ঢাকা , সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে পরিবেশ-জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান বনমন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণের কাছে চাঁদ’, এমপি মনিরুলের মন্তব্যের জবাব দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস হতে পারে না: রাষ্ট্রপতি জামায়াত আমিরকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন ছাত্রদল নেতা, ভিডিও ভাইরাল উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক যাচ্ছেন জুবাইদা রহমানের মা তিন দশক পরও অমলিন সালমানের স্মৃতি, বললেন মৌসুমী চা চাষ বৃদ্ধির নীতিমালা মানছেন না মালিকরা ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, জানা গেল ১৯ অস্ত্রধারীর পরিচয় বগুড়া মাটিডালিতে মোকসেদকে গুলিও ছুরিগাঘাতে আহত করার ঘটনায় ২ জন গ্রেফতার! “জীবন দেব, তবু তিন ফসলি জমি দেব না” শিবগঞ্জে উপজেলার সাদুরিয়া গ্রামবাসীর মানববন্ধন

ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, জানা গেল ১৯ অস্ত্রধারীর পরিচয়




ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল নেতা কর্তৃক শিবির নেতাকে থাপ্পড় দেওয়ার জেরে গত শনিবার দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল প্রধান ফটকে অবস্থান নিলে তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধারালো দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দিতে দেখা গেছে। উক্ত ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৯ জন অস্ত্রধারীর পরিচয় পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারসহ বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ৭২ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন জমা হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অস্ত্রধারীদের মধ্যে ছিল পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার, যুবদলের হামিম, সানওয়ার ও রাজিব, পদমদির ইমন বিশ্বাস, শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান খন্দকারের ছেলে সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, শেখপাড়ার জিম মন্ডল, নিবিড় মন্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ ও রাতুল জোর্দার, জিবলু ডেকোরেটর দোকানের মালিকের ছেলে সোহাগ, ডিএম কলেজ ছাত্রদল সেক্রেটারি হৃদয়, মদনডাঙা হাই স্কুলের এসএসসি ২৬ ব্যাচের রাইসুল (পদমদি) এবং ১০ম শ্রেণির মিকদাদ (চরশান্তিডাঙা)।

এদিকে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকসহ সব প্রবেশ পথে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অবগত করে শনিবার মধ্যরাত থেকে ক্যাম্পাসে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া হলগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা গেছে, বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে। প্রক্টরিয়াল বডি শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেখে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে। সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে এদিন ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের কোনো তৎপরতা দেখা না গেলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দলীয় টেন্টে আড্ডা দিতে দেখা যায়। অন্যদিকে প্রধান ফটকে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থানের পাশাপাশি মোটরসাইকেল শোডাউন চলতে দেখা গেছে। এসময় তারা জামায়াত-শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘কাজ শুরু করেছি। ঘটনার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট সকল জায়গায় চিঠি দিয়েছি। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হবে।’

সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘গতকাল রাতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস টহল দেওয়া হয়েছে। আজ নিরাপত্তা জোরদার এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাস ও হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বৈধ পরিচয়পত্র বা হল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কেউ হলে অবস্থান করতে পারবে না। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি কাজ করছে।’

গতকালের ঘটনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপাচার্য বলেন, ‘প্রশাসন সবসময় কঠোর ও সচেতন রয়েছে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ক্যাম্পাসকে নিরাপদ ও শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে প্রশাসন সবসময় সচেতন রয়েছে।’

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে পরিবেশ-জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান বনমন্ত্রীর

ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, জানা গেল ১৯ অস্ত্রধারীর পরিচয়

আপডেট সময় : ১৬ ঘন্টা আগে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল নেতা কর্তৃক শিবির নেতাকে থাপ্পড় দেওয়ার জেরে গত শনিবার দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল প্রধান ফটকে অবস্থান নিলে তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধারালো দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দিতে দেখা গেছে। উক্ত ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৯ জন অস্ত্রধারীর পরিচয় পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারসহ বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ৭২ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন জমা হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অস্ত্রধারীদের মধ্যে ছিল পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার, যুবদলের হামিম, সানওয়ার ও রাজিব, পদমদির ইমন বিশ্বাস, শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান খন্দকারের ছেলে সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, শেখপাড়ার জিম মন্ডল, নিবিড় মন্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ ও রাতুল জোর্দার, জিবলু ডেকোরেটর দোকানের মালিকের ছেলে সোহাগ, ডিএম কলেজ ছাত্রদল সেক্রেটারি হৃদয়, মদনডাঙা হাই স্কুলের এসএসসি ২৬ ব্যাচের রাইসুল (পদমদি) এবং ১০ম শ্রেণির মিকদাদ (চরশান্তিডাঙা)।

এদিকে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকসহ সব প্রবেশ পথে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অবগত করে শনিবার মধ্যরাত থেকে ক্যাম্পাসে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া হলগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা গেছে, বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে। প্রক্টরিয়াল বডি শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেখে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে। সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে এদিন ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের কোনো তৎপরতা দেখা না গেলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দলীয় টেন্টে আড্ডা দিতে দেখা যায়। অন্যদিকে প্রধান ফটকে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থানের পাশাপাশি মোটরসাইকেল শোডাউন চলতে দেখা গেছে। এসময় তারা জামায়াত-শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘কাজ শুরু করেছি। ঘটনার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট সকল জায়গায় চিঠি দিয়েছি। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হবে।’

সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘গতকাল রাতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস টহল দেওয়া হয়েছে। আজ নিরাপত্তা জোরদার এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাস ও হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বৈধ পরিচয়পত্র বা হল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কেউ হলে অবস্থান করতে পারবে না। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি কাজ করছে।’

গতকালের ঘটনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপাচার্য বলেন, ‘প্রশাসন সবসময় কঠোর ও সচেতন রয়েছে। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ক্যাম্পাসকে নিরাপদ ও শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে প্রশাসন সবসময় সচেতন রয়েছে।’