সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে দায়িত্বরত নার্সের অবহেলার কারণে ছায়ারুন নেছা (৪৫) নামের এক রোগীর মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ছায়ারুন নেছা (৪৫) উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া মাঝপাড়া গ্রামের আব্দুস শহীদের স্ত্রী এবং পাঁচ সন্তানের জননী।
হাসপাতাল ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে ছায়ারুন নেছাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্সদের একাধিকবার দেখার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু নার্সরা সাড়া না দেওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষুব্ধ স্বজনদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতের স্বামী আব্দুস শহীদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি ইনজেকশন দেওয়ার পর পরই স্ত্রীর শরীর ঠান্ডা হতে শুরু করে। আমি দৌড়ে গিয়ে দায়িত্বরত নার্সকে আসার অনুরোধ করি। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে অন্তত ১০ বার নার্সের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আকুতি-মিনতি করলেও তারা কর্ণপাত করেননি। চোখের সামনে নার্সদের অবহেলায় আমার স্ত্রী মারা গেছেন, আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
নিহতের স্বজন আব্দুস সালাম বলেন, ‘ওয়ার্ডের দায়িত্বরত দুই নার্সকে একাধিকবার রোগীর শারীরিক অবস্থার কথা বলার পরও তারা রোগীকে দেখতে আসেননি। এটি দায়িত্বের চরম অবহেলা। আমরা তাদের বিচার দাবি করছি।’
স্বজনদের এ অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স জান্নাতুল ফেরদৌস ও সানজিদা দাবি করেন, চিকিৎসা প্রদান বা দায়িত্বে তাদের কোনো অবহেলা ছিল না।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. বদরুদ্দোজা উজ্জ্বল জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগটি সঠিক নয়। ডায়রিয়া বন্ধের ইনজেকশন দেওয়ার পর রোগীর কিছুটা অস্থিরতা দেখা দেয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে’ তার মৃত্যু হয়েছে। ইনজেকশনের কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনরা ভুল বুঝলেও পরে পরিস্থিতি বুঝে তারা মরদেহ নিয়ে গেছেন।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 





















