ঢাকা , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বদরগঞ্জে ট্রেনের চার চাকা লাইনচ্যুত, চালক-গার্ডকে মারধরের অভিযোগ রাঙ্গাবালীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান: জাল জব্দ, ২ জেলে কারাদণ্ড সেরা সংগঠকের স্বীকৃতি পেলেন গঙ্গাচড়ার সাংবাদিক আসাদুজ্জামান এই সংসদের মূল্য দুই আনাও নেই, ৫ বছর টিকবে কি না সন্দেহ: নাহিদ ইসলাম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে ১২ দলীয় জোটের মতবিনিময় লন্ডনে একসঙ্গে অনন্যা ও অক্ষয়পুত্র, উসকে উঠল প্রেমের গুঞ্জন ছুটির আমেজ কাটেনি, ক্রেতা স্বল্পতায় ঢিলেঢালা বেচাবিক্রি বাজার চিত্র ব্যালন ডি’অর র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ দুইয়ে নেই কেউ, কঠিন সিদ্ধান্ত বার্সেলোনার! মার্কিন কর্মকর্তাদের হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছে ইরান, গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে’




জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা উপস্থিত না হয়ে খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, যারা জুলাই-আগস্ট নিয়ে সারাদিন রাজনীতি করেন ও চিৎকার করেন, তারা দাওয়াত পাওয়া সত্ত্বেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে ধোঁকাবাজির পরিচয় দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ১৯ অক্টোবর ওসমানী উদ্যানে সরকারের পক্ষ থেকে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠানে সব সমমনা, সহযোগী ও জোটের রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। শুধু দাওয়াত কার্ড পাঠানোই নয়, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম টেলিফোনেও সবাইকে আমন্ত্রণ নিশ্চিত করেছিলেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদ মীর মুগ্ধ, আবু সাঈদ ও আনাসের বাবা এবং এক শহীদের মাকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ ও দীর্ঘ ১০ বছর পর আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ জুলাই নিয়ে যারা সারাদিন কথা বলেন, সেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্তরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। বাংলাদেশের এই একমাত্র শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গ্যাজেটভুক্ত ৮৩৪ শহীদের নাম লেখা রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্য প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, দাওয়াত কার্ডে বিরোধীদলীয় নেতার নাম না থাকায় তারা যাননি বলে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নেতা সাইফুল হক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের নাম দাওয়াত কার্ডে না থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তাদের মঞ্চে ডেকে নেন। দাওয়াত গ্রহণ করে বিরোধী দল উপস্থিত হলে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতিনিধিকেও মঞ্চে ডেকে নিতেন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

বিশেষ কোনো ধর্ম বা গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় মানুষকে বেহেশতের লোভ দেখিয়ে ভোট নিয়ে জামায়াতে ইসলামী সস্তা রাজনীতি করছে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের একটি বক্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দল চকলেট পাচ্ছে। অথচ আমরা অতীতে বসার জায়গাও পাইনি। আপনারা বর্তমানে সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। ভোটের আগে আপনারা মানুষকে বেহেশতের লোভ দেখান, আবার পূজায় ঢাকের তালে নাচেন; অথচ ভোটের পর এবার কোনো পূজায় আপনাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

বিরোধী দলকে একতরফা আন্দোলন বা লং মার্চ বাদ দিয়ে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া বা বারবার ওয়াকআউট করাও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, বিরোধী দলের সে অধিকার রয়েছে এবং ওয়াকআউট শেষে তারা আবার ফিরে আসেন।

