ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বাগেরহাটে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ৩




বাগেরহাটের কচুয়ায় মা, ছেলে ও নানিকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আসামিরা একই এলাকার বাসিন্দা এবং তাদের মধ্যে দুজন নিহতদের নিকটাত্মীয়। পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।

গ্রেপ্তাররা হলেন- কচুয়া উপজেলার মজিদ হাওলাদারের ছেলে রাজমিস্ত্রি জাহিদুল ইসলাম, সুলতান শেখের ছেলে আসাদুল শেখ এবং বারিক হাওলাদারের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু। তাদের কাছ থেকে নিহতদের ব্যবহৃত ৪টি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, স্থানীয় সোর্স ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছিল পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রাম থেকে আসাদুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরিফ হাওলাদার বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে নিহত পরিবারের এক নারীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে জাহিদুলের পরিবারে অশান্তি চলছিল। বিষয়টি নিয়ে নিহত মুনিরা বেগমের সঙ্গেও জাহিদুলের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে জাহিদুল ওই পরিবারের সদস্যদের হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে আসাদুল ও আরিফকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

এর আগে গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর দুই দিন আগে, ২ আগস্ট বিকেল থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই রাতেই নিহত আহাদ হাওলাদারের বড় ভাই ফয়সাল হাওলাদার অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

নিহতরা হলেন- চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার, তার মা মনিরা বেগম এবং নানি রাশিদা বেগম। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি চরম স্বাদ—- বগুড়া ডলার চানাচুর এন্ড সেমাই কারখানার ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায়

বাগেরহাটে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ৩

আপডেট সময় : ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগেরহাটের কচুয়ায় মা, ছেলে ও নানিকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আসামিরা একই এলাকার বাসিন্দা এবং তাদের মধ্যে দুজন নিহতদের নিকটাত্মীয়। পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।

গ্রেপ্তাররা হলেন- কচুয়া উপজেলার মজিদ হাওলাদারের ছেলে রাজমিস্ত্রি জাহিদুল ইসলাম, সুলতান শেখের ছেলে আসাদুল শেখ এবং বারিক হাওলাদারের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু। তাদের কাছ থেকে নিহতদের ব্যবহৃত ৪টি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, স্থানীয় সোর্স ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছিল পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রাম থেকে আসাদুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরিফ হাওলাদার বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে নিহত পরিবারের এক নারীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে জাহিদুলের পরিবারে অশান্তি চলছিল। বিষয়টি নিয়ে নিহত মুনিরা বেগমের সঙ্গেও জাহিদুলের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে জাহিদুল ওই পরিবারের সদস্যদের হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরে আসাদুল ও আরিফকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

এর আগে গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর দুই দিন আগে, ২ আগস্ট বিকেল থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই রাতেই নিহত আহাদ হাওলাদারের বড় ভাই ফয়সাল হাওলাদার অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

নিহতরা হলেন- চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার, তার মা মনিরা বেগম এবং নানি রাশিদা বেগম। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী।