ঢাকা , সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১১

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় এ ​সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন- মাসুদ মিয়া, চাঁন মিয়া, ডা. মাজহারুল ইসলাম মুকুল, আনিসুর রহমান আনিস, বাবু মিয়া ও হুমায়ুন কবির, পিংনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সরকার, বায়েজিদ, সামাল মিয়া, শিবলু মিয়া এবং সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম।

গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য জামালপুর ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পিংনা কাওয়ামারা এলাকার রসপাল মৌজায় যমুনা নদীর চরের পাশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভ্রাম্যমাণ বাল্কহেড ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছিল ছাত্রদল নেতা সুভাষ সরকার। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ বাধা দিলেও তিনি তা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বালু তুলে যাচ্ছিলেন।

​এরই জেরে শনিবার রাত ৯টার দিকে বালু উত্তোলনকারী একটি বাল্কহেড আটক করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে সুভাষ সরকারের নেতৃত্বে প্রায় ১৫টি মোটরসাইকেলে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় এসে অতর্কিত হামলা চালায়। আতঙ্ক ছড়াতে তারা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এছাড়া রামদা, জিআই পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরদিন রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে আটককৃত বাল্কহেডটি নিতে আসলে সুভাষের ৩ সহযোগীকে স্থানীয় জনতা ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।

স্থানীয় কৃষকদল সদস্য শামীম মিয়া বলেন, ‘সুভাষ সন্ত্রাসী কায়দায় জোরপূর্বক বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করায় সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। আমরা তার দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি চাই।’

​তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুভাষ সরকার বলেন, ‘বাল্কহেডটি আমার নয়, সরিষাবাড়ীর সোহাগ নামে এক ব্যক্তির। তিনি উদ্ধারের অনুরোধ জানালে আমি যাই। কিন্তু সেখানে পৌঁছানো মাত্রই প্রতিপক্ষ আমাদের লোকজনের ওপর আগে হামলা চালায়।’

সরিষাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে গুলিবর্ষণের বিষয়ে আমার জানা নেই। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১১

আপডেট সময় : ৮ ঘন্টা আগে

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় এ ​সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন- মাসুদ মিয়া, চাঁন মিয়া, ডা. মাজহারুল ইসলাম মুকুল, আনিসুর রহমান আনিস, বাবু মিয়া ও হুমায়ুন কবির, পিংনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সরকার, বায়েজিদ, সামাল মিয়া, শিবলু মিয়া এবং সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম।

গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য জামালপুর ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পিংনা কাওয়ামারা এলাকার রসপাল মৌজায় যমুনা নদীর চরের পাশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভ্রাম্যমাণ বাল্কহেড ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছিল ছাত্রদল নেতা সুভাষ সরকার। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ বাধা দিলেও তিনি তা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বালু তুলে যাচ্ছিলেন।

​এরই জেরে শনিবার রাত ৯টার দিকে বালু উত্তোলনকারী একটি বাল্কহেড আটক করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে সুভাষ সরকারের নেতৃত্বে প্রায় ১৫টি মোটরসাইকেলে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় এসে অতর্কিত হামলা চালায়। আতঙ্ক ছড়াতে তারা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এছাড়া রামদা, জিআই পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরদিন রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে আটককৃত বাল্কহেডটি নিতে আসলে সুভাষের ৩ সহযোগীকে স্থানীয় জনতা ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।

স্থানীয় কৃষকদল সদস্য শামীম মিয়া বলেন, ‘সুভাষ সন্ত্রাসী কায়দায় জোরপূর্বক বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করায় সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। আমরা তার দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি চাই।’

​তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুভাষ সরকার বলেন, ‘বাল্কহেডটি আমার নয়, সরিষাবাড়ীর সোহাগ নামে এক ব্যক্তির। তিনি উদ্ধারের অনুরোধ জানালে আমি যাই। কিন্তু সেখানে পৌঁছানো মাত্রই প্রতিপক্ষ আমাদের লোকজনের ওপর আগে হামলা চালায়।’

সরিষাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে গুলিবর্ষণের বিষয়ে আমার জানা নেই। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।