ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগমারায় প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন পদত্যাগ করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাপলা বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান: শামা ওবায়েদ সবুজ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নারীদের ওপর যারা নির্যাতন চালায় তারা কাপুরুষ: রিজভী আ.লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কিনা, যা বললেন আ স ম ফিরোজ মাইকেল জ্যাকসনের ২৭০০ একরের ‘নেভারল্যান্ড’ ছিল অন্যরকম জগৎ ৩ মাসে উপশাখায় আমানত বেড়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা রাত পোহালেই এসএসসি পুনঃনিরীক্ষণের ফল, জানা যাবে ৩ উপায়ে ট্রাইবেকারের রোমাঞ্চ শেষে সিটি কর্পোরেশনের শিরোপা, পুরস্কার তুলে দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আ.লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কিনা, যা বললেন আ স ম ফিরোজ




জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার হত্যা ও তারেক চৌকিদারকে হত্যাচেষ্টা মামলায় পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তাকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এ সময় কারাগার থেকে ফিরোজকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘এক মামলায় দুই বছরের সাজা খাটলাম। জামিন হয়েছে। আবার অ্যারেস্ট দেখাল। একটা মামলায় জামিন পেলে আরেকটা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট। এটা কি আইন।’

আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষমা চাইলে তো হবে না। যে ক্ষমা চাওয়ার যোগ্য, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। আমি মনে করি না এ মুহূর্তে ক্ষমা চাওয়ার (জাতির কাছে) প্রয়োজন আছে।’

পরে তাকে এজলাসে নেওয়া হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আ স ম ফিরোজের পক্ষে আইনজীবী কামাল হোসেন বিশ্বাস ও শফিকুল ইসলাম স্বপন গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।

এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘আমার বয়স ৭৮ বছর। দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছি। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আটবারের সংসদ সদস্য। আমি কোনো অন্যায়-অবিচার করিনি। কোনো অপরাধ করিনি। আমি অসুস্থ, আমাকে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক মামলায় জামিন পেলে, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।’

শুনানি শেষে আদালত তাকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তার চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হলে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আ স ম ফিরোজের আরেক আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, ‘চার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। তিনি যখন কারামুক্ত হবেন, তখনই তাকে এ দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো। তিনি যেন কারামুক্ত হতে না পারেন, এজন্য তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।’

২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন নাইম হাওলাদার। এ সময় বাম কাঁধের সামনের দিকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি।

পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরে মামলা করা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় তারেক তৌকিদারের রুমমেট শিহাব ছাদে গুলিবিদ্ধ হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তারেকও গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন তারেক।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগমারায় প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

আ.লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কিনা, যা বললেন আ স ম ফিরোজ

আপডেট সময় : ১৮ ঘন্টা আগে

জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার হত্যা ও তারেক চৌকিদারকে হত্যাচেষ্টা মামলায় পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তাকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এ সময় কারাগার থেকে ফিরোজকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘এক মামলায় দুই বছরের সাজা খাটলাম। জামিন হয়েছে। আবার অ্যারেস্ট দেখাল। একটা মামলায় জামিন পেলে আরেকটা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট। এটা কি আইন।’

আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষমা চাইলে তো হবে না। যে ক্ষমা চাওয়ার যোগ্য, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। আমি মনে করি না এ মুহূর্তে ক্ষমা চাওয়ার (জাতির কাছে) প্রয়োজন আছে।’

পরে তাকে এজলাসে নেওয়া হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আ স ম ফিরোজের পক্ষে আইনজীবী কামাল হোসেন বিশ্বাস ও শফিকুল ইসলাম স্বপন গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।

এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘আমার বয়স ৭৮ বছর। দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছি। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আটবারের সংসদ সদস্য। আমি কোনো অন্যায়-অবিচার করিনি। কোনো অপরাধ করিনি। আমি অসুস্থ, আমাকে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক মামলায় জামিন পেলে, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।’

শুনানি শেষে আদালত তাকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তার চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হলে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আ স ম ফিরোজের আরেক আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, ‘চার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। তিনি যখন কারামুক্ত হবেন, তখনই তাকে এ দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো। তিনি যেন কারামুক্ত হতে না পারেন, এজন্য তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।’

২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন নাইম হাওলাদার। এ সময় বাম কাঁধের সামনের দিকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি।

পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরে মামলা করা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় তারেক তৌকিদারের রুমমেট শিহাব ছাদে গুলিবিদ্ধ হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তারেকও গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন তারেক।