শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে নানা ধরনের তেল ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে মোরিঙ্গা অয়েল (Moringa oil) বা সজনে বীজের তেলও বেশ জনপ্রিয়। হালকা ধরনের এই তেল ত্বকে সহজে মিশে যায় বলে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের যত্নেও ভূমিকা রাখতে পারে।
মোরিঙ্গা অয়েল তৈরি হয় সজনে (Moringa oleifera) গাছের বীজ থেকে। সজনে গাছের পাতা, ফল, বীজসহ বিভিন্ন অংশের পুষ্টিগুণের কারণে গাছটিকে অনেক সময় ‘মিরাকল ট্রি’ বলা হয়। তবে ত্বকের যত্নে বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয় এর বীজ থেকে পাওয়া তেল। ত্বক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মোরিঙ্গা অয়েলে থাকা ওলেইক অ্যাসিড ত্বকে আর্দ্রতা জোগাতে সাহায্য করে।
ত্বকের জন্য মোরিঙ্গা অয়েল কতটা উপকারী?
মোরিঙ্গা অয়েলে ফ্যাটি অ্যাসিড ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি এতে ভিটামিন এ, সি ও ই থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব উপাদান ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ফ্রি র্যাডিক্যালের কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে ত্বককে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।
মোরিঙ্গা অয়েলে ফ্যাটি অ্যাসিড ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি এতে ভিটামিন এ, সি ও ই থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব উপাদান ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ফ্রি র্যাডিক্যালের কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে ত্বককে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।
ত্বক যখন শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ দেখায়, তখন মোরিঙ্গা অয়েল ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখতে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় মোরিঙ্গা অয়েলের উপাদান ত্বকের গঠন ও টোনের ওপর সম্ভাব্য উপকারের কথাও উঠে এসেছে।
তৈলাক্ত ত্বকে কি ব্যবহার করা যায়?
অনেকে মনে করেন, মুখে তেল ব্যবহার করলে তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তবে মোরিঙ্গা অয়েলের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা হতে পারে।
ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. শিবানী যাদব জানান, মোরিঙ্গা অয়েলে থাকা ওলেইক অ্যাসিড ত্বকে আর্দ্রতা জোগাতে পারে, তবে অতিরিক্ত ভারী অনুভূতি তৈরি না-ও করতে পারে। তাই শুষ্ক, সংবেদনশীল ও কম্বিনেশন স্কিনসহ বিভিন্ন ধরনের ত্বকে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে ত্বকের ধরন একেকজনের একেক রকম। বিশেষ করে যাদের ত্বক খুব তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ, তারা মুখে নিয়মিত ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নিতে পারেন।
মোরিঙ্গা অয়েল কি কোলাজেন বাড়ায়?
কোলাজেন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। মোরিঙ্গা অয়েল কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে পারে বলে কিছু উৎসে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবিকে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করার মতো শক্তিশালী মানব-গবেষণা সীমিত।
একটি গবেষণায় মানসিক চাপের সঙ্গে কোলাজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর ভিত্তিতে মোরিঙ্গা অয়েল সরাসরি কোলাজেন বাড়িয়ে দেয়, এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
মোরিঙ্গা অয়েল ব্যবহারের আগে ত্বক পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। অল্প কয়েক ফোঁটা তেল নিয়ে মুখে বা প্রয়োজনীয় স্থানে হালকা হাতে লাগানো যেতে পারে। নতুন কোনো ত্বক-যত্নের উপাদান ব্যবহারের আগে হাতে বা ত্বকের ছোট অংশে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া নিরাপদ।
ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব, চুলকানি বা অন্যকোনো অস্বস্তি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
মোরিঙ্গা অয়েল ত্বককে আর্দ্র ও নরম রাখতে সহায়ক হতে পারে, তবে এটিকে ত্বকের সব সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক পরিচর্যাই সুস্থ ত্বকের মূল ভিত্তি।
সূত্র: হেলথ শটস

চলনবিলের সময় ডেস্ক 























