ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার নেতাদের বৈঠক




অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিসিআই) নেতারা। বৈঠকে বাড়বকুণ্ডুর ওজন স্কেল, এলসি পেমেন্টে মূল নথি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ এবং লেনদেনের ওপর নতুন এক শতাংশ কর, ব্যবসা-বাণিজ্যের এসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়েও মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যবসায়ী নেতারা জানান, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে এ স্কেলকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের গতি ব্যাহত হচ্ছে। তাই ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে বারবকুণ্ডুর ওজন স্কেলটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

এলসি পেমেন্টের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মূল ডকুমেন্ট বা নথি ছাড়াই ব্যাংক থেকে এলসির অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক লেনদেনে ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় মূল নথি যাচাই ছাড়া এলসি পেমেন্ট না দেওয়ার বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইন করার বিষয়টি তুলে ধরেন তারা।

ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায় বৈঠকে। নেতারা বলেন, ঋণের সুদের হার বেশি থাকায় শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে। এতে একদিকে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবসাগুলোও চাপের মুখে পড়ছে। তাই ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান তারা।

এ ছাড়া সীমিত কোম্পানির ক্ষেত্রে দুই কোটি টাকার বেশি লেনদেনে সরকারের নতুন ১ শতাংশ কর বা চার্জ আরোপের বিষয়েও আলোচনা হয়। ব্যবসায়ীরা এ হার সহনীয় পর্যায়ে কমানোর দাবি জানান। তাদের মতে, লেনদেনের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

মতবিনিময়ে চট্টগ্রামের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর হলে চট্টগ্রামের শিল্প ও বাণিজ্য কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মত দেন ব্যবসায়ী নেতারা।

চেম্বার নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দরনির্ভর বাণিজ্যিক কেন্দ্র। আমদানি-রপ্তানি থেকে শুরু করে শিল্প, পরিবহন ও বিভিন্ন খাতের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাই চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে শুধু স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ কারণে আলোচনায় উঠে আসা সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

ব্যবসায়ী নেতাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা শোনার পর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির মূল কেন্দ্র। এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট শিল্পপতি আলহাজ খলিলুর রহমান, ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাবুবুর রহমান, আব্দুস সালাম, জসীমউদ্দিন চৌধুরী, পরিচালকদের মধ্যে মোহাম্মদ শাহ আলম, জাহাঙ্গীর আলম, মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

চলনবিলের সময়

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি চরম স্বাদ—- বগুড়া ডলার চানাচুর এন্ড সেমাই কারখানার ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায়

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার নেতাদের বৈঠক

আপডেট সময় : ০৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিসিআই) নেতারা। বৈঠকে বাড়বকুণ্ডুর ওজন স্কেল, এলসি পেমেন্টে মূল নথি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ এবং লেনদেনের ওপর নতুন এক শতাংশ কর, ব্যবসা-বাণিজ্যের এসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়েও মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যবসায়ী নেতারা জানান, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে এ স্কেলকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের গতি ব্যাহত হচ্ছে। তাই ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে বারবকুণ্ডুর ওজন স্কেলটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

এলসি পেমেন্টের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মূল ডকুমেন্ট বা নথি ছাড়াই ব্যাংক থেকে এলসির অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক লেনদেনে ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় মূল নথি যাচাই ছাড়া এলসি পেমেন্ট না দেওয়ার বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইন করার বিষয়টি তুলে ধরেন তারা।

ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায় বৈঠকে। নেতারা বলেন, ঋণের সুদের হার বেশি থাকায় শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে। এতে একদিকে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবসাগুলোও চাপের মুখে পড়ছে। তাই ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান তারা।

এ ছাড়া সীমিত কোম্পানির ক্ষেত্রে দুই কোটি টাকার বেশি লেনদেনে সরকারের নতুন ১ শতাংশ কর বা চার্জ আরোপের বিষয়েও আলোচনা হয়। ব্যবসায়ীরা এ হার সহনীয় পর্যায়ে কমানোর দাবি জানান। তাদের মতে, লেনদেনের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

মতবিনিময়ে চট্টগ্রামের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর হলে চট্টগ্রামের শিল্প ও বাণিজ্য কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মত দেন ব্যবসায়ী নেতারা।

চেম্বার নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দরনির্ভর বাণিজ্যিক কেন্দ্র। আমদানি-রপ্তানি থেকে শুরু করে শিল্প, পরিবহন ও বিভিন্ন খাতের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাই চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে শুধু স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ কারণে আলোচনায় উঠে আসা সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

ব্যবসায়ী নেতাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা শোনার পর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির মূল কেন্দ্র। এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট শিল্পপতি আলহাজ খলিলুর রহমান, ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাবুবুর রহমান, আব্দুস সালাম, জসীমউদ্দিন চৌধুরী, পরিচালকদের মধ্যে মোহাম্মদ শাহ আলম, জাহাঙ্গীর আলম, মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

চলনবিলের সময়