ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগমারায় প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন পদত্যাগ করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাপলা বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান: শামা ওবায়েদ সবুজ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নারীদের ওপর যারা নির্যাতন চালায় তারা কাপুরুষ: রিজভী আ.লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কিনা, যা বললেন আ স ম ফিরোজ মাইকেল জ্যাকসনের ২৭০০ একরের ‘নেভারল্যান্ড’ ছিল অন্যরকম জগৎ ৩ মাসে উপশাখায় আমানত বেড়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা রাত পোহালেই এসএসসি পুনঃনিরীক্ষণের ফল, জানা যাবে ৩ উপায়ে ট্রাইবেকারের রোমাঞ্চ শেষে সিটি কর্পোরেশনের শিরোপা, পুরস্কার তুলে দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

মাইকেল জ্যাকসনের ২৭০০ একরের ‘নেভারল্যান্ড’ ছিল অন্যরকম জগৎ




পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনকে সবাই চেনেন তার গান ও মঞ্চ পরিবেশনার জন্য। তবে তার মালিকানাধীন ক্যালিফোর্নিয়ার ২ হাজার ৭০০ একরের র‍্যাঞ্চ ‘নেভারল্যান্ড’ ছিল একেবারেই অন্যরকম। একসময় সেখানে ছিল অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ফেরিস হুইল, চিড়িয়াখানা, রেললাইন ও নিজস্ব সিনেমা হল।

সান্তা বারবারা কাউন্টির এই সম্পত্তির নাম শুরুতে ছিল ‘জাকা লাদেরাস র‍্যাঞ্চ’। ১৯৮১ সালে সম্পত্তি উন্নয়নকারী উইলিয়াম বোন এটি কিনে নাম দেন ‘সিকামোর ভ্যালি র‍্যাঞ্চ’। তিনি সেখানে মূল বাড়ি, বাগান, পাথরের সেতু এবং জলপ্রপাতসহ চার একরের একটি লেক তৈরি করেন। খবর এনডিটিভির।

১৯৮৩ সালে পল ম্যাকার্টনির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রথম র‍্যাঞ্চটি দেখেন মাইকেল জ্যাকসন। তখন ম্যাকার্টনি ‘সে সে সে’ গানের ভিডিও ধারণের জন্য সেখানে অবস্থান করছিলেন। এর পাঁচ বছর পর, ১৯৮৮ সালে জ্যাকসন সম্পত্তিটি কিনে নেন।

এরপরই শুরু হয় বড় পরিবর্তন। ‘পিটার প্যান’-এর সেই কাল্পনিক দ্বীপের নাম অনুসারে তিনি র‍্যাঞ্চটির নাম দেন ‘নেভারল্যান্ড’। ধীরে ধীরে এটি পরিণত হয় একটি ব্যক্তিগত ফ্যান্টাসি জগতে। সেখানে ছিল ফরাসি কান্ট্রি-স্টাইলের বাড়ি, সিনেমা হল, লেক, ট্রেন স্টেশন, ফেরিস হুইল, ক্যারোসেল, বাম্পার কারসহ বিভিন্ন রাইড। ছিল পেটিং জু এবং পুরো সম্পত্তিজুড়ে রেলপথ। তার মায়ের নামে তৈরি ‘ক্যাথেরিন স্টেশন’-এ ছিল বড় একটি ফুলের ঘড়ি।

তবে ২০০৩ সালে পুলিশের তল্লাশি ও পরবর্তী ফৌজদারি মামলার পর জ্যাকসন আর কখনো নেভারল্যান্ডে স্থায়ীভাবে ফেরেননি। ২০০৯ সালে তার মৃত্যুর সময়ও র‍্যাঞ্চটি তার বাড়ি ছিল না।

পরে আর্থিক সংকট ও ফোরক্লোজারের মুখে অ্যামিউজমেন্ট রাইডগুলো সরিয়ে বিক্রি করা হয়। ২০১৫ সালে ১০ কোটি ডলারে সম্পত্তিটি বিক্রির জন্য তোলা হয়। তবে দাম কমে ৬ কোটি ৭০ লাখ এবং পরে ২০১৯ সালে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারে নামে। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী রোনাল্ড বার্কল ২ কোটি ২০ লাখ ডলারে এটি কিনে নেন।

