ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল করে এক পরিবারের নবজাতককে অন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি ধরা পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে রাতেই নবজাতককে ফিরিয়ে আনা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে দুই পরিবারের কাছে তাদের নিজ নিজ সন্তান বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় এ ভুলের ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার জগন্নাথবাড়ি এলাকার নাদিরা ও মাসুদ ইসলাম দম্পতির কন্যাসন্তান গত বৃহস্পতিবার জন্ম নেয়। জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্মের পর শিশুটির শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে গত শনিবার তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে শিশুটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পুম্বাইল গ্রামের কৃষক আবু রায়হান ও নাদিরা দম্পতির কন্যাসন্তানও গত বৃহস্পতিবার জন্ম নেয়। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের পর শিশুটির শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তাকেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
গৌরীপুরের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সোমবার বেলা ১১টার দিকে শিশুটির মা এনআইসিইউতে গিয়ে সন্তানকে দুধ পান করান। পরে শিশুটিকে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এনআইসিইউতে ভর্তির সময় দেওয়া টোকেন পেতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নবজাতককে নিতে যান।
এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের কাছে একটি নবজাতক হস্তান্তরের চেষ্টা করেন। শিশুটিকে দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। আবু রায়হান জানান, এটি তাদের সন্তান নয় এবং শিশুটির চেহারার সঙ্গেও তাদের সন্তানের মিল নেই। এরপর শিশুটির পরিচয় যাচাই করতে বলা হয়।
পরিবারটির অভিযোগ, শুরুতে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে তারা সন্তোষজনক সাড়া পাননি। পরে তারা উত্তেজিত হয়ে উঠলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর জানা যায়, গৌরীপুরের পরিবারের নবজাতককে ভুল করে সরিষাবাড়ীর পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ততক্ষণে ওই পরিবার নবজাতককে নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যায়।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জামালপুরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। হাসপাতালের লোকজন নিজেদের উদ্যোগে রাত ৩টার দিকে ওই নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসেন। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে দুই পরিবারের কাছে তাদের নিজ নিজ সন্তান বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
গৌরীপুরের পরিবারের পক্ষ থেকে রুহুল আমিন বলেন, ‘বাচ্চার পায়ে টোকেন থাকে। সেখানে বাবা-মায়ের নাম ও সিরিয়াল নম্বর লেখা থাকে। মায়ের নাম একই হলেও বাবার নাম আলাদা। এরপরও কীভাবে এমন ভুল হলো, সেটি আমরা জানতে চাই। এমন ঘটনা যাতে আর কারও সঙ্গে না ঘটে, সে জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
জামালপুরের নবজাতকের বাবা মাসুদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সন্তান আমাদের কাছে দেওয়া হয়েছে, এটিই ধরে নিয়েছিলাম। পরে রাতে হাসপাতালের লোকজন এসে শিশুটিকে নিয়ে গেছেন। আমার সন্তান আনতে দুই বোন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসপাতালে গেছেন। তারা এখনো আমাদের সন্তান নিয়ে ফেরেননি।’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘দুই নবজাতকের মায়ের নাম একই হওয়ায় সমস্যাটি হয়েছিল। বিষয়টি ধরা পড়ার পর রাতেই নবজাতককে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে আজ সকালে প্রকৃত নবজাতককে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় যাঁদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি 
























