ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বগুড়ায় শিবগঞ্জ উপজেলা প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত বৃদ্ধার মৃত্যু গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বিকল্প পরিকল্পনা দিন, বিরোধী দলকে রিজভী সনাতনীদের ‘ভোট ব্যাংক’ ভাবার ধারণা ভেঙে দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালেকের মৃত্যু ঘিরে হামলা-মামলা: সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অপূর্বই ‘বাংলাদেশের উত্তম কুমার’, বললেন মহানায়কের ভাতিজি এলএনজি আমদানিতে স্পট মার্কেটেই ভরসা, বাড়ছে ব্যয় ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ বয়স জালিয়াতি করে বিশ্বকাপ জয়, নিষিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটার তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দিল্লির বার্তা, ‘নতুন তথ্য নেই’ মোকামতলা উপজেলায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

অপূর্বই ‘বাংলাদেশের উত্তম কুমার’, বললেন মহানায়কের ভাতিজি




একজন কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনা—অভিনয়জীবনে এর চেয়ে বড় প্রশংসা আর কী হতে পারে! আর সেই তুলনাই যখন আসে স্বয়ং মহানায়ক উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে, তখন তা ঘিরে আলোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বকে এবার ‘বাংলাদেশের উত্তম কুমার’ বলে অভিহিত করেছেন প্রয়াত মহানায়ক উত্তম কুমারের ভাতিজি ঝিমলি ব্যানার্জি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপূর্বর একটি পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে এমন অভিব্যক্তি জানান ঝিমলি। তার সেই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। তবে আবেগের বশে নয়, অপূর্বর অভিনয় দীর্ঘদিন ধরে দেখার পরই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন।

অপূর্বর পোস্টে ঝিমলি লিখেছিলেন, ‘তুমি অনেক দূর যাবে। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুক। তুমি বাংলাদেশের উত্তম কুমার।’

এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমকে ঝিমলি জানান, গত কয়েক মাস ধরে অপূর্বর নাটক, বিভিন্ন চরিত্র এবং সাক্ষাৎকার নিয়মিত দেখছেন তিনি। শুধু একবার-দুবার নয়, কোনো কোনো কাজ পুনরায় দেখেছেন। আর সেখান থেকেই অভিনেতার প্রতি তার মুগ্ধতা তৈরি হয়েছে।

ঝিমলি ব্যানার্জি বলেন, ‘উত্তম কুমার আমার জ্যাঠা, তার ভাই অভিনেতা তরুণ কুমারের মেয়ে আমি। যে মন্তব্যটা দেখেছেন সেটা আমি করেছিলাম। আমার বয়স ৬০-এর বেশি। একটুও কম কিছু লিখিনি। বরং অপূর্বর কাজ দেখার পর থেকে মনে হচ্ছে কম লিখেছি।’

অপূর্বর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অপূর্বকে আমি ছোট ভাইয়ের মতো মনে করি। বিগত কয়েক মাস থেকে ওর সব কাজ আমার দেখা হচ্ছে। এমনও হয় রিপিট করে দেখি। তখন থেকেই ওর কাজের প্রেমে পড়ে যাই। আমি ওর সমস্তটা খুঁটিয়ে দেখেছি। ওর গলায় একটা দাগ আছে সেটাও দেখেছি। প্রতিটি চরিত্র সে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। বেশ কিছুদিন ধরে অপূর্বর সব ইন্টারভিউ দেখে বুঝেছি ওর সোল খুব ভালো, যেটা উত্তম কুমারের মধ্যে ছিল।’

অপূর্বর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার দেখেও তার প্রতি আলাদা এক ধরনের শ্রদ্ধা তৈরি হয়েছে বলে জানান ঝিমলি। তার মতে, অভিনেতার ভেতরে যে মানবিকতা ও আন্তরিকতা রয়েছে, সেটির সঙ্গে উত্তম কুমারের স্বভাবের মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি। তার কথায়, ‘বেশ কিছুদিন ধরে অপূর্বর সব ইন্টারভিউ দেখে বুঝেছি ওর সোল খুব ভালো, যেটা উত্তম কুমারের মধ্যে ছিল।’

শুধু অভিনয় কিংবা ব্যক্তিত্ব নয়, অপূর্বর চোখের অভিব্যক্তিতেও মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে মিল দেখেছেন ঝিমলি। একই সঙ্গে সহশিল্পীদের প্রতি অপূর্বর যত্নশীল আচরণও তাকে মুগ্ধ করেছে। ঝিমলি বলেন, ‘অপূর্বর চোখের ভাষাতেও মিল আছে। উত্তম কুমার শুধু নিজের কাজের মনোযোগী ছিলেন না, তার সঙ্গে যে কাজ করতেন তার প্রতিও কেয়ারিং ছিলেন। অপূর্বর সঙ্গে যে হিরোইন কাজ করছে সেও দেখলাম ইন্টারভিউতে বলছে, অপূর্ব থাকলে অর্ধেক চিন্তা দূর হয়ে যায়। আমার বিশ্বাস অপূর্ব অনেকদূর যাবে। ও ভালো গাইতেও পারে। ইন্টারভিউতে বলেছে সে গাইতে গিয়ে নার্ভাস ছিল। আমি বললাম ও জয় করে এসেছে। আরো বলতে চাই, ও যেন গান না ছাড়ে।’

