ঢাকা , রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশি মাসুদের প্রার্থিতা ঘোষণা পপ-আপ সতর্কবার্তায় কমতে পারে তরুণদের সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি ভ্রমণ, স্মৃতি, আত্মঅন্বেষণ ও জ্ঞানচর্চার দলিল ৯ বছর পর অপূর্বর প্রশ্ন, ‘বড় ছেলে’ কতবার দেখেছেন? হাসানের ৭ উইকেট শিকারের ম্যাচে কেন্টের জয় ২৮ রানে পাকিস্তানের ১০ উইকেট ফেলে ভারতের ইতিহাস যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, লক্ষ্য কী? নিজ জেলায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের প্রথম সফর কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড আর দেড় শ টাকার লাঞ্চ ছাড়া সরকারের কোনো সাফল্য নেই: মঞ্জু

৯ বছর পর অপূর্বর প্রশ্ন, ‘বড় ছেলে’ কতবার দেখেছেন?




একটি নাটক কতটা জনপ্রিয় হলে মুক্তির প্রায় এক দশক পরও দর্শক তার দৃশ্য, সংলাপ কিংবা শেষ মুহূর্তের কথা মনে রাখেন? বাংলা নাটকের ক্ষেত্রে এমন উদাহরণ খুব বেশি নেই। তবে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও মেহজাবীন চৌধুরী অভিনীত ‘বড় ছেলে’ সেই বিরল তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। মুক্তির নয় বছর পেরিয়েও নাটকটি দর্শকের আবেগে একইভাবে জায়গা ধরে রেখেছে।

২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মিজানুর রহমান আরিয়ানের পরিচালনায় মুক্তি পায় টেলিফিল্মটি। সে সময় মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় সন্তানের দায়িত্ব, নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাকে পাশে রেখে পরিবারের জন্য ত্যাগ স্বীকার এবং ভালোবাসার ক্ষেত্রে আপস করার গল্প দর্শকের কাছে ভিন্ন এক অনুভূতি তৈরি করেছিল। গল্পের সঙ্গে দর্শকের ব্যক্তিগত জীবনের মিলই সম্ভবত নাটকটির জনপ্রিয়তার অন্যতম বড় কারণ হয়ে ওঠে।

মুক্তির পরপরই নাটকটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যটি দর্শকের আবেগকে নাড়া দেয়। অনেক দর্শকের চোখে জল এনে দেওয়া সেই সমাপ্তি ‘বড় ছেলে’কে কেবল একটি নাটক হিসেবে নয়, বরং একটি সময়ের আবেগের অংশে পরিণত করে।

নাটকটির নয় বছর পূর্তিতে সেই স্মৃতিই আবার সামনে আনলেন অপূর্ব। নিজের ফেসবুক পেজে ‘বড় ছেলে’র শেষ দৃশ্যের দুটি স্থিরচিত্র প্রকাশ করেছেন তিনি। ছবিতে অপূর্ব ও মেহজাবীনকে দেখা যায় আবেগঘন মুহূর্তে।

পোস্টের ক্যাপশনে অপূর্ব লিখেছেন, “৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সালে রিলিজ পেয়েছিল ‘বড় ছেলে’। দেখতে দেখতে আজ এই টেলিফিল্মের ৯ বছর পূর্ণ হলো।”

একই সঙ্গে দর্শকদের কাছে তিনি জানতে চেয়েছেন, ‘এই ৯ বছরে নাটকটি কতবার দেখেছেন?’

অভিনেতার এই প্রশ্নের পরই মন্তব্যের ঘরে নিজেদের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে শুরু করেন দর্শকরা। কেউ জানিয়েছেন, নাটকটি অসংখ্যবার দেখেছেন। কারও দাবি, শতাধিকবারও দেখা হয়েছে। আবার অনেকে জানিয়েছেন, ‘বড় ছেলে’র মাধ্যমেই বাংলা নাটকের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।

নাটকটির স্থায়ী জনপ্রিয়তার পেছনে গল্পের আবেগের পাশাপাশি অপূর্ব ও মেহজাবীনের অভিনয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অপূর্বর চরিত্রে ছিল পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ, চাপা কষ্ট ও আত্মত্যাগের দ্বন্দ্ব। অন্যদিকে মেহজাবীনের অভিনয় গল্পের আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে। মিজানুর রহমান আরিয়ান খুব পরিচিত এক মধ্যবিত্ত বাস্তবতাকে এমনভাবে পর্দায় তুলে ধরেন, যার সঙ্গে দর্শক সহজেই নিজেদের কিংবা আশপাশের মানুষের জীবনের মিল খুঁজে পেয়েছেন।

‘বড় ছেলে’র সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি ছিল এর শেষাংশ। গল্পের পরিণতি নিয়ে দর্শকের মধ্যে তৈরি হয়েছিল আবেগ ও হতাশার মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাটকটির বিভিন্ন দৃশ্য, সংলাপ ও শেষ মুহূর্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সময়ের ব্যবধানে সেই আলোচনা থেমে গেলেও নাটকটির দর্শকপ্রিয়তা হারিয়ে যায়নি।

টেলিভিশনে প্রচারের পাশাপাশি ইউটিউবেও নাটকটি পায় বিপুল সাড়া। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকসংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ইউটিউবে ‘বড় ছেলে’র দর্শকসংখ্যা ৫৮ মিলিয়নের বেশি। বাংলা নাটকের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, নয় বছর পরও নাটকটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ কতটা শক্তিশালী।

সময়ের সঙ্গে বাংলা নাটকের গল্প, নির্মাণশৈলী ও দর্শকের দেখার অভ্যাসে এসেছে বড় পরিবর্তন। ওটিটি, স্বল্পদৈর্ঘ্য কনটেন্ট কিংবা নতুন ধরনের গল্পের ভিড়ে অনেক পুরোনো নাটকই ধীরে ধীরে আড়ালে চলে গেছে। কিন্তু ‘বড় ছেলে’র ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। নতুন প্রজন্মের দর্শকরাও অনলাইনে নাটকটি দেখছেন, আলোচনা করছেন এবং নিজেদের মতো করে এর সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক তৈরি করছেন।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশি মাসুদের প্রার্থিতা ঘোষণা

৯ বছর পর অপূর্বর প্রশ্ন, ‘বড় ছেলে’ কতবার দেখেছেন?

আপডেট সময় : ১১ ঘন্টা আগে

একটি নাটক কতটা জনপ্রিয় হলে মুক্তির প্রায় এক দশক পরও দর্শক তার দৃশ্য, সংলাপ কিংবা শেষ মুহূর্তের কথা মনে রাখেন? বাংলা নাটকের ক্ষেত্রে এমন উদাহরণ খুব বেশি নেই। তবে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও মেহজাবীন চৌধুরী অভিনীত ‘বড় ছেলে’ সেই বিরল তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। মুক্তির নয় বছর পেরিয়েও নাটকটি দর্শকের আবেগে একইভাবে জায়গা ধরে রেখেছে।

২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মিজানুর রহমান আরিয়ানের পরিচালনায় মুক্তি পায় টেলিফিল্মটি। সে সময় মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় সন্তানের দায়িত্ব, নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাকে পাশে রেখে পরিবারের জন্য ত্যাগ স্বীকার এবং ভালোবাসার ক্ষেত্রে আপস করার গল্প দর্শকের কাছে ভিন্ন এক অনুভূতি তৈরি করেছিল। গল্পের সঙ্গে দর্শকের ব্যক্তিগত জীবনের মিলই সম্ভবত নাটকটির জনপ্রিয়তার অন্যতম বড় কারণ হয়ে ওঠে।

মুক্তির পরপরই নাটকটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যটি দর্শকের আবেগকে নাড়া দেয়। অনেক দর্শকের চোখে জল এনে দেওয়া সেই সমাপ্তি ‘বড় ছেলে’কে কেবল একটি নাটক হিসেবে নয়, বরং একটি সময়ের আবেগের অংশে পরিণত করে।

নাটকটির নয় বছর পূর্তিতে সেই স্মৃতিই আবার সামনে আনলেন অপূর্ব। নিজের ফেসবুক পেজে ‘বড় ছেলে’র শেষ দৃশ্যের দুটি স্থিরচিত্র প্রকাশ করেছেন তিনি। ছবিতে অপূর্ব ও মেহজাবীনকে দেখা যায় আবেগঘন মুহূর্তে।

পোস্টের ক্যাপশনে অপূর্ব লিখেছেন, “৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সালে রিলিজ পেয়েছিল ‘বড় ছেলে’। দেখতে দেখতে আজ এই টেলিফিল্মের ৯ বছর পূর্ণ হলো।”

একই সঙ্গে দর্শকদের কাছে তিনি জানতে চেয়েছেন, ‘এই ৯ বছরে নাটকটি কতবার দেখেছেন?’

অভিনেতার এই প্রশ্নের পরই মন্তব্যের ঘরে নিজেদের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে শুরু করেন দর্শকরা। কেউ জানিয়েছেন, নাটকটি অসংখ্যবার দেখেছেন। কারও দাবি, শতাধিকবারও দেখা হয়েছে। আবার অনেকে জানিয়েছেন, ‘বড় ছেলে’র মাধ্যমেই বাংলা নাটকের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।

নাটকটির স্থায়ী জনপ্রিয়তার পেছনে গল্পের আবেগের পাশাপাশি অপূর্ব ও মেহজাবীনের অভিনয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অপূর্বর চরিত্রে ছিল পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ, চাপা কষ্ট ও আত্মত্যাগের দ্বন্দ্ব। অন্যদিকে মেহজাবীনের অভিনয় গল্পের আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে। মিজানুর রহমান আরিয়ান খুব পরিচিত এক মধ্যবিত্ত বাস্তবতাকে এমনভাবে পর্দায় তুলে ধরেন, যার সঙ্গে দর্শক সহজেই নিজেদের কিংবা আশপাশের মানুষের জীবনের মিল খুঁজে পেয়েছেন।

‘বড় ছেলে’র সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি ছিল এর শেষাংশ। গল্পের পরিণতি নিয়ে দর্শকের মধ্যে তৈরি হয়েছিল আবেগ ও হতাশার মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাটকটির বিভিন্ন দৃশ্য, সংলাপ ও শেষ মুহূর্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সময়ের ব্যবধানে সেই আলোচনা থেমে গেলেও নাটকটির দর্শকপ্রিয়তা হারিয়ে যায়নি।

টেলিভিশনে প্রচারের পাশাপাশি ইউটিউবেও নাটকটি পায় বিপুল সাড়া। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকসংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ইউটিউবে ‘বড় ছেলে’র দর্শকসংখ্যা ৫৮ মিলিয়নের বেশি। বাংলা নাটকের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, নয় বছর পরও নাটকটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ কতটা শক্তিশালী।

সময়ের সঙ্গে বাংলা নাটকের গল্প, নির্মাণশৈলী ও দর্শকের দেখার অভ্যাসে এসেছে বড় পরিবর্তন। ওটিটি, স্বল্পদৈর্ঘ্য কনটেন্ট কিংবা নতুন ধরনের গল্পের ভিড়ে অনেক পুরোনো নাটকই ধীরে ধীরে আড়ালে চলে গেছে। কিন্তু ‘বড় ছেলে’র ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। নতুন প্রজন্মের দর্শকরাও অনলাইনে নাটকটি দেখছেন, আলোচনা করছেন এবং নিজেদের মতো করে এর সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক তৈরি করছেন।