ছয় দফা দাবি নিয়ে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি ময়দানে পৌঁছেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) প্রায় ১২ ঘণ্টার যাত্রা শেষে শীর্ষ নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর সমাপনী সমাবেশস্থলে পৌঁছায়।
এর আগেই লালদীঘি ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিতে সন্ধ্যার পর সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় ভিড় বাড়তে থাকে।
শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সোয়া ৮টার দিকে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের পথে সিদ্ধিরগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, ফেনী ও মিরসরাইয়ে একাধিক পথসভা হয়। জানা গেছে, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সব পথসভায় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেননি। অগ্রবর্তী প্রতিনিধিদল বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর মূল গাড়িবহর এসব এলাকায় পৌঁছায়।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জাতীয় পতাকা হাতে তারা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে গাড়িবহরকে স্বাগত জানান। চট্টগ্রাম নগরীতে প্রবেশের পর একে খান, পাহাড়তলী ও জিইসি মোড়েও একই চিত্র দেখা যায়।
এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় কালবেলাকে বলেন, দীর্ঘ যাত্রাপথে কোনো বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। কর্মসূচির নিরাপত্তায় সরকারের নেওয়া ব্যবস্থার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
লালদীঘি ময়দানের সমাপনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
জোটের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের অনেকে বলেন, ছয় দফা দাবি নিয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য শুনতেই তারা লালদীঘিতে এসেছেন।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দিনভর কর্মসূচি শেষে এখন সমাপনী সমাবেশের বক্তব্য ও পরবর্তী আন্দোলনের ঘোষণা ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা ঢাকার উদ্দেশে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছে জোট সূত্র।

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি 

