এরই মধ্যে সম্পত্তিটি আবার ‘সিকামোর ভ্যালি র‍্যাঞ্চ’ নামে পরিচিত হয়েছে। র‍্যাঞ্চটি এখনও আছে, কিন্তু মাইকেল জ্যাকসনের তৈরি সেই বিশাল বিনোদন জগত আর নেই।

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগমারায় প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

মাইকেল জ্যাকসনের ২৭০০ একরের ‘নেভারল্যান্ড’ ছিল অন্যরকম জগৎ

আপডেট সময় : ১৮ ঘন্টা আগে

পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনকে সবাই চেনেন তার গান ও মঞ্চ পরিবেশনার জন্য। তবে তার মালিকানাধীন ক্যালিফোর্নিয়ার ২ হাজার ৭০০ একরের র‍্যাঞ্চ ‘নেভারল্যান্ড’ ছিল একেবারেই অন্যরকম। একসময় সেখানে ছিল অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ফেরিস হুইল, চিড়িয়াখানা, রেললাইন ও নিজস্ব সিনেমা হল।

সান্তা বারবারা কাউন্টির এই সম্পত্তির নাম শুরুতে ছিল ‘জাকা লাদেরাস র‍্যাঞ্চ’। ১৯৮১ সালে সম্পত্তি উন্নয়নকারী উইলিয়াম বোন এটি কিনে নাম দেন ‘সিকামোর ভ্যালি র‍্যাঞ্চ’। তিনি সেখানে মূল বাড়ি, বাগান, পাথরের সেতু এবং জলপ্রপাতসহ চার একরের একটি লেক তৈরি করেন। খবর এনডিটিভির।

১৯৮৩ সালে পল ম্যাকার্টনির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রথম র‍্যাঞ্চটি দেখেন মাইকেল জ্যাকসন। তখন ম্যাকার্টনি ‘সে সে সে’ গানের ভিডিও ধারণের জন্য সেখানে অবস্থান করছিলেন। এর পাঁচ বছর পর, ১৯৮৮ সালে জ্যাকসন সম্পত্তিটি কিনে নেন।

এরপরই শুরু হয় বড় পরিবর্তন। ‘পিটার প্যান’-এর সেই কাল্পনিক দ্বীপের নাম অনুসারে তিনি র‍্যাঞ্চটির নাম দেন ‘নেভারল্যান্ড’। ধীরে ধীরে এটি পরিণত হয় একটি ব্যক্তিগত ফ্যান্টাসি জগতে। সেখানে ছিল ফরাসি কান্ট্রি-স্টাইলের বাড়ি, সিনেমা হল, লেক, ট্রেন স্টেশন, ফেরিস হুইল, ক্যারোসেল, বাম্পার কারসহ বিভিন্ন রাইড। ছিল পেটিং জু এবং পুরো সম্পত্তিজুড়ে রেলপথ। তার মায়ের নামে তৈরি ‘ক্যাথেরিন স্টেশন’-এ ছিল বড় একটি ফুলের ঘড়ি।

তবে ২০০৩ সালে পুলিশের তল্লাশি ও পরবর্তী ফৌজদারি মামলার পর জ্যাকসন আর কখনো নেভারল্যান্ডে স্থায়ীভাবে ফেরেননি। ২০০৯ সালে তার মৃত্যুর সময়ও র‍্যাঞ্চটি তার বাড়ি ছিল না।

পরে আর্থিক সংকট ও ফোরক্লোজারের মুখে অ্যামিউজমেন্ট রাইডগুলো সরিয়ে বিক্রি করা হয়। ২০১৫ সালে ১০ কোটি ডলারে সম্পত্তিটি বিক্রির জন্য তোলা হয়। তবে দাম কমে ৬ কোটি ৭০ লাখ এবং পরে ২০১৯ সালে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারে নামে। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী রোনাল্ড বার্কল ২ কোটি ২০ লাখ ডলারে এটি কিনে নেন।

এরই মধ্যে সম্পত্তিটি আবার ‘সিকামোর ভ্যালি র‍্যাঞ্চ’ নামে পরিচিত হয়েছে। র‍্যাঞ্চটি এখনও আছে, কিন্তু মাইকেল জ্যাকসনের তৈরি সেই বিশাল বিনোদন জগত আর নেই।

সূত্র: এনডিটিভি