ঢাকা , সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষের মামলায় ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোরেনোর কারাদণ্ড

ঘুষের মামলায় ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাকে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ইকুয়েডরের পাবলিক প্রসিকিউটর কার্যালয় সাজার বিষয়ে বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানায়। দেশটির সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র কোকা কোদো সিনক্লেয়ার নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত দুর্নীতির মামলায় মোরেনোকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

৭৩ বছর বয়সী মোরেনো ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, কোকা কোদো সিনক্লেয়ার প্রকল্পকে ঘিরে একটি দুর্নীতিচক্রের মাধ্যমে ঘুষের অর্থ লেনদেন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের মার্চে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে মোরেনোর পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় ও চীনা ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

ইকুয়েডরের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের দাবি, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভুয়া পরামর্শক চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি ৬১ লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছে।

আদালতের প্রধান বিচারক ম্যানুয়েল কাবরেরা রায় ঘোষণার সময় বলেন, মোরেনোর কর্মকাণ্ড একজন সরকারি কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মামলায় মোরেনোর স্ত্রী ও মেয়ে এবং তার দুই ভাই ও তাদের স্ত্রীদেরও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কুইটোতে চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুংগুকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, বিদেশি ব্যাংক হিসাব ও করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন দেশের ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরে সেই অর্থ মোরেনোর পরিবার ও সহযোগীদের কাছে পৌঁছায়। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় মোরেনো ও তার ঘনিষ্ঠ স্বজনেরা ১০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছিলেন।

তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন মোরেনো। প্রকল্পের কোনো চুক্তি স্বাক্ষর বা তদারকিতে তার ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি।

আদালতে শুনানির সময় মোরেনো বলেন, তদন্তকারীরা ভুল জায়গায় খুঁজছেন এবং যারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ও ঘুষ দাবি করেছেন, তাদের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

সূত্র: আলজাজিরা

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুষের মামলায় ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোরেনোর কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৪:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

ঘুষের মামলায় ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাকে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ইকুয়েডরের পাবলিক প্রসিকিউটর কার্যালয় সাজার বিষয়ে বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানায়। দেশটির সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র কোকা কোদো সিনক্লেয়ার নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত দুর্নীতির মামলায় মোরেনোকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

৭৩ বছর বয়সী মোরেনো ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, কোকা কোদো সিনক্লেয়ার প্রকল্পকে ঘিরে একটি দুর্নীতিচক্রের মাধ্যমে ঘুষের অর্থ লেনদেন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের মার্চে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে মোরেনোর পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় ও চীনা ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

ইকুয়েডরের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের দাবি, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভুয়া পরামর্শক চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি ৬১ লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছে।

আদালতের প্রধান বিচারক ম্যানুয়েল কাবরেরা রায় ঘোষণার সময় বলেন, মোরেনোর কর্মকাণ্ড একজন সরকারি কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মামলায় মোরেনোর স্ত্রী ও মেয়ে এবং তার দুই ভাই ও তাদের স্ত্রীদেরও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কুইটোতে চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুংগুকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, বিদেশি ব্যাংক হিসাব ও করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন দেশের ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরে সেই অর্থ মোরেনোর পরিবার ও সহযোগীদের কাছে পৌঁছায়। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় মোরেনো ও তার ঘনিষ্ঠ স্বজনেরা ১০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছিলেন।

তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন মোরেনো। প্রকল্পের কোনো চুক্তি স্বাক্ষর বা তদারকিতে তার ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি।

আদালতে শুনানির সময় মোরেনো বলেন, তদন্তকারীরা ভুল জায়গায় খুঁজছেন এবং যারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ও ঘুষ দাবি করেছেন, তাদের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

সূত্র: আলজাজিরা