ঢাকা , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ভাঙ্গুড়ায় ২৭০০ কেজি নকল দুধ তৈরির জেলি জব্দ, দুজনের কারাদণ্ড




পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জেলি, তেল ও ভেজাল দুধ জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত দুইজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা। এ সময় ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ সহযোগিতা করে।

অভিযানকালে ওই গ্রামের বাসিন্দা দুধের ম্যানেজার মো. আবুল বাশারের বসতবাড়ি থেকে ৩৬ ড্রাম জেলি, যার মোট ওজন ২ হাজার ৭০০ কেজি, দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত ২০০ লিটার তেল এবং ৩২০ লিটার নকল দুধ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা সব উপকরণ ও দুধ ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত আবুল বাশারকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁর সহযোগী মো. সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে সবুজকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল বাশার উপজেলার কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামের মৃত আবু তালেব প্রামাণিকের ছেলে। তাঁর সহযোগী সবুজ একই গ্রামের মো. হাবিল প্রামাণিকের ছেলে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নকল দুধ তৈরির বিপুল পরিমাণ উপকরণ ও দুধ জব্দ করা হয়েছে। পরে সেগুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গুড়ায় ২৭০০ কেজি নকল দুধ তৈরির জেলি জব্দ, দুজনের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ২২ ঘন্টা আগে

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জেলি, তেল ও ভেজাল দুধ জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত দুইজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা। এ সময় ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ সহযোগিতা করে।

অভিযানকালে ওই গ্রামের বাসিন্দা দুধের ম্যানেজার মো. আবুল বাশারের বসতবাড়ি থেকে ৩৬ ড্রাম জেলি, যার মোট ওজন ২ হাজার ৭০০ কেজি, দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত ২০০ লিটার তেল এবং ৩২০ লিটার নকল দুধ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা সব উপকরণ ও দুধ ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত আবুল বাশারকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁর সহযোগী মো. সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে সবুজকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল বাশার উপজেলার কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামের মৃত আবু তালেব প্রামাণিকের ছেলে। তাঁর সহযোগী সবুজ একই গ্রামের মো. হাবিল প্রামাণিকের ছেলে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নকল দুধ তৈরির বিপুল পরিমাণ উপকরণ ও দুধ জব্দ করা হয়েছে। পরে সেগুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।