এত প্রশংসার পর অপূর্বর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন ঝিমলি। মুখোমুখি বসে তার সঙ্গে কথা বলতে চান তিনি।

ঝিমলি বলেন, ‘আমি অপূর্বর সঙ্গে সামনাসামনি একবার দেখা করতে চাই। ওর সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমার কথাগুলো যদি ও শোনে, তাহলে হয়তো বলবে, কোথায় মহানায়ক আর কোথায় আমি! কিন্তু আমি একজন শিল্পীর মেয়ে। আমার জ্যাঠা উত্তম কুমার, আমার মা-ও অভিনয় করত, বাবা তরুণ কুমার। আমার রক্তে শিল্প বইছে। আমার সন্তান সৌরভ ব্যানার্জি, সে সিরিয়ালের কাজ করছে। আমি ভুল কিছু বলিনি। উত্তম কুমারের বাড়িতে বসেই কথাগুলো বলছি।’

এদিকে, মহানায়ক উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে এমন তুলনা শুনে কিছুটা বিস্মিতই হয়েছেন অপূর্ব। নিজের অভিনয়কে উত্তম কুমারের সঙ্গে তুলনা করার মতো অবস্থানে নিজেকে ভাবতে নারাজ এই অভিনেতা।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অপূর্ব বলেন, ‘এই বিষয়ে মন্তব্য করার যোগ্যতা আমার নেই। এমন মন্তব্য আমার কাছে কল্পনাতীত মনে হয়। যিনি মন্তব্য করেছেন, হয়তো ভালোবেসে এবং স্নেহ করে বলেছেন। আমি মনে করি, এই বিষয় নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা আমার কোনোদিনও হবে না।’

অপূর্বর এই প্রতিক্রিয়ায়ও ফুটে উঠেছে তার বিনয়। একদিকে উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া এমন প্রশংসা যেমন তার জন্য বড় স্বীকৃতি, অন্যদিকে কিংবদন্তি অভিনেতার সঙ্গে তুলনাটিকে নিজের জন্য কোনো অর্জনের চেয়ে বড় এক সম্মান ও দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন তিনি।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

বগুড়ায় শিবগঞ্জ উপজেলা প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত বৃদ্ধার মৃত্যু

অপূর্বই ‘বাংলাদেশের উত্তম কুমার’, বললেন মহানায়কের ভাতিজি

আপডেট সময় : ১২ ঘন্টা আগে

একজন কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনা—অভিনয়জীবনে এর চেয়ে বড় প্রশংসা আর কী হতে পারে! আর সেই তুলনাই যখন আসে স্বয়ং মহানায়ক উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে, তখন তা ঘিরে আলোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বকে এবার ‘বাংলাদেশের উত্তম কুমার’ বলে অভিহিত করেছেন প্রয়াত মহানায়ক উত্তম কুমারের ভাতিজি ঝিমলি ব্যানার্জি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপূর্বর একটি পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে এমন অভিব্যক্তি জানান ঝিমলি। তার সেই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। তবে আবেগের বশে নয়, অপূর্বর অভিনয় দীর্ঘদিন ধরে দেখার পরই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন।

অপূর্বর পোস্টে ঝিমলি লিখেছিলেন, ‘তুমি অনেক দূর যাবে। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুক। তুমি বাংলাদেশের উত্তম কুমার।’

এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমকে ঝিমলি জানান, গত কয়েক মাস ধরে অপূর্বর নাটক, বিভিন্ন চরিত্র এবং সাক্ষাৎকার নিয়মিত দেখছেন তিনি। শুধু একবার-দুবার নয়, কোনো কোনো কাজ পুনরায় দেখেছেন। আর সেখান থেকেই অভিনেতার প্রতি তার মুগ্ধতা তৈরি হয়েছে।

ঝিমলি ব্যানার্জি বলেন, ‘উত্তম কুমার আমার জ্যাঠা, তার ভাই অভিনেতা তরুণ কুমারের মেয়ে আমি। যে মন্তব্যটা দেখেছেন সেটা আমি করেছিলাম। আমার বয়স ৬০-এর বেশি। একটুও কম কিছু লিখিনি। বরং অপূর্বর কাজ দেখার পর থেকে মনে হচ্ছে কম লিখেছি।’

অপূর্বর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অপূর্বকে আমি ছোট ভাইয়ের মতো মনে করি। বিগত কয়েক মাস থেকে ওর সব কাজ আমার দেখা হচ্ছে। এমনও হয় রিপিট করে দেখি। তখন থেকেই ওর কাজের প্রেমে পড়ে যাই। আমি ওর সমস্তটা খুঁটিয়ে দেখেছি। ওর গলায় একটা দাগ আছে সেটাও দেখেছি। প্রতিটি চরিত্র সে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। বেশ কিছুদিন ধরে অপূর্বর সব ইন্টারভিউ দেখে বুঝেছি ওর সোল খুব ভালো, যেটা উত্তম কুমারের মধ্যে ছিল।’

অপূর্বর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার দেখেও তার প্রতি আলাদা এক ধরনের শ্রদ্ধা তৈরি হয়েছে বলে জানান ঝিমলি। তার মতে, অভিনেতার ভেতরে যে মানবিকতা ও আন্তরিকতা রয়েছে, সেটির সঙ্গে উত্তম কুমারের স্বভাবের মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি। তার কথায়, ‘বেশ কিছুদিন ধরে অপূর্বর সব ইন্টারভিউ দেখে বুঝেছি ওর সোল খুব ভালো, যেটা উত্তম কুমারের মধ্যে ছিল।’

শুধু অভিনয় কিংবা ব্যক্তিত্ব নয়, অপূর্বর চোখের অভিব্যক্তিতেও মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে মিল দেখেছেন ঝিমলি। একই সঙ্গে সহশিল্পীদের প্রতি অপূর্বর যত্নশীল আচরণও তাকে মুগ্ধ করেছে। ঝিমলি বলেন, ‘অপূর্বর চোখের ভাষাতেও মিল আছে। উত্তম কুমার শুধু নিজের কাজের মনোযোগী ছিলেন না, তার সঙ্গে যে কাজ করতেন তার প্রতিও কেয়ারিং ছিলেন। অপূর্বর সঙ্গে যে হিরোইন কাজ করছে সেও দেখলাম ইন্টারভিউতে বলছে, অপূর্ব থাকলে অর্ধেক চিন্তা দূর হয়ে যায়। আমার বিশ্বাস অপূর্ব অনেকদূর যাবে। ও ভালো গাইতেও পারে। ইন্টারভিউতে বলেছে সে গাইতে গিয়ে নার্ভাস ছিল। আমি বললাম ও জয় করে এসেছে। আরো বলতে চাই, ও যেন গান না ছাড়ে।’

এত প্রশংসার পর অপূর্বর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন ঝিমলি। মুখোমুখি বসে তার সঙ্গে কথা বলতে চান তিনি।

ঝিমলি বলেন, ‘আমি অপূর্বর সঙ্গে সামনাসামনি একবার দেখা করতে চাই। ওর সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমার কথাগুলো যদি ও শোনে, তাহলে হয়তো বলবে, কোথায় মহানায়ক আর কোথায় আমি! কিন্তু আমি একজন শিল্পীর মেয়ে। আমার জ্যাঠা উত্তম কুমার, আমার মা-ও অভিনয় করত, বাবা তরুণ কুমার। আমার রক্তে শিল্প বইছে। আমার সন্তান সৌরভ ব্যানার্জি, সে সিরিয়ালের কাজ করছে। আমি ভুল কিছু বলিনি। উত্তম কুমারের বাড়িতে বসেই কথাগুলো বলছি।’

এদিকে, মহানায়ক উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে এমন তুলনা শুনে কিছুটা বিস্মিতই হয়েছেন অপূর্ব। নিজের অভিনয়কে উত্তম কুমারের সঙ্গে তুলনা করার মতো অবস্থানে নিজেকে ভাবতে নারাজ এই অভিনেতা।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অপূর্ব বলেন, ‘এই বিষয়ে মন্তব্য করার যোগ্যতা আমার নেই। এমন মন্তব্য আমার কাছে কল্পনাতীত মনে হয়। যিনি মন্তব্য করেছেন, হয়তো ভালোবেসে এবং স্নেহ করে বলেছেন। আমি মনে করি, এই বিষয় নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা আমার কোনোদিনও হবে না।’

অপূর্বর এই প্রতিক্রিয়ায়ও ফুটে উঠেছে তার বিনয়। একদিকে উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া এমন প্রশংসা যেমন তার জন্য বড় স্বীকৃতি, অন্যদিকে কিংবদন্তি অভিনেতার সঙ্গে তুলনাটিকে নিজের জন্য কোনো অর্জনের চেয়ে বড় এক সম্মান ও দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন তিনি।