- /
- চলনবিলের খবর
- /
- জলাশয়ে কচুরিপানার বুকে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য
জলাশয়ে কচুরিপানার বুকে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য
কেউ রোপণ করেনি, কেউ দেয়নি সার কিংবা পানি। প্রকৃতির আপন নিয়মেই জলাশয়জুড়ে জন্মেছে কচুরিপানা। আর সেই কচুরিপানার সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটেছে অসংখ্য হালকা বেগুনি রঙের ফুল। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, বিস্তীর্ণ জলাশয়ের বুকে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ফুলের সবুজ গালিচা। প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পথচারীদের।
গ্রামবাংলার পুকুর, ডোবা, খাল-বিল ও নদীর পরিচিত উদ্ভিদ কচুরিপানা। সাধারণত জলজ আগাছা হিসেবেই পরিচিত এই উদ্ভিদ। তবে ফুল ফোটার মৌসুমে এর রূপ যেন বদলে যায়। সবুজ পাতার ওপর মাথা তুলে থাকা থোকা থোকা ফুল প্রকৃতিতে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। বিশেষ করে বিস্তীর্ণ জলাশয়জুড়ে একসঙ্গে ফুল ফুটলে তৈরি হয় চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক দৃশ্য।
সম্প্রতি চলনবিল অঞ্চলের একটি জলাশয়ে দেখা গেছে এমনই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। জলাশয়ের প্রায় পুরোটা সবুজ কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে। তার মাঝেই অসংখ্য ফুল ফুটে আছে। কোথাও সবুজ পাতার ফাঁকে পানির ঝিলিক, কোথাও আবার ফুলের সমারোহ। পেছনে সড়ক ও সেতুর দৃশ্যের সঙ্গে জলাশয়ের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন তৈরি করেছে এক অপূর্ব ছবির ক্যানভাস।
কচুরিপানার ফুল দেখতে অনেকটা হালকা বেগুনি ও নীলচে রঙের। ফুলের পাপড়িতে রয়েছে হলুদাভ নকশা। সকালের আলো কিংবা বিকেলের মৃদু রোদে এসব ফুলের সৌন্দর্য আরও বেশি ফুটে ওঠে। প্রকৃতিপ্রেমী ও সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের কাছে এমন দৃশ্য হয়ে ওঠে মুগ্ধতার উপলক্ষ।
তবে কচুরিপানার সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে পরিবেশগত গুরুত্ব ও কিছু চ্যালেঞ্জ। জলাশয়ে অতিরিক্ত কচুরিপানা ছড়িয়ে পড়লে পানিতে সূর্যের আলো ও অক্সিজেনের স্বাভাবিক প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে জলজ প্রাণী ও মাছের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জলাশয়ের ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনাও জরুরি।
প্রকৃতির সৌন্দর্য যে সব সময় পরিকল্পিত বাগান কিংবা সাজানো উদ্যানে সীমাবদ্ধ নয়, কচুরিপানার এই ফুল তারই প্রমাণ। অবহেলিত জলজ উদ্ভিদটির বুকেও ফুটতে পারে অসংখ্য সুন্দর ফুল। সবুজের বুকে বেগুনি ফুলের এমন সমারোহ যেন প্রকৃতির নীরব বার্তা—সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিতে প্রকৃতির কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না।
"সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশনে আমরা সর্বদা সচেষ্ট।"