পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা রেখা খাতুন। প্রায় সাত বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর তিন মেয়েকে নিয়ে শুরু হয় তাঁর কঠিন জীবনসংগ্রাম। অন্যের বাড়িতে কৃষিকাজ করে অতি কষ্টে সংসার চালিয়েছেন, সন্তানদের বড় করেছেন। এরই মধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এখনো মাত্র ১২ বছর বয়সী ছোট মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখেন তিনি। সেই স্বপ্ন আজ অনিশ্চয়তার মুখে।
সংসারের একমাত্র ভরসা রেখা খাতুন এখন নিজেই অসুস্থ। অভাবের সংসারে সামান্য ওষুধ কেনার টাকাও তাঁর হাতে নেই। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি। একদিকে নিজের অসুস্থতা, অন্যদিকে সংসারের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছোট মেয়েটিকে নিয়ে। যে বয়সে তার বই-খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা, পড়াশোনা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই মায়ের অসুস্থতার কারণে তার জীবনেও নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। অসুস্থ মা যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পান, তাহলে মেয়েটির ভবিষ্যৎ কী হবে—এমন প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
যে মা সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে জীবনের দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করেছেন, আজ সেই মায়ের নিজের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। অভাবের কাছে অসহায় হয়ে পড়া এই নারীর পাশে দাঁড়ানোর মতো সহযোগিতা এখন অত্যন্ত জরুরি।
এ অবস্থায় রেখা খাতুনের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং তাঁর ১২ বছর বয়সী মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনসহ হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।
মানবিক সহায়তা পেলে হয়তো প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ পাবেন রেখা খাতুন। একই সঙ্গে নিশ্চিত হতে পারে তাঁর ছোট মেয়েটির পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। অসহায় এই মা ও শিশুটির পাশে দাঁড়াতে সবার প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে।

চলনবিলের সময় ডেস্ক 
























