নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আসছে। আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এসব তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই স্কুল ব্যবস্থায় বছরে প্রায় ৯ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। নতুন নীতির আওতায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট ব্যবহারের সুযোগও সীমিত করা হবে।
স্কুলে এআই ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছেন শিক্ষক ও অভিভাবকদের অনেকে। তাদের আশঙ্কা, এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নিজের চিন্তাভাবনা ও যুক্তি প্রয়োগের বদলে সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার প্রবণতাকে গবেষকেরা ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বা ‘চিন্তার কাছে আত্মসমর্পণ’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। এ ছাড়া এআই ব্যবহারের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নবম শ্রেণি থেকে অর্থাৎ হাইস্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সীমিত পরিসরে এআই ব্যবহার করতে পারবে। তবে প্রযুক্তিটি সম্পর্কে শেখার মতো নির্দিষ্ট কিছু কাজেই এর ব্যবহার অনুমোদিত হবে।
মানসিক সহায়তা দেওয়ার দাবি করা এআই ‘কম্প্যানিয়ন চ্যাটবট’ও নিষিদ্ধ করা হবে। অন্যদিকে শিক্ষকরা পাঠ পরিকল্পনা তৈরি বা বার্তা লেখার মতো কাজে এআই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন বা নম্বর দেওয়ার কাজে এআই ব্যবহার করতে পারবেন না।
শিক্ষা বিভাগ মধ্যম পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষে স্ক্রিন ব্যবহারের সময় ৪৫ মিনিট এবং প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ মিনিটে সীমিত রাখার সুপারিশ করেছে। তবে স্কুলের বাইরে শিক্ষার্থীরা কীভাবে এআই ব্যবহার করছে, তা পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এআই ব্যবহারের বিষয়ে নিউইয়র্কের স্কুল ব্যবস্থায় এর আগেও নীতিমালা নেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে একটি কাঠামো প্রকাশ করা হয়, যেখানে বিভিন্ন কাজে এআই ব্যবহারের অনুমোদন নির্ধারণে ট্রাফিক লাইট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে ওই নীতিমালা নিয়ে অনেক শিক্ষক ও অভিভাবক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের জন্য এআই ব্যবহারের সুযোগ সেখানে অতিরিক্ত বেশি ছিল।
এর পর নিউইয়র্কের স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলস স্বীকার করেন, নীতিমালা নিয়ে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ‘ভুল করেছে’। অভিভাবকদের মতামত পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ নীতিতে তা অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান তিনি।
নতুন নীতিমালা তৈরির জন্য শিক্ষক, নির্বাচিত প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করবে শিক্ষা বিভাগ। আগামী বছরের এপ্রিলে এই কমিটি একটি প্রতিবেদন দেবে, যা নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে এআই ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা তৈরির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

চলনবিলের সময় ডেস্ক 






















