চলতি শতাব্দীর শুরুতে বিউটি ও লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সারদের ভুবন ছিল মূলত বিলাসী জীবনযাপন আর অতিরিক্ত ভোগবাদের এক জাঁকজমকপূর্ণ প্রদর্শনী। কার সংগ্রহে কত বড় আর মূল্যবান ডিজাইনারের পোশাক, জুতা বা প্রসাধনী রয়েছে, তা নিয়ে চলত এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। তবে ২০২০ সালের করোনা মহামারি ও পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা সবকিছু ওলটপালট করে দেয়।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক দেশের অর্থনীতিকে ভালো মনে করেন। বিপরীতে ৬৬ শতাংশ মানুষ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন। জীবনযাত্রার এই আকাশছোঁয়া ব্যয়ের কারণে দর্শকরা এখন অতিরিক্ত জাঁকজমক ও বিলাসী কনটেন্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
এই অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইনফ্লুয়েন্সার সংস্কৃতিতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। অবাস্তব বিলাসিতার বদলে জায়গা করে নিচ্ছে ‘বাজেট-ফ্রেন্ডলি’ বা সাশ্রয়ী কনটেন্ট। নতুন প্রজন্মের ক্রিয়েটররা এখন কম খরচে ফ্যাশন, রূপচর্চা ও দৈনন্দিন জীবনকে সাজানোর বাস্তবসম্মত উপায় তুলে ধরছেন।
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ট্রেন্ড বিশ্লেষক ম্যান্ডি লি চালু করেছেন ‘৭৫ হার্ড স্টাইল’ চ্যালেঞ্জ। নয় লাখের বেশি অনুসারীর এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভিডিওতে নতুন পোশাক না কিনে পুরোনো পোশাকের সৃজনশীল সমন্বয় শেখানো হয়। এই প্রোগ্রামে এরই মধ্যে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন।
একইভাবে, টিকটকে ২৫ লাখ অনুসারী থাকা ব্রাইডাল মেকআপ আর্টিস্ট শেলবি অ্যান বেল সাশ্রয়ী প্রসাধনী দিয়ে রূপচর্চার কৌশল দেখাচ্ছেন। তার মতে, কঠিন অর্থনৈতিক সময়ে মানুষ যেন কম খরচেও আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারে, সেটিই তার কনটেন্টের লক্ষ্য। অন্যদিকে, পূজা জেইন তার বিজ্ঞানভিত্তিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দামি স্কিনকেয়ার পণ্যের সাশ্রয়ী ও কার্যকর বিকল্প খুঁজে দিচ্ছেন।
অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে কম বাজেটে সচেতনভাবে জীবনযাপনের এই পরামর্শমূলক কনটেন্টগুলোর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। মানুষের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি এই সাশ্রয়ী ধারা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: এবিসি নিউজ

বিনোদন ডেস্ক 























