নরসিংদীর মনোহরদীতে ডিমবোঝাই পিকআপভ্যানে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ও শনিবার (১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মনোহরদী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, নরসিংদীর সহকারী পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) রায়হান সরকার।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বড়নগর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে ইমন, একই গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে মো. রিফাত হৃদয়, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুন্না ওরফে রুমান, কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ভূঁইয়ারপাড় গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে রহমত আলী ওরফে জিল্লুর এবং নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরসভার আবু তাহেরের ছেলে জসিম উদ্দিন।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে ইটাখলা-মঠখলা আঞ্চলিক সড়কের মনোহরদীর একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের চঙ্গভান্ডা এলাকায় ইসমাইল হোসেনের বাড়ির সামনে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা একটি পিকআপভ্যান দিয়ে ডিমবোঝাই অন্য একটি পিকআপভ্যানের গতিরোধ করে।
পরে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ডিমের গাড়ির চালক ও তার সহযোগীর হাত-পা বেঁধে ডাকাতদের ব্যবহৃত পিকআপভ্যানে তুলে নেয় তারা। এরপর তাদের হেতেমদী-সাগরদী বাইপাস সড়কের পাশে ফেলে রেখে ডিমবোঝাই পিকআপভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
এ ঘটনায় ডিমের গাড়ির মালিক মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর মহাসড়ক এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার নোয়াখালীর সেনবাগ দক্ষিণ বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
সেখানে লুণ্ঠিত ডিমের ক্রেতা এবং ডাকাতদের পূর্বপরিচিত জসিম উদ্দিনের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত পিকআপভ্যান, ৯৮ পিস খালি ডিমের ক্যারেট ও ডিম বিক্রির নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে জসিম উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান সরকার বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার সড়ক ও মহাসড়কে নিয়মিত ডাকাতি করে আসছিলেন। গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’
সংবাদ সম্মেলনে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, এসআই শহীদুজ্জামান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

নরসিংদী প্রতিনিধি 






















