ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিজিবির সীমান্ত ভাতা পুনর্নির্ধারণ, কোন গ্রেডে কত টাকা আজ জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী রক্তাক্ত অবতারে রণবীর, প্রকাশ্যে ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’এর প্রথম ঝলক ৫০ লাখ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফেরত, কোটি টাকার আমানতে কাটছাঁট ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলা সম্ভব বাংলাদেশের’ তিন ম্যাচ খেলেই পৃথিবীর ৮৭% ঘুরে ফেলবেন তারা বিশ্বের সেরা শহরের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে নিউইয়র্ক শিবগঞ্জে ফ্যাসিস্ট দোসরদের অপতৎপরতা রুখে দিতে বিএনপির বিক্ষোভ ও সমাবেশ বাগমারায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল বগুড়ায় অবৈধ পার্কিংয়ে ছাড় নয়—সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে জরিমানা
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের উদ্যোগ

৫০ লাখ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফেরত, কোটি টাকার আমানতে কাটছাঁট




অবসায়নের পথে থাকা চারটি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য একটি বিশেষ স্কিম অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

স্কিম অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের মূল অর্থ পুরোটা ফেরত দেওয়া হবে। এর বেশি আমানত থাকলে নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী অর্থ ফেরত পাবেন গ্রাহকরা; অর্থাৎ বড় আমানতকারীদের মূল টাকার একটি অংশ ফেরত দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়। গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অবসায়ন প্রক্রিয়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের কাঠামো নিয়ে আলোচনা শেষে স্কিমটি অনুমোদন করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি আমানতকারীর জমা ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে তিনি তার পুরো মূল অর্থ ফেরত পাবেন। তবে আমানতের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে ফেরতের সীমাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

স্কিম অনুযায়ী, ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত থাকা গ্রাহক সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা ফেরত পাবেন। এক কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে ফেরত দেওয়া হবে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা। দেড় কোটি থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতকারীরা পাবেন সর্বোচ্চ এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা। আর দুই কোটি টাকার বেশি আমানত থাকলে সর্বোচ্চ এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক।

অর্থাৎ আমানতের পরিমাণ যত বেশি হবে, নির্ধারিত সীমার কারণে মূল অর্থের একটি অংশ ফেরতের বাইরে থাকবে। অবসায়নের প্রক্রিয়ায় থাকা চার প্রতিষ্ঠান হলো—আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চার প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১২ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সে পাঁচ হাজার ৩৬৮ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে তিন হাজার ১২ কোটি, এফএএস ফাইন্যান্সে এক হাজার ২৪৬ কোটি এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা আমানত রয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট দীর্ঘদিনের। খেলাপি ঋণের পরিমাণও অত্যন্ত বেশি। প্রতিষ্ঠানভেদে খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানগুলো অবসায়নের উদ্যোগ নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এর আগে গত ৯ আগস্ট চার প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদও শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে কার্যক্রম পরিচালনা ও অবসায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রশাসকদের সহায়তায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও দুজন করে কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে, আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গত বছরের মে মাসে ২০টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ বা লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছিল।

পরবর্তী সময়ে ওই ২০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম ধাপে নয়টিকে বন্ধের জন্য বাছাই করা হয়। তাদের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চূড়ান্তভাবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে পিপলস লিজিংয়ের ক্ষেত্রে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

অন্যদিকে, আরও চারটি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি বন্ধ না করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাদের বিরুদ্ধেও পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এই চার প্রতিষ্ঠান হলো- প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

বিজিবির সীমান্ত ভাতা পুনর্নির্ধারণ, কোন গ্রেডে কত টাকা

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের উদ্যোগ

৫০ লাখ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফেরত, কোটি টাকার আমানতে কাটছাঁট

আপডেট সময় : ৬ ঘন্টা আগে

অবসায়নের পথে থাকা চারটি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য একটি বিশেষ স্কিম অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

স্কিম অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের মূল অর্থ পুরোটা ফেরত দেওয়া হবে। এর বেশি আমানত থাকলে নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী অর্থ ফেরত পাবেন গ্রাহকরা; অর্থাৎ বড় আমানতকারীদের মূল টাকার একটি অংশ ফেরত দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়। গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অবসায়ন প্রক্রিয়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের কাঠামো নিয়ে আলোচনা শেষে স্কিমটি অনুমোদন করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি আমানতকারীর জমা ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে তিনি তার পুরো মূল অর্থ ফেরত পাবেন। তবে আমানতের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে ফেরতের সীমাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

স্কিম অনুযায়ী, ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত থাকা গ্রাহক সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা ফেরত পাবেন। এক কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে ফেরত দেওয়া হবে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা। দেড় কোটি থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতকারীরা পাবেন সর্বোচ্চ এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা। আর দুই কোটি টাকার বেশি আমানত থাকলে সর্বোচ্চ এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক।

অর্থাৎ আমানতের পরিমাণ যত বেশি হবে, নির্ধারিত সীমার কারণে মূল অর্থের একটি অংশ ফেরতের বাইরে থাকবে। অবসায়নের প্রক্রিয়ায় থাকা চার প্রতিষ্ঠান হলো—আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চার প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১২ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সে পাঁচ হাজার ৩৬৮ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে তিন হাজার ১২ কোটি, এফএএস ফাইন্যান্সে এক হাজার ২৪৬ কোটি এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা আমানত রয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট দীর্ঘদিনের। খেলাপি ঋণের পরিমাণও অত্যন্ত বেশি। প্রতিষ্ঠানভেদে খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানগুলো অবসায়নের উদ্যোগ নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এর আগে গত ৯ আগস্ট চার প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদও শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে কার্যক্রম পরিচালনা ও অবসায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রশাসকদের সহায়তায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও দুজন করে কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে, আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গত বছরের মে মাসে ২০টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ বা লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছিল।

পরবর্তী সময়ে ওই ২০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম ধাপে নয়টিকে বন্ধের জন্য বাছাই করা হয়। তাদের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চূড়ান্তভাবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে পিপলস লিজিংয়ের ক্ষেত্রে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

অন্যদিকে, আরও চারটি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি বন্ধ না করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাদের বিরুদ্ধেও পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এই চার প্রতিষ্ঠান হলো- প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।