ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগমারা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃত্বে মোহন-সুজন, ভোটে নির্ধারিত নতুন কমিটি বগুড়া শাজাহানপুরে নারিল্যা খাজাবাবা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন একজন আলোকিত মানুষ মোহাম্মদ আমীর হামজা সিকদার জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প বন্ধের দাবিতে চাটমোহরে মানববন্ধন বাগমারায় ইউপি সদস্যকে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঢাকা-রংপুর লং মার্চ: গঙ্গাচড়ায় রাজপথে ১১ দলীয় ঐক্য বগুড়ায় সিটি প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করে জন্মনিবন্ধন তৈরির অভিযোগ, হাতেনাতে আটক ১০৪ রানের জয়ে ঘুরে দাঁড়াল ময়নামতি, শামিমের ব্যাটে রানের বন্যা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে সম্পর্কে ইনভেস্ট করতে হয়: বর্ষা

মধুপুরে ভাঙারি ব্যবসার অন্তরালে পাঠ্যবই পাচারে একজন আটক




টাঙ্গাইলের মধুপুরে নবম ও দশম শ্রেণির বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য প্রায় এক টন পাঠ্যবই উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার নরকোনা গ্রামে ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনের বাড়ি থেকে বইগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইব্রাহীম হোসেনকে আটক করে থানায় পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব বই দুটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে অন্যত্র পাচারের চেষ্টা চলছিল। খবর পেয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দীন ঘটনাস্থলে গিয়ে বইগুলো জব্দ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুটি অটোভ্যানে করে বাড়ি থেকে বইগুলো অন্যত্র নেওয়ার সময় সন্দেহ হলে কয়েকজন যুবক খোঁজ নেন। পরে তাঁরা দেখতে পান, বইগুলো নবম ও দশম শ্রেণির বিনা মূল্যের পাঠ্যবই। তখন তাঁরা স্থানীয় সংবাদকর্মী ও থানা-পুলিশকে খবর দেন। মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বাবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন মোবারক বলেন, ইব্রাহীম হোসেন মাঝেমধ্যে মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বিনা মূল্যের পাঠ্যবই কেজি দরে কিনে এনে বিক্রি করতেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিনি ওই গুদাম থেকে কয়েক ভ্যান পাঠ্যবই কিনে বাড়িতে আনেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সেগুলো অন্যত্র পাচারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ইব্রাহীম হোসেন বলেন, মধুপুর শিক্ষা অফিসের অনুমোদন সাপেক্ষে নাইটগার্ড তোফায়েল আহমেদের সহযোগিতায় গুদাম থেকে কেজি দরে বইগুলো কিনে এনেছেন। এতে তাঁর কোনো দোষ নেই।
বই বিতরণের দায়িত্বে থাকা একাডেমিক কর্মকর্তা মহিউদ্দীন বলেন, তাঁর অগোচরে নাইটগার্ড এ কাজ করেছেন। নাইটগার্ডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরে মধুপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দীন ঘটনাস্থলে যান এবং পাঠ্যবই জব্দ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইব্রাহীম হোসেনকে আটক করে থানায় পাঠান।
এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বিনামূল্যের সরকারি বই গুদাম থেকে কীভাবে বাইরে এলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগমারা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন

মধুপুরে ভাঙারি ব্যবসার অন্তরালে পাঠ্যবই পাচারে একজন আটক

আপডেট সময় : ০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুরে নবম ও দশম শ্রেণির বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য প্রায় এক টন পাঠ্যবই উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার নরকোনা গ্রামে ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনের বাড়ি থেকে বইগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইব্রাহীম হোসেনকে আটক করে থানায় পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব বই দুটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে অন্যত্র পাচারের চেষ্টা চলছিল। খবর পেয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দীন ঘটনাস্থলে গিয়ে বইগুলো জব্দ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুটি অটোভ্যানে করে বাড়ি থেকে বইগুলো অন্যত্র নেওয়ার সময় সন্দেহ হলে কয়েকজন যুবক খোঁজ নেন। পরে তাঁরা দেখতে পান, বইগুলো নবম ও দশম শ্রেণির বিনা মূল্যের পাঠ্যবই। তখন তাঁরা স্থানীয় সংবাদকর্মী ও থানা-পুলিশকে খবর দেন। মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বাবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন মোবারক বলেন, ইব্রাহীম হোসেন মাঝেমধ্যে মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বিনা মূল্যের পাঠ্যবই কেজি দরে কিনে এনে বিক্রি করতেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিনি ওই গুদাম থেকে কয়েক ভ্যান পাঠ্যবই কিনে বাড়িতে আনেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সেগুলো অন্যত্র পাচারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ইব্রাহীম হোসেন বলেন, মধুপুর শিক্ষা অফিসের অনুমোদন সাপেক্ষে নাইটগার্ড তোফায়েল আহমেদের সহযোগিতায় গুদাম থেকে কেজি দরে বইগুলো কিনে এনেছেন। এতে তাঁর কোনো দোষ নেই।
বই বিতরণের দায়িত্বে থাকা একাডেমিক কর্মকর্তা মহিউদ্দীন বলেন, তাঁর অগোচরে নাইটগার্ড এ কাজ করেছেন। নাইটগার্ডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরে মধুপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দীন ঘটনাস্থলে যান এবং পাঠ্যবই জব্দ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইব্রাহীম হোসেনকে আটক করে থানায় পাঠান।
এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বিনামূল্যের সরকারি বই গুদাম থেকে কীভাবে বাইরে এলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।