ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেলা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, নথিপত্র দেখিয়ে তদন্ত দাবি

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের করা অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে চুক্তিনামা, রেজুলেশন, অর্থ লেনদেনের নথি, চেক ও স্ট্যাম্পের হিসাব সামনে এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মো. শহিদুল হক।

‎শনিবার (২৯ আগস্ট) গঙ্গাচড়ায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান।

‎লিখিত বক্তব্যে শহিদুল হক বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ৪০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা আয়োজনের জন্য গত ৪ মার্চ রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। পরে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় ৭ এপ্রিল মো. মাহবুব হোসেনের সঙ্গে মেলা আয়োজন নিয়ে চুক্তি হয়। চুক্তির সময় মাহবুবকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন শহিদুল।

‎তার ভাষ্য, ২ মে মেলা পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন ও রেজুলেশন করা হয়। এরপর ৬ মে জমি লিজ বাবদ আরও ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে ৪৫ দিনব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলার আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

‎শহিদুল হক বলেন, পরবর্তী সময়ে ১৮ আগস্ট বিজয় দিবস উপলক্ষে ৬০ দিনব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য ঢাকা থেকে একটি প্রতিনিধি দল রংপুরে আসে। তাদের থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন ব্যয় সংশ্লিষ্টদের বহন করতে হয়। তবে ২৩ আগস্ট মেলার অনুমোদনের প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে না পেরে মাহবুব প্রতিনিধি দলকে রংপুরে রেখে বাড়িতে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎এরপর ২৪ আগস্ট মেলা কমিটির ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে মাহবুব হোসেন চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন বলে দাবি করেন শহিদুল। এ-সংক্রান্ত চুক্তিপত্র, রেজুলেশন, অর্থ লেনদেনের কাগজপত্র, চেক ও স্ট্যাম্প তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

‎নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। মেলা-সংক্রান্ত সব নথি যাচাই, অর্থ লেনদেনের হিসাব পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

‎সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে একই ধরনের কৌশলে টাকা নেওয়া এবং পরে টাকা ফেরত না দেওয়া বা প্রতিশ্রুত কাজ সম্পন্ন না করার অভিযোগও তোলেন শহিদুল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত মাহবুবকে অপরাধী হিসেবে আখ্যা দিতে চান না বলে জানান তিনি।

‎শহিদুলের দাবি, শুধু তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নয়, মাহবুবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও প্রশাসনের তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে কোনো পক্ষের একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে উভয় পক্ষের বক্তব্য, চুক্তিপত্র, রেজুলেশন, অর্থ লেনদেনের নথি, চেক ও স্ট্যাম্প যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

‎তিনি দাবি করেন, মেলা আয়োজনের কোনো টাকা আত্মসাৎ বা অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। পুরো বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং যার কাছে যে টাকা পাওনা রয়েছে, তা আইনগত ও ন্যায়সংগতভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানান তিনি।

‎তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. মাহবুব হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

মেলা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, নথিপত্র দেখিয়ে তদন্ত দাবি

আপডেট সময় : ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের করা অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে চুক্তিনামা, রেজুলেশন, অর্থ লেনদেনের নথি, চেক ও স্ট্যাম্পের হিসাব সামনে এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মো. শহিদুল হক।

‎শনিবার (২৯ আগস্ট) গঙ্গাচড়ায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান।

‎লিখিত বক্তব্যে শহিদুল হক বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ৪০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা আয়োজনের জন্য গত ৪ মার্চ রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। পরে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় ৭ এপ্রিল মো. মাহবুব হোসেনের সঙ্গে মেলা আয়োজন নিয়ে চুক্তি হয়। চুক্তির সময় মাহবুবকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন শহিদুল।

‎তার ভাষ্য, ২ মে মেলা পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন ও রেজুলেশন করা হয়। এরপর ৬ মে জমি লিজ বাবদ আরও ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে ৪৫ দিনব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলার আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

‎শহিদুল হক বলেন, পরবর্তী সময়ে ১৮ আগস্ট বিজয় দিবস উপলক্ষে ৬০ দিনব্যাপী হস্ত ও কুটির শিল্প মেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য ঢাকা থেকে একটি প্রতিনিধি দল রংপুরে আসে। তাদের থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন ব্যয় সংশ্লিষ্টদের বহন করতে হয়। তবে ২৩ আগস্ট মেলার অনুমোদনের প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে না পেরে মাহবুব প্রতিনিধি দলকে রংপুরে রেখে বাড়িতে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

‎এরপর ২৪ আগস্ট মেলা কমিটির ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে মাহবুব হোসেন চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন বলে দাবি করেন শহিদুল। এ-সংক্রান্ত চুক্তিপত্র, রেজুলেশন, অর্থ লেনদেনের কাগজপত্র, চেক ও স্ট্যাম্প তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

‎নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। মেলা-সংক্রান্ত সব নথি যাচাই, অর্থ লেনদেনের হিসাব পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

‎সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে একই ধরনের কৌশলে টাকা নেওয়া এবং পরে টাকা ফেরত না দেওয়া বা প্রতিশ্রুত কাজ সম্পন্ন না করার অভিযোগও তোলেন শহিদুল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত মাহবুবকে অপরাধী হিসেবে আখ্যা দিতে চান না বলে জানান তিনি।

‎শহিদুলের দাবি, শুধু তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নয়, মাহবুবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও প্রশাসনের তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে কোনো পক্ষের একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করে উভয় পক্ষের বক্তব্য, চুক্তিপত্র, রেজুলেশন, অর্থ লেনদেনের নথি, চেক ও স্ট্যাম্প যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

‎তিনি দাবি করেন, মেলা আয়োজনের কোনো টাকা আত্মসাৎ বা অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। পুরো বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং যার কাছে যে টাকা পাওনা রয়েছে, তা আইনগত ও ন্যায়সংগতভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানান তিনি।

‎তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. মাহবুব হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।