ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিএনসির অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ ৬ শতাধিক কর্মী নিয়োগ দেবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আবেদন যেভাবে আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার তাগিদ রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের সৌজন্য সাক্ষাৎ বিপুল ব্যবহারকারীর কারণে ঢাকায় অফিস খুলতে চায় মেটা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পলাতক ফ্যাসিস্ট দেশকে অস্থিতিশীল করতে কলকাঠি নাড়ছে: রিজভী রূপকথার ‘প্রাণভোমরা’ এবার আইস্ক্রিনে, তৌসিফের সঙ্গে নতুন মুখ শুক্র ও শনিবার হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ ব্যাটারি চালিত রিকশার রোড পারমিট ও ১০ দফা দাবিতে দুই সিটি কর্পোরেশনে স্মারকলিপি পেশ রশিদকে সরিয়ে প্রথমবার এক নম্বরে পাকিস্তানের আবরার শেষ মুহূর্তে কপাল খুলল রহস্য স্পিনার আলিসের

গাজীপুর সদরে দীর্ঘদিন সংস্কারহীন সড়ক, নোংরা পানি ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ; তদন্তের আশ্বাস ইউএনও’র




গাজীপুর সদর উপজেলার বি. কে. বাড়ি সিকদার মার্কেট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ হতে জি আই টি (GIT) পর্যন্ত এই রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পোশাক শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীসহ হাজারো মানুষ।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে কাঁদা আর পানি জমে যায়, যার ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। রাস্তার এই কঙ্কালসারের কারণে রিকশা বা ইজিবাইক চালকরা এই রুটে যাতায়াত করতে অনীহা প্রকাশ করেন। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার-সদাই নিয়ে সাধারণ মানুষ হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনকে থমকে দিয়েছে।

ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ড্রেনেজ বা পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায়।
অভিযোগ উঠেছে, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তাদের বাড়ির ব্যবহৃত দুর্গন্ধযুক্ত ও নোংরা পানি সরাসরি রাস্তার ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন। এই নোংরা পানির কারণে এলাকার পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে, তেমনই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রাস্তায় নোংরা ও অপবিত্র পানি জমে থাকায় মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করা তাঁদের জন্য চরম কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বি. কে. বাড়ি এলাকাটি সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত নয়, এটি গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। কিছু ব্যক্তি ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার নামে রাস্তাটি যত্রতত্র খুঁড়ে রাস্তাটিকে আরও বেশি বিপজ্জনক ও চলাচলের অনুপযোগী করে তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি কিংবা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ বা সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের মুসল্লি কে বিষয়টি অবগত করলে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অতিদ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সম্প্রতি এই জনদুর্ভোগের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী মোঃ মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাত হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি ইউএনও-কে রাস্তাটির বর্তমান দুরবস্থা এবং নোংরা পানি ফেলে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাত হোসেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি দ্রুতই উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে (প্রকৌশলী) সরেজমিনে পাঠিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করাবো। তদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং রাস্তায় নোংরা পানি নিষ্কাশন বন্ধে প্রশাসনের এই আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করছেন।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

ডিএনসির অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১

গাজীপুর সদরে দীর্ঘদিন সংস্কারহীন সড়ক, নোংরা পানি ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ; তদন্তের আশ্বাস ইউএনও’র

আপডেট সময় : ০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুর সদর উপজেলার বি. কে. বাড়ি সিকদার মার্কেট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ হতে জি আই টি (GIT) পর্যন্ত এই রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পোশাক শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীসহ হাজারো মানুষ।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে কাঁদা আর পানি জমে যায়, যার ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। রাস্তার এই কঙ্কালসারের কারণে রিকশা বা ইজিবাইক চালকরা এই রুটে যাতায়াত করতে অনীহা প্রকাশ করেন। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার-সদাই নিয়ে সাধারণ মানুষ হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনকে থমকে দিয়েছে।

ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ড্রেনেজ বা পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায়।
অভিযোগ উঠেছে, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তাদের বাড়ির ব্যবহৃত দুর্গন্ধযুক্ত ও নোংরা পানি সরাসরি রাস্তার ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন। এই নোংরা পানির কারণে এলাকার পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে, তেমনই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রাস্তায় নোংরা ও অপবিত্র পানি জমে থাকায় মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করা তাঁদের জন্য চরম কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বি. কে. বাড়ি এলাকাটি সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত নয়, এটি গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। কিছু ব্যক্তি ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার নামে রাস্তাটি যত্রতত্র খুঁড়ে রাস্তাটিকে আরও বেশি বিপজ্জনক ও চলাচলের অনুপযোগী করে তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি কিংবা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ বা সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের মুসল্লি কে বিষয়টি অবগত করলে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অতিদ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সম্প্রতি এই জনদুর্ভোগের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী মোঃ মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাত হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি ইউএনও-কে রাস্তাটির বর্তমান দুরবস্থা এবং নোংরা পানি ফেলে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাত হোসেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি দ্রুতই উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে (প্রকৌশলী) সরেজমিনে পাঠিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করাবো। তদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং রাস্তায় নোংরা পানি নিষ্কাশন বন্ধে প্রশাসনের এই আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করছেন।