ঢাকা , সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রংপুরে চার খুন

সব প্রশ্নের উত্তর চায় পুলিশ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যাকাণ্ড ঘিরে যেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে, সব উত্তর খুঁজতে চান বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার মাহবুবুর রশীদ।

গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকাণ্ড নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, পেশাদারিত্বের সঙ্গে সেগুলোর জবাব খোঁজাই পুলিশের দায়িত্ব। সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষে পুলিশ কাজ করবে।

এদিকে ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের নেতারা।

গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে গিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘ব্যাসিকালি আমি আসলে বুঝতে এসেছি। আপনাদের এটুকু বলতে পারি যে, এটা চাঞ্চল্যকর একটা ঘটনা। এই মামলা নিয়ে সারা দেশে নানারকম কথাবার্তা হচ্ছে। এই প্রতিটা কথাবার্তার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে সেগুলোর যথাযথ জবাব দিয়ে এই মামলাটাকে একটা সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে যাতে একটা সুবিচার হয়, আমরা সে চেষ্টাটাই করছি।’

গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে আলামত ধুয়ে ফেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতোই শুনেছি। আলামত আসলে ধুয়ে ফেলার কিছু নেই। একটি ক্রাইম সিন, সেটা সংরক্ষণ করা আছে। আসলে আমার কাছে সুস্পষ্ট কোনোরকম কোনো তথ্য নেই। আমি এটা দেখব।’

নগরীতে মাদকের বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহ আমি সময় দিয়েছি সবাইকে; আপনারা কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন রংপুর শহরে।

এদিকে চার খুনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে গতকাল বিকেলে রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট।

এতে বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ, সনাতন অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোট, বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট ও বাংলাদেশ ইউনাইটেড সনাতনী অ্যাওয়েকিং এলায়েন্সের ব্যানারে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সংগঠনের নেতারা বলেন, এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়নি। তাই সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।

মানববন্ধনে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সুশান্ত অধিকারী বলেন, দুজন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ দুটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। সেখানে হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলাদা আলাদা বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। একটি মিথ্যা ঢাকতে আরেকটি মিথ্যা বলা যায়; কিন্তু অনেক মিথ্যা ঢাকতে কী করতে পারে?

তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি শুধু দেশে নেই। হত্যাকাণ্ডটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনা হচ্ছে। সুতরাং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি করতে হবে। এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উন্মোচন করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের সমন্বয়ক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য্য বলেন, পুলিশের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে আমাদের মনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, তারা কোনো কিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

হিন্দু নেতাদের সঙ্গে পুলিশ কমিশনারের মতবিনিময়: চার খুন নিয়ে হিন্দু সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন রংপুরের নতুন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ। শুক্রবার বিকেলে মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, পূজা উদযাপন পরিষদ, ইসকনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

এ সময় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেটি মাদক সেবন নিয়ে হয়েছে। এটি সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড নয়। ৫ আগস্টের পর রংপুর অঞ্চলে হিন্দুরা আক্রান্ত হয়নি। হিন্দু ধর্মের লোকদের ভয় পেলে চলবে না, বড় সাহস নিয়ে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারলে অপরাধ কমে যাবে।

মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউই রক্ষা পাবে না। নগরীতে মাদক নির্মূলে এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। এতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে কমিটি গঠন করে জোরালো অবস্থান নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
পাবলিস্ট বাই নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে চার খুন

সব প্রশ্নের উত্তর চায় পুলিশ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

আপডেট সময় : ০৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যাকাণ্ড ঘিরে যেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে, সব উত্তর খুঁজতে চান বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার মাহবুবুর রশীদ।

গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকাণ্ড নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, পেশাদারিত্বের সঙ্গে সেগুলোর জবাব খোঁজাই পুলিশের দায়িত্ব। সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষে পুলিশ কাজ করবে।

এদিকে ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের নেতারা।

গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে গিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘ব্যাসিকালি আমি আসলে বুঝতে এসেছি। আপনাদের এটুকু বলতে পারি যে, এটা চাঞ্চল্যকর একটা ঘটনা। এই মামলা নিয়ে সারা দেশে নানারকম কথাবার্তা হচ্ছে। এই প্রতিটা কথাবার্তার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে সেগুলোর যথাযথ জবাব দিয়ে এই মামলাটাকে একটা সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে যাতে একটা সুবিচার হয়, আমরা সে চেষ্টাটাই করছি।’

গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে আলামত ধুয়ে ফেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতোই শুনেছি। আলামত আসলে ধুয়ে ফেলার কিছু নেই। একটি ক্রাইম সিন, সেটা সংরক্ষণ করা আছে। আসলে আমার কাছে সুস্পষ্ট কোনোরকম কোনো তথ্য নেই। আমি এটা দেখব।’

নগরীতে মাদকের বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহ আমি সময় দিয়েছি সবাইকে; আপনারা কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন রংপুর শহরে।

এদিকে চার খুনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে গতকাল বিকেলে রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট।

এতে বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ, সনাতন অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোট, বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট ও বাংলাদেশ ইউনাইটেড সনাতনী অ্যাওয়েকিং এলায়েন্সের ব্যানারে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সংগঠনের নেতারা বলেন, এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়নি। তাই সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।

মানববন্ধনে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সুশান্ত অধিকারী বলেন, দুজন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ দুটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। সেখানে হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলাদা আলাদা বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। একটি মিথ্যা ঢাকতে আরেকটি মিথ্যা বলা যায়; কিন্তু অনেক মিথ্যা ঢাকতে কী করতে পারে?

তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি শুধু দেশে নেই। হত্যাকাণ্ডটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনা হচ্ছে। সুতরাং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি করতে হবে। এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উন্মোচন করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের সমন্বয়ক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য্য বলেন, পুলিশের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে আমাদের মনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, তারা কোনো কিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

হিন্দু নেতাদের সঙ্গে পুলিশ কমিশনারের মতবিনিময়: চার খুন নিয়ে হিন্দু সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন রংপুরের নতুন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ। শুক্রবার বিকেলে মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, পূজা উদযাপন পরিষদ, ইসকনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

এ সময় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেটি মাদক সেবন নিয়ে হয়েছে। এটি সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড নয়। ৫ আগস্টের পর রংপুর অঞ্চলে হিন্দুরা আক্রান্ত হয়নি। হিন্দু ধর্মের লোকদের ভয় পেলে চলবে না, বড় সাহস নিয়ে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারলে অপরাধ কমে যাবে।

মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউই রক্ষা পাবে না। নগরীতে মাদক নির্মূলে এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। এতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে কমিটি গঠন করে জোরালো অবস্থান নেওয়া হবে।