ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসলামী লেখক ফোরামের ৭ম কাউন্সিল শুক্রবার সকালের নাশতায় ৩০ গ্রাম প্রোটিন কি দুপুর পর্যন্ত পেট ভরা রাখে? বিশ্বমঞ্চে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে ‘গ্ল্যামারাস গ্যালারি বাই মাহি’ বেশিরভাগ সময় বিয়ের কনে লাল শাড়ি পরেন কেন? নারী-পুরুষের কার কতটুকু পানি পান করা উচিত? কৃমির সমস্যা দূর করতে কত দিন পরপর ওষুধ খাওয়া উচিত? সংসদে আবেগঘন বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মির্জা আব্বাসের সাক্ষাৎ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান মক্কায় কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দিলেন জামায়াত আমির পুরুষকে ভালোবাসি, কিন্তু আমার নারী হেটার্স বেশি: বাঁধন

মক্কায় কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দিলেন জামায়াত আমির




পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ বিজয়ী চার বাংলাদেশি হাফেজকে সংবর্ধনা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ডেমরাস্থ আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নূর উদ্দিন জাকারিয়া। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদ্রাসার রাবিতা বিনতে রমজান, মারকাজুল মদিনার মাহমুদুল হাসান আশরাফী এবং রাজধানীর ওয়ারিস্থ সাওদা বিনতে যামআহ আন্তর্জাতিক বালিকা হিফয মাদ্রাসার মুসফিরা বিনতে মাহমুদ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির বিশ্বমঞ্চে হাফেজদের এ সাফল্য বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের উল্লেখ করে বলেন, ‘মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হলেও কোরআনের হাফেজদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গতকাল জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত তাদের সংবর্ধনা ও যথাযথ সম্মাননার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অতীত ও বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে বিজয়ী সব হাফেজকে নিয়ে সম্মানজনক সংবর্ধনার আয়োজনের কথাও জানান।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘নৈতিক শিক্ষার বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ধর্মীয় শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ভালো ও নৈতিক নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজুল কোরআনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের যথাযথ সহযোগিতা থাকা উচিত। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, তাঁদের ন্যায্য অধিকার।’

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে আমিরে জামায়াত বলেন, ‘বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসার পাশাপাশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষা গ্রহণ করছে। এ সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।’

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের সহযোগিতাকারী বিদেশি শিক্ষককেও সুযোগ পেলে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির।

তিনি সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘হাফেজদের এ অর্জন যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে একটি গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ইনশাআল্লাহ, সেই বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দৃষ্টান্ত।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেইন ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী লেখক ফোরামের ৭ম কাউন্সিল শুক্রবার

মক্কায় কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দিলেন জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ১১ ঘন্টা আগে

পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ বিজয়ী চার বাংলাদেশি হাফেজকে সংবর্ধনা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ডেমরাস্থ আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নূর উদ্দিন জাকারিয়া। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদ্রাসার রাবিতা বিনতে রমজান, মারকাজুল মদিনার মাহমুদুল হাসান আশরাফী এবং রাজধানীর ওয়ারিস্থ সাওদা বিনতে যামআহ আন্তর্জাতিক বালিকা হিফয মাদ্রাসার মুসফিরা বিনতে মাহমুদ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির বিশ্বমঞ্চে হাফেজদের এ সাফল্য বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের উল্লেখ করে বলেন, ‘মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হলেও কোরআনের হাফেজদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গতকাল জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত তাদের সংবর্ধনা ও যথাযথ সম্মাননার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অতীত ও বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে বিজয়ী সব হাফেজকে নিয়ে সম্মানজনক সংবর্ধনার আয়োজনের কথাও জানান।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘নৈতিক শিক্ষার বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ধর্মীয় শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ভালো ও নৈতিক নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজুল কোরআনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের যথাযথ সহযোগিতা থাকা উচিত। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, তাঁদের ন্যায্য অধিকার।’

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে আমিরে জামায়াত বলেন, ‘বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসার পাশাপাশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষা গ্রহণ করছে। এ সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।’

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের সহযোগিতাকারী বিদেশি শিক্ষককেও সুযোগ পেলে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির।

তিনি সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘হাফেজদের এ অর্জন যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে একটি গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ইনশাআল্লাহ, সেই বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দৃষ্টান্ত।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেইন ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি উপস্থিত ছিলেন।