প্রতিমন্ত্রী বাকস্বাধীনতার নামে অশালীন ভাষা প্রয়োগ না করার অনুরোধ জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, এরপরেও যদি অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়, তবে জাতীয়তাবাদী শক্তি তা মেনে নেবে না। একই সঙ্গে দলের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, গুপ্ত বিএনপির মধ্যেও রয়েছে। আমাদের দলে কারা এসব করছে, তাদের চিহ্নিত করতে কাজ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য ৫টি সদস্য পদ শূন্য রাখা হয়েছে। সংঘাতের পথ ছেড়ে কমিটিতে সম্পৃক্ত হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অংশ নিতে এবং দ্রুত পাঁচজন প্রতিনিধির নাম দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রেস ব্রিফিং শেষে প্রতিমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কিচক হরিপুর গ্রামের ফিরোজার পরিবারকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বদরগঞ্জে ট্রেনের চার চাকা লাইনচ্যুত, চালক-গার্ডকে মারধরের অভিযোগ

‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে’

আপডেট সময় : ১০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা উপস্থিত না হয়ে খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, যারা জুলাই-আগস্ট নিয়ে সারাদিন রাজনীতি করেন ও চিৎকার করেন, তারা দাওয়াত পাওয়া সত্ত্বেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে ধোঁকাবাজির পরিচয় দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ১৯ অক্টোবর ওসমানী উদ্যানে সরকারের পক্ষ থেকে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠানে সব সমমনা, সহযোগী ও জোটের রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। শুধু দাওয়াত কার্ড পাঠানোই নয়, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম টেলিফোনেও সবাইকে আমন্ত্রণ নিশ্চিত করেছিলেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদ মীর মুগ্ধ, আবু সাঈদ ও আনাসের বাবা এবং এক শহীদের মাকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ ও দীর্ঘ ১০ বছর পর আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ জুলাই নিয়ে যারা সারাদিন কথা বলেন, সেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্তরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। বাংলাদেশের এই একমাত্র শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গ্যাজেটভুক্ত ৮৩৪ শহীদের নাম লেখা রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্য প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, দাওয়াত কার্ডে বিরোধীদলীয় নেতার নাম না থাকায় তারা যাননি বলে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নেতা সাইফুল হক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের নাম দাওয়াত কার্ডে না থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তাদের মঞ্চে ডেকে নেন। দাওয়াত গ্রহণ করে বিরোধী দল উপস্থিত হলে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতিনিধিকেও মঞ্চে ডেকে নিতেন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

বিশেষ কোনো ধর্ম বা গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় মানুষকে বেহেশতের লোভ দেখিয়ে ভোট নিয়ে জামায়াতে ইসলামী সস্তা রাজনীতি করছে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের একটি বক্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দল চকলেট পাচ্ছে। অথচ আমরা অতীতে বসার জায়গাও পাইনি। আপনারা বর্তমানে সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। ভোটের আগে আপনারা মানুষকে বেহেশতের লোভ দেখান, আবার পূজায় ঢাকের তালে নাচেন; অথচ ভোটের পর এবার কোনো পূজায় আপনাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

বিরোধী দলকে একতরফা আন্দোলন বা লং মার্চ বাদ দিয়ে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া বা বারবার ওয়াকআউট করাও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, বিরোধী দলের সে অধিকার রয়েছে এবং ওয়াকআউট শেষে তারা আবার ফিরে আসেন।

প্রতিমন্ত্রী বাকস্বাধীনতার নামে অশালীন ভাষা প্রয়োগ না করার অনুরোধ জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, এরপরেও যদি অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়, তবে জাতীয়তাবাদী শক্তি তা মেনে নেবে না। একই সঙ্গে দলের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, গুপ্ত বিএনপির মধ্যেও রয়েছে। আমাদের দলে কারা এসব করছে, তাদের চিহ্নিত করতে কাজ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য ৫টি সদস্য পদ শূন্য রাখা হয়েছে। সংঘাতের পথ ছেড়ে কমিটিতে সম্পৃক্ত হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অংশ নিতে এবং দ্রুত পাঁচজন প্রতিনিধির নাম দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রেস ব্রিফিং শেষে প্রতিমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কিচক হরিপুর গ্রামের ফিরোজার পরিবারকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন।