ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বগুড়ার পণ্য ভারতে আরও বিস্তৃত বাজার চায় ব্যবসায়ীরা এস আর মজুমদারের নির্মাণে পার্থ শেখ-মালাইকার ‘প্রিয়জন’ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনতে চায় বাংলাদেশ ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে ফের সোচ্চার ডেনমার্ক ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারে ব্যবহৃত উইন্ডোজ ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’: পলক আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর এআইকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কর্মসূচি হিসেবে নিতে হবে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ব্রিকস নয়াদিল্লি ঘোষণা বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারতের বড় জয় বিপৎসীমার কাছাকাছি পদ্মার পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ভারত থেকে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি

লালমনিরহাটে ২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা, প্রতিবাদে মানববন্ধন




লালমনিরহাটে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের নামে সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদ ও প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ‘সত্য প্রকাশে কলম চলবে’ স্লোগানে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।

মামলায় অভিযুক্ত দুই সাংবাদিক হলেন- দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি এস কে সাহেদ ও দৈনিক নয়া দিগন্তের মাল্টিমিডিয়ার প্রতিনিধি জুবাইর আহমেদ খান রোহান।

জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল দৈনিক কালবেলায় ‘গ্রাহকের ১২ কোটি টাকা নিয়ে উধাও দুই সমিতি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি ও তিস্তা ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের আমানতের অর্থ আটকে রাখা, ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত চড়া সুদে টাকা লেনদেন এবং সঞ্চয়ের টাকার বিপরীতে নিম্নমানের পণ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটিতে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বক্তব্য এবং তাদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়ও তুলে ধরা হয়। একই অভিযোগ নিয়ে আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এরপর গত ২ জুলাই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন এম এ হাশেম। মামলায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য সিআইডি লালমনিরহাটকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী কালবেলার জেলা প্রতিনিধি এস কে সাহেদ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কারও বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ করিনি। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা নিয়ে কী ঘটছে, সেটিই তুলে ধরেছি। অনিয়ম আড়াল করতে এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতেই এই মামলা করা হয়েছে।’

৭১ টেলিভিশনের লালমনিরহাট প্রতিনিধি মিলন পাটোয়ারী বলেন, ‘সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে যারা অপসাংবাদিকতা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের কারণেই আজ প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

প্রেস ক্লাব লালমনিরহাটের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল স্বাধীন সাংবাদিকতার গতি থামিয়ে দিতে নানা অপতৎপরতায় মেতে উঠেছে। এদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এসব ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে হবে।’

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ার পণ্য ভারতে আরও বিস্তৃত বাজার চায় ব্যবসায়ীরা

লালমনিরহাটে ২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১২ ঘন্টা আগে

লালমনিরহাটে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের নামে সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদ ও প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ‘সত্য প্রকাশে কলম চলবে’ স্লোগানে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।

মামলায় অভিযুক্ত দুই সাংবাদিক হলেন- দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি এস কে সাহেদ ও দৈনিক নয়া দিগন্তের মাল্টিমিডিয়ার প্রতিনিধি জুবাইর আহমেদ খান রোহান।

জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল দৈনিক কালবেলায় ‘গ্রাহকের ১২ কোটি টাকা নিয়ে উধাও দুই সমিতি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি ও তিস্তা ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের আমানতের অর্থ আটকে রাখা, ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত চড়া সুদে টাকা লেনদেন এবং সঞ্চয়ের টাকার বিপরীতে নিম্নমানের পণ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটিতে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বক্তব্য এবং তাদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়ও তুলে ধরা হয়। একই অভিযোগ নিয়ে আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এরপর গত ২ জুলাই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন এম এ হাশেম। মামলায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য সিআইডি লালমনিরহাটকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী কালবেলার জেলা প্রতিনিধি এস কে সাহেদ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কারও বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ করিনি। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা নিয়ে কী ঘটছে, সেটিই তুলে ধরেছি। অনিয়ম আড়াল করতে এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতেই এই মামলা করা হয়েছে।’

৭১ টেলিভিশনের লালমনিরহাট প্রতিনিধি মিলন পাটোয়ারী বলেন, ‘সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে যারা অপসাংবাদিকতা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের কারণেই আজ প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

প্রেস ক্লাব লালমনিরহাটের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল স্বাধীন সাংবাদিকতার গতি থামিয়ে দিতে নানা অপতৎপরতায় মেতে উঠেছে। এদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এসব ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে হবে।’