মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা এক দিনে এত বড় হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এর বর্তমান রূপ তৈরি হয়েছে। এবার এর শৈশবের একটি গুরুত্বপূর্ণ রহস্যের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১১ কোটি ৮০ লাখ বছর আগে মিল্কিওয়ে তার চেয়ে ছোট একটি ছায়াপথকে গিলে ফেলেছিল। এটি মিল্কিওয়ের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে পুরোনো ছায়াপথ একীভূত হওয়ার ঘটনা।
গবেষণাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমিতে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘটনাটি ঘটেছিল মহাবিশ্বের বয়স বর্তমান বয়সের ১৫ শতাংশেরও কম থাকার সময়। বিগ ব্যাংয়ের প্রায় ২০০ কোটি বছর পর দুই ছায়াপথ একীভূত হয়।
যে ছোট ছায়াপথটি মিল্কিওয়ে গিলে ফেলেছিল, সেটি ছিল একটি বামন ছায়াপথ। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘লো-এনার্জি-ক্রাকেন-হেরাক্লিস’। সংক্ষেপে এর নাম ‘এলকেএইচ’।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, একীভূত হওয়ার সময় এলকেএইচ ছায়াপথের তারাগুলোর সম্মিলিত ভর ছিল সূর্যের ভরের প্রায় ৫০ কোটি গুণ। এটি তখনকার মিল্কিওয়ের ভরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
এ গবেষণায় মহাকাশে থাকা ‘হাবল’ ও ‘গাইয়া’ টেলিস্কোপের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের ২০ হাজার আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা বিভিন্ন তারাপুচ্ছ বিশ্লেষণ করেন।
তারা এসব তারাপুচ্ছের বয়স, রাসায়নিক গঠন ও গতিপথ পরীক্ষা করেন। প্রতিটি তারাপুচ্ছে রয়েছে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ তারা। এক আলোকবর্ষ হলো আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে। এই দূরত্ব প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার কোটি কিলোমিটার।
গবেষকদের মতে, এলকেএইচ ছায়াপথের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ফলে মিল্কিওয়ে বিপুলসংখ্যক তারা পেয়েছিল। একই সঙ্গে পেয়েছিল নতুন তারা তৈরির উপযোগী আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাস ও ডার্ক ম্যাটার।
এলকেএইচ ছাড়াও মিল্কিওয়ে আরও কয়েকটি ছোট ছায়াপথকে নিজের সঙ্গে একীভূত করেছে। এলকেএইচ গিলে ফেলার প্রায় ১৮০ কোটি বছর পর ‘গাইয়া-সসেজ-এনসেলাডুস’ নামের আরেকটি বামন ছায়াপথকে গিলে ফেলে মিল্কি ওয়ে। এ ছাড়া ‘স্যাজিটেরিয়াস’ নামের আরেকটি বামন ছায়াপথও মিল্কিওয়ের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে। প্রায় ৬০০ কোটি বছর ধরে এ প্রক্রিয়া চলছে।

চলনবিলের সময় ডেস্ক 






















