পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যে বাজারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং স্বাভাবিক লেনদেন নিশ্চিত করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক হয়েছে।
বৈঠকে বাজারের স্থিতিশীলতা, ব্রোকারেজ হাউসের বিভিন্ন সমস্যা, নজরদারি কার্যক্রম এবং নতুন আইপিও ও আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ভার্চুয়ালি এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডিএসই ও সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বৈঠকের শুরুতে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে এ ধরনের মতবিনিময় সময়োপযোগী। অধিকাংশ ব্রোকার ও বাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে।’
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারের আস্থা ও কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বাজারকে দমন নয়, বরং একটি পরিপালনযোগ্য, প্রাণবন্ত, দক্ষ ও বিকাশমান পুঁজিবাজারে রূপান্তর করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।’
বৈঠকে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘বাজারে নতুন আইপিও এবং আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো ডিএসইর অন্যতম অগ্রাধিকার। দীর্ঘদিন ধরে নতুন আইপিও না আসা এবং ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজের সীমিত উপস্থিতি বাজারের অন্যতম দুর্বলতা।’
মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন বন্ডের লিস্টিং ফি কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত আইপিও বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদনকারী কোম্পানির প্রথম বছরের লিস্টিং ফি ৫০ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর ডিএসইর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ‘পরিচালনা পর্ষদ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে না। পর্ষদ নীতিগত দিকনির্দেশনা দেয়। তবে নির্দিষ্ট অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত বা অনুসন্ধান করা হবে।’
সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো ব্রোকারেজ হাউসের সিসি একাউন্ট, শেয়ার বা অন্যান্য সম্পদে ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত নিজেদের উদ্যোগে সমাধান করতে হবে। এ ধরনের ঘাটতি শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নয়, পুরো বাজারের ইকোসিস্টেমের সুনামকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।’
ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাজারকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে হলে সব পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’
তিনি আরও জানান, সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা, উদ্বেগ, পরামর্শ ও নতুন ধারণা ডিএসইর কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। সদস্যদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে বাজারের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে চায় ডিএসই।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের কমপ্লায়েন্স ও সার্ভেইল্যান্সসংক্রান্ত কিছু ইন্সপেকশন কার্যক্রম অমীমাংসিত ছিল। এসব ইন্সপেকশনের প্রতিবেদন বিএসইসিতে দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে ইন্সপেকশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
বৈঠকে ডিএসই ও ডিবিএর সদস্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, নজরদারি কার্যক্রম এবং ব্রোকারেজ ব্যবসার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মতামত দেন।

চলনবিলের সময় ডেস্ক 
























