতি না বাড়ে এবং পণ্যের সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন তৈরি না হয় সে জন্য সরকার সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়েজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সরবরাহব্যবস্থার কোথাও অসংগতি তৈরি হলে তার প্রভাব পণ্যের দামে পড়তে পারে। সরকার এসব জায়গা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে সরকার নির্ধারিতভাবে দাম সমন্বয় করায় মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মানুষের কাছে আলাদাভাবে দৃশ্যমান হয়।

মন্ত্রী বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে যেন অন্য পণ্যের ওপর প্রভাব না আসে এবং মূল্যস্ফীতি না বাড়ে, সে জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার কাজ করছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এমন একটি বিষয়, যার প্রভাব এক খাত থেকে অন্য খাতে যেতে পারে। তাই সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, দুই দিন আগেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমদানিকারক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে একটি বড় সভা হয়েছে। সেখানে পণ্য আমদানি, পরিবহন ও বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে কোথায় কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অসংগতিগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করার মাধ্যমে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য অভিঘাত সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার চায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হোক। সে লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি গ্যাস সরবরাহের সংকটও কেটে গেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এফএসআরইউতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছুদিন সমস্যা হলেও এখন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে চিনি ও সয়াবিন তেলসহ আমদানি করা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেশে প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলোও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে।

তিনি বলেন, চিনি ও সয়াবিনসহ যেসব আমদানি করা পণ্য দেশে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, সেসব কারখানা এখন পূর্ণ উদ্যমে কাজ করছে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহে বড় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এছাড়া মূল্য ইনশাআল্লাহ স্থিতিশীল থাকবে এবং মূল্যের ওপর সেরকম লক্ষণীয় কোনো অভিঘাত ইনশাআল্লাহ আসবে না।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে বিশ্বের অনেক দেশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানীয় বাজারে তার প্রভাব পড়ে। অনেক দেশে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়লে স্থানীয় বাজারের মূল্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হয়। বাংলাদেশে সরকার জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে বলে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মানুষের কাছে সরাসরি অনুভূত হয়।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যাতে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যৌথ উদ্যোগে বাজার তদারকি আরও নিবিড় ও কঠোর করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন সজাগ রয়েছে।