বগুড়ার শাজাহানপুরে পূর্বশত্রুতার জের ধরে এক ব্যবসায়ীর মোদির দোকানে হামলা, চাঁদা দাবি, মারধর ও নগদ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। একই রাতে ওই ব্যবসায়ীর অপর একটি দোকানে চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে শাজাহানপুর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কচুয়াদহ গ্রামে নিজ মোদির দোকানে ব্যবসা করছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মোতাহার আলী। বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে একই এলাকার মো. জাহিদ, মো. চাঁন মিয়া আকন্দ, মো. বাকি ও মো. শাহাবুদ্দিন দোকানের সামনে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। মোতাহার আলী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত জাহিদ জোরপূর্বক দোকানে ঢুকে জিনিসপত্র ভাঙচুর করে ক্যাশ বাক্সে থাকা ৫০ হাজার ২৫০ টাকা ছিনিয়ে নেন। মোতাহার আলীর চিৎকারে তার ছেলে ছানারুল ইসলামসহ স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত জাহিদের ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোন (নম্বর: ০১৯৬৩-৭৮২৪৪৪) দুর্ঘটনাবশত দোকানে ফেলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ছেলে ছানারুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী হলেও দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা করে আসছে। এর আগে তাদের একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে আনুমানিক ৫ লাখ টাকার মাছ নিধন করা হয়েছিল।
এদিকে, এই ঘটনার জের কাটতে না কাটতেই ওই দিন গভীর রাতে একই ব্যবসায়ীর কীটনাশক ও ভুসিমালের দোকানে আরেক দফা চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চক্রটি নৈশকালীন সুযোগ নিয়ে দোকানের তালা ভেঙে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামি সিগারেট ও কীটনাশকের কার্টুনসহ ক্যাশ বাক্সের নগদ ৪ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, মারধর ও টাকা লুটের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রতিনিধি বগুড়া 